যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন তারেক রহমানের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ৪০ বার
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন তারেক রহমানের

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাজ্যের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন। দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে পাঠানো এই বার্তায় তিনি নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সফল নেতৃত্ব কামনা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও ফলপ্রসূ করার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দনবার্তা পাঠিয়েছেন। এতে বাংলাদেশ সরকার, দেশের জনগণ এবং ব্যক্তিগতভাবে নিজের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।

অভিনন্দনবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অ্যান্ডি বার্নহ্যামের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া যুক্তরাজ্যের জনগণ এবং তার রাজনৈতিক দলের আস্থার প্রতিফলন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবিক মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাজ্য বৈশ্বিক পরিসরে ইতিবাচক অবদান রাখবে বলেও তিনি প্রত্যাশা করেন।

তারেক রহমান বার্তায় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক বহু দশকের। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, কমনওয়েলথের আদর্শ এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের নিবিড় যোগাযোগের ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে। এই সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং বর্তমানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নিরাপত্তা, অভিবাসন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ নানা ক্ষেত্রে কার্যকর সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের শ্রম, মেধা এবং অবদান শুধু যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও সমাজেই নয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব রাখছে। দুই দেশের মধ্যে জনগণের এই সেতুবন্ধ ভবিষ্যতেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন।

অভিনন্দনবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈশ্বিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের যৌথ উদ্যোগের গুরুত্বও তুলে ধরেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, টেকসই উন্নয়ন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির বিকাশে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, বর্তমান বিশ্বে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী এবং বিনিয়োগ অংশীদার। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন, সুশাসন এবং অবকাঠামো উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অভিনন্দনবার্তায় তারেক রহমান অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান তারেক রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং নতুন নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মোচন করবে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উচ্চপর্যায়ের এমন সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন গতি সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বার্তার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সুস্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত কল্যাণ এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সফল দায়িত্ব পালনের জন্য শুভকামনা জানান। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের জনগণের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, নতুন সরকারের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কও নতুন মাত্রা লাভ করবে।

সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের কাছ থেকে তিনি অভিনন্দনবার্তা পাচ্ছেন। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো শুভেচ্ছাবার্তাও দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়; বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, জলবায়ু, নিরাপত্তা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাধ্যমে এটি বহুমাত্রিক রূপ পেয়েছে। ফলে নতুন ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা আরও জোরদার হলে উভয় দেশের জন্যই নতুন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিনন্দনবার্তায় সেই ইতিবাচক প্রত্যাশাই স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত