পার্লামেন্টে মোদিকে আক্রমণ অখিলেশ যাদবের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
  • ১৭ বার
পার্লামেন্টে মোদিকে আক্রমণ অখিলেশ যাদবের

প্রকাশ: ২২ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের রাজধানী দিল্লির রাজপথে শিক্ষাব্যবস্থার চরম অবনতি, ব্যাপক দুর্নীতি এবং বিতর্কিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে ন্যায়সংগত অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের ওপর দিল্লি পুলিশের বর্বর লাঠিচার্জ ও নৃশংস অভিযানের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারতের জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও কড়া ভাষায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান তথা বিরোধী শিবিরের অন্যতম শীর্ষ নেতা অখিলেশ যাদব। বুধবার লোকসভার অধিবেশন চলাকালীন বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই বর্বরোচিত পুলিশি নির্যাতনের সম্পূর্ণ দায় ক্ষমতাসীন সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের দমনপীড়নের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন যে, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী তরুণ সমাজের কণ্ঠস্বরকে অবদমিত করার যত্নে যতই চেষ্টা চালাক না কেন, তাদের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রসমাজ রাজপথ ছাড়বে না।

লোকসভায় নিজের অত্যন্ত তেজস্বী ও ধারালো বক্তব্যে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন যে, দেশের সরকার এবং নীতিনির্ধারকরা যদি সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো কান দিয়ে না শোনেন এবং তাদের প্রতি সুবিচার না করেন, তবে বাধ্য হয়েই সেই তরুণ সমাজ তাদের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নেমে আসবে এবং প্রতিবাদ চলবে। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে অভিযোগ করেন যে, সম্প্রতি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শনকারী আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশ অত্যন্ত নির্মম ও অমানবিক কায়দায় হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবাদী নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা চরম দুর্ব্যবহার এবং অমর্যাদাকর আচরণ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। অখিলেশ যাদব অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন যে, বিক্ষোভরত ছাত্রীদের পরিধেয় পোশাক পর্যন্ত টেনে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্বিচারে পৈশাচিক কায়দায় লাঠিপেটা করা হয়েছে, যার ফলে বহু শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হয়েছেন এবং অনেকের শরীরের বিভিন্ন হাড়গোড় ও হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। দেশের একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কি এ ধরনের পশুবৎ আচরণ করা যায়, নাকি এটি কোনো ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার চিত্র—এই প্রশ্নটি তিনি পুরো জাতির সামনে অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করেন।

দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে অখিলেশ যাদব অত্যন্ত ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন যে, সরকারপ্রধান হিসেবে আপনারা কি তবে আমাদের দেশের মা-বোন ও মেয়েদের কাপড় ছিঁড়ে দেবেন? এভাবেই কি দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার নামে বর্বরোচিত আচরণ করা হবে? একই সঙ্গে তিনি এই সমগ্র লজ্জাজনক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি সংসদের ফ্লোরে দাঁড়িয়ে দেশবাসীর কাছে জবাবদিহি করতে এবং এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করার জন্য জোর দাবি জানান। এর আগের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিরোধী দল কংগ্রেসের উদ্যোগে আয়োজিত এক ঐতিহাসিক ও প্রতিবাদী ধর্না কর্মসূচিতে নিজে সশরীরে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গটি টেনে এনে অখিলেশ যাদব বলেন যে, দেশের প্রধানমন্ত্রী যদি জাতীয় সংসদের ভেতরে দাঁড়িয়ে ছাত্র সমাজের এই সংকট নিয়ে কথা বলতে বা জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান, তবে বাধ্য হয়েই বিরোধী দলের নেতাদেরকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে গিয়ে সরাসরি প্রতিবাদ জানাতে হয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের চরম অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে বলেই আজ রাজপথে নেমে আসতে হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন যে, দেশের প্রধানমন্ত্রী যদি সংসদের বাইরের কোনো জনসভায় বা অন্য কোনো মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমস্যা বা অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন, তবে পবিত্র এই জাতীয় সংসদের ভেতরে দাঁড়িয়ে তিনি কেন এই সুনির্দিষ্ট বিষয়ে একটি বিবৃতি দিতে পারবেন না বা বক্তব্য রাখতে পারবেন না? গত মঙ্গলবার দিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে আয়োজিত উত্তাল বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ দেশের অন্যান্য বিরোধী দলের হেভিওয়েট নেতাদের সঙ্গে তাঁকেও কীভাবে পুলিশ জোরপূর্বক আটক করেছিল, সেই প্রসঙ্গটি সবিস্তারে তুলে ধরেন অখিলেশ যাদব। তিনি বলেন যে, রাহুল গান্ধী এবং তিনি নিজে তো কোনো অপরাধ করতে যাননি, বরং দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই দুরবস্থা এবং তাদের মৌলিক কণ্ঠস্বরটি জাতির সামনে তুলে ধরার দায়িত্ববোধ থেকেই তাঁরা সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী যদি শুরুতেই সংসদে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলের এই যৌক্তিক কথাগুলো শুনতেন এবং আলোচনার সুযোগ দিতেন, তবে পরিস্থিতি এতদূর গড়াত না এবং তাঁদেরকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে গিয়ে ধর্না দিতে হতো না।

এদিকে ভারতীয় সংসদের অভ্যন্তরে বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি জানিয়ে আসছে যে, সংসদের যেকোনো মূল্যে সুনির্দিষ্ট ও ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু হওয়ার আগে বর্তমান কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো নির্বিচার পুলিশি অভিযানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সশরীরে সংসদে দাঁড়িয়ে জবাব দিতে হবে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নিয়ে জানানো হয়েছে যে, সরকার নিট তথা এনইইটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সংসদে যেকোনো ধরনের উন্মুক্ত আলোচনায় বসার জন্য প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু বিরোধী দলগুলো সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের অবাস্তব দাবি তুলে নিয়মিতভাবে সংসদীয় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করছে এবং আলোচনা দীর্ঘসূত্রতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে এই অভিযোগ তুলেছেন দেশটির পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্সমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো এই বর্বর পুলিশি নির্যাতন এবং আগের দিন রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় সংসদ সদস্যদের পুলিশ কর্তৃক জোরপূর্বক আটকের তীব্র ও প্রতিবাদস্বরূপ বুধবার কংগ্রেসসহ অন্যান্য সমস্ত বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে সম্পূর্ণ কালো পোশাক পরিধান করে জাতীয় সংসদে উপস্থিত হন, যা সংসদ চত্বরে এক দারুণ রাজনৈতিক উত্তাপের সৃষ্টি করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত