দিল্লির বিক্ষোভে আহত তরুণী, মুখোমুখি সিজেপি-পুলিশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৪ বার
দিল্লির বিক্ষোভে আহত তরুণী, মুখোমুখি সিজেপি-পুলিশ

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘর্ষ ও পুলিশি লাঠিচার্জের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ দাবি করেছেন, পুলিশের লাঠিচার্জে আহত এক তরুণী দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে দিল্লি পুলিশ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়। পুলিশ বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনেক তথ্য বিভ্রান্তিকর এবং এখন পর্যন্ত গুরুতর আহত হওয়ার দাবির পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় অভিজিৎ দীপ আন্দোলনে আহত বিক্ষোভকারীদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তাদের যথাযথভাবে সুরক্ষা দিতে না পারার জন্য ক্ষমা চান। তিনি লেখেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষদের আরও ভালোভাবে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য তাঁর আরও বেশি চেষ্টা করা উচিত ছিল। আহতদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন, দল তাদের পাশে থাকবে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

এর আগে দিল্লির আরএমএল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিক্ষোভকারীদের দেখতে গিয়ে অভিজিৎ দীপ দাবি করেন, পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে এক তরুণী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি আরও অভিযোগ করেন, লাঠিচার্জে বহু শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণী আহত হয়েছেন। আহতদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করে তাদের অবস্থা জানার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

তবে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর বেশ কয়েকজন আহত বিক্ষোভকারী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁদের মধ্যে কেউ সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন—এমন তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের চিকিৎসা চলছে বলে জানালেও কারও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এদিকে দিল্লি পুলিশ শুরু থেকেই সিজেপির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। পুলিশের দাবি, আন্দোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, ১২ বছর বয়সী গীতাঞ্জলি নামে এক কিশোরীকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, তাঁর চুল টেনে ধরা হয়েছে কিংবা কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী গুরুতর মাথায় আঘাত পেয়েছেন—এ ধরনের দাবির সত্যতা তারা পায়নি। পুলিশ জনগণকে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে যাচাই করা তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে।

দিল্লি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবারের বিক্ষোভ চলাকালে পরিস্থিতি একপর্যায়ে সহিংস হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ১১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বিভিন্ন স্থানে শক্তি প্রয়োগ করতে হয় এবং সংঘর্ষের পর প্রায় ৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে সিজেপি দাবি করছে, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বলপ্রয়োগ করেছে পুলিশ। দলটির অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে অতিরিক্ত লাঠিচার্জ ও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যার ফলে নারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ অংশগ্রহণকারীরাও আহত হয়েছেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে কথিত নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সিজেপি ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির ডাক দেয়। কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীর সংসদ মার্গ এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক বিতর্কেরও কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। একদিকে বিরোধী পক্ষ পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। ফলে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, যেকোনো বিক্ষোভ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংযম প্রদর্শন যেমন জরুরি, তেমনি আন্দোলনকারীদেরও শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখা প্রয়োজন। কোনো ধরনের সহিংসতা বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

বর্তমানে দিল্লির পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা এবং আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে সিজেপি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, আর দিল্লি পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে। ফলে আন্দোলন, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সরকারি অবস্থানের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনা আগামী দিনেও ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত