কমিশন বাড়ানোর দাবিতে সিএনজি স্টেশনে ধর্মঘটের ঘোষণা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৫ বার
কমিশন বাড়ানোর দাবিতে সিএনজি স্টেশনে ধর্মঘটের ঘোষণা

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশব্যাপী সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে নতুন করে অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিক্রয় কমিশন বা মার্জিন বৃদ্ধিসহ চার দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকরা। দাবি পূরণে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে প্রথমে প্রতীকী ধর্মঘট এবং পরে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের জন্য সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রী, পরিবহন খাত এবং সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিজয়নগরে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের নেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কমিশন কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় স্টেশন পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে বলেন, দাবি আদায়ে আগামী ৩০ জুলাই সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সারা দেশে এক দিনের প্রতীকী ধর্মঘট পালন করা হবে। এরপরও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া না এলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের জন্য সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্ত, মহাসচিব ফারহান নূরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বলেন, গত প্রায় ১১ বছর ধরে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকাতেই স্থির রয়েছে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার, ব্যাংক গ্যারান্টি কমিশন, ঋণের সুদ, বিদ্যুৎ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়সহ প্রায় সব ধরনের পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে আগের কমিশনে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া এখন আর সম্ভব হচ্ছে না।

তাঁদের দাবি, বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে অন্তত ১৩ দশমিক ৯৬ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হলে কমিশনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে আনুপাতিক হারে সমন্বয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে প্রতিবার আলাদা আন্দোলনের প্রয়োজন না হয়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে পুরোনো গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত জামানত আদায়ের প্রচলিত ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ভূমি ব্যবহার, সংযোগ সড়কের ইজারা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের লাইসেন্স ফি এবং নবায়ন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনতে হবে। এসব ব্যয়ও বর্তমানে স্টেশন পরিচালনার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে বলে দাবি মালিকদের।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে কমিশনের কোনো সমন্বয় না হওয়ায় অনেক স্টেশন লোকসানে পরিচালিত হচ্ছে। অনেক মালিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ, কর্মচারীদের বেতন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে অনেক স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে গেলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে গণপরিবহন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং পণ্য পরিবহনে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে প্রতিদিন লাখো মানুষ সিএনজিচালিত যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দীর্ঘমেয়াদি ধর্মঘট বাস্তবায়িত হলে যাত্রী দুর্ভোগ, পরিবহন সংকট এবং ভাড়া বৃদ্ধির মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কমিশন ও পরিচালন ব্যয়ের বিষয়টি সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। একদিকে ব্যবসায়ীদের ন্যায্য দাবি বিবেচনা করতে হবে, অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তার স্বার্থও নিশ্চিত রাখতে হবে। তাই আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানে পৌঁছানোই সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই সরকার ও সিএনজি স্টেশন মালিকদের মধ্যে সমঝোতা হবে এবং সম্ভাব্য ধর্মঘট এড়ানো সম্ভব হবে। কারণ সিএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে দেশের পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বর্তমানে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুলাই প্রতীকী ধর্মঘটের পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপরও দাবি পূরণ না হলে ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশব্যাপী সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। এখন সরকারের পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, পরিবহন খাতের অংশীজন এবং সাধারণ ভোক্তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত