মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে যা জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ২৯ বার
মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে যা জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

প্রকাশ:  ২১ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে চলমান আলোচনা ও রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনার মধ্যে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, সরকারের মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য পূরণে যদি প্রধানমন্ত্রী মনে করেন কোনো মন্ত্রী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রত্যাশিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী দপ্তর পুনর্বণ্টন কিংবা নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের ১৮০ দিন পূর্তিকে কেন্দ্র করে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতে পারে—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পাওয়ায় এ বিষয়ে সাংবাদিকরা সরকারের অবস্থান জানতে চান। জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, মন্ত্রিসভার সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার এবং তিনি প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা এবং উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছেন দেশের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার উদ্দেশ্যে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কর্মসম্পাদন নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়টিও সরকারের স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। তিনি ব্যক্তিগত আলাপচারিতার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় জনগণের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দেন। যদি তিনি উপলব্ধি করেন কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন, তাহলে তিনি সেই সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করবেন না।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন হবে—এমন কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত হয়নি। এটি নির্ভর করবে সরকারের মূল্যায়ন, প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর। ফলে নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে রদবদলের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলার সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রী, ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান ও রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা পরিবর্তনের একক ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরা হয়। জাহেদ উর রহমান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে কর্মদক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

এ সময় তিনি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথাও জানান। সাইবার বুলিং, অপতথ্য ও ডিজিটাল মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মোকাবিলায় সরকার একটি বিশেষ আইনজীবী প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার, ভুয়া তথ্য ও মানহানিকর কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় আইনি সহায়তা আরও কার্যকর করতে এ প্যানেল কাজ করবে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এ কারণে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে বিশেষজ্ঞ আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সাম্প্রতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, প্রশাসনিক উদ্যোগ এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য তুলে ধরা হয়। এ সময় তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের কর্মক্ষমতা আরও বাড়ানো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে ফলপ্রসূ রাখতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশেই প্রয়োজন অনুযায়ী মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা হয়, যাতে সরকারের নীতি বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হয়। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারও একই ধরনের প্রশাসনিক নমনীয়তা বজায় রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদলের বিষয়ে সরকার এখনই কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেনি। তবে জনগণের কল্যাণ, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং দায়িত্ব পালনের সক্ষমতার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় দপ্তর পুনর্বণ্টন বা নতুন দায়িত্ব প্রদান করতে পারেন। একই সঙ্গে সাইবার বুলিং ও অপতথ্য মোকাবিলায় নতুন আইনজীবী প্যানেল গঠনের উদ্যোগ সরকারের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকেও আরও জোরদার করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত