১০০ কোটি টাকায় বাংলো কিনলেন জন আব্রাহাম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৫ বার
১০০ কোটি টাকায় বাংলো কিনলেন জন আব্রাহাম

প্রকাশ: ২১ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বলিউড পাড়ার রঙিন দুনিয়ায় বরাবরই নিজের ব্যতিক্রমী ফিটনেস, মারকাটারি অ্যাকশন এবং অভিনব জীবনযাপনের জন্য শীর্ষস্থানীয় তারকাদের তালিকায় প্রথম সারিতে নিজের নাম লিখিয়ে রেখেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জন আব্রাহাম। রূপালি পর্দার বাইরে রিয়েল এস্টেট বা আবাসন খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও তিনি যে কতটা দূরদর্শী এবং চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নিতে ভালোবাসেন, তার আরেকটি অভাবনীয় ও অবিশ্বাস্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এই অভিনেতা। ভারতের বিনোদন জগতের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত মুম্বাই শহরের অত্যন্ত অভিজাত, গ্ল্যামারাস এবং ভিভিআইপি এলাকা হিসেবে বিশ্বজুড়ে খ্যাত বান্দ্রায় প্রায় চৌুরাশি কোটি ভারতীয় রুপি ব্যয় করে একটি দুর্দান্ত নতুন বাংলো ক্রয় করেছেন জন আব্রাহাম। বর্তমান মুদ্রা বিনিময়ের হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এই বিশাল অংকের পরিমাণ একশ কোটি টাকারও অনেক বেশি ছাড়িয়ে গেছে, যা বিনোদন জগতের অন্দরমহলে এবং সাধারণ অনুরাগীদের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এবং বড় অংকের বিনিয়োগের এই সংবাদটি প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় রিয়েল এস্টেট বাজারের সম্পত্তি নিবন্ধন নথি বা প্রপার্টি রেজিস্ট্রেশন ডকুমেন্টস থেকে প্রাপ্ত অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য তথ্যের মাধ্যমে জানা গেছে যে, চলতি বছরের জুলাই মাসের চৌদ্দ তারিখে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও আইনানুগ প্রক্রিয়া মেনে এই মূল্যবান সম্পত্তিটির মালিকানা হস্তান্তর এবং লেনদেনটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়েছে। মুম্বাইয়ের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বান্দ্রা পশ্চিম অঞ্চলের সেন্ট মার্টিন রোডের মতো একটি প্রাণবন্ত ও অভিজাত লোকেশনে অবস্থিত এই ফ্রিহোল্ড সম্পত্তিটির মূল প্লটের মোট আয়তন প্রায় এক হাজার সতেরো দশমিক ষাট বর্গমিটার বা এর কাছাকাছি। বিশাল এই অভিজাত ভূখণ্ডটির ওপর অত্যন্ত নান্দনিক ও রাজকীয় ঢঙে নির্মিত একটি মূল বাংলোর পাশাপাশি একটি সুদৃশ্য আউটহাউস বা সহযোগী ভবনও রয়েছে, যা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং প্রকৃতির নিখুঁত এক অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। সেলিব্রিটিদের জীবনযাপনের উপযোগী সকল ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই বিশাল ও বিলাসবহুল সম্পত্তিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করার সময় অভিনেতা জন আব্রাহাম সরকারের রাজকোষে শুধুমাত্র স্ট্যাম্প ডিউটি বা নিবন্ধনের কর বাবদ প্রায় পাঁচ কোটি চার লাখ ভারতীয় রুপি নগদ প্রদান করেছেন। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ কেবল কর বা স্ট্যাম্প ডিউটি হিসেবে প্রদান করার এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে যে ভারতীয় রিয়েল এস্টেট বাজারের শীর্ষস্থানীয় এবং ধনী বিনিয়োগকারীদের তালিকায় জন আব্রাহাম কতটা শক্ত ও মজবুত একটি অবস্থান দখল করে আছেন।

রিয়েল এস্টেট বা আবাসন খাতে বড় অংকের মূলধন বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে জন আব্রাহামের এটিই প্রথম কোনো অবিশ্বাস্য কীর্তি নয়, এর আগেও তিনি মুম্বাইয়ের বিভিন্ন নামিদামি ও অভিজাত এলাকায় একাধিক চোখ ধাঁধানো বিনিয়োগ সম্পন্ন করেছেন। এর আগে গত বছরের অর্থাৎ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি মুম্বাইয়েরই আরেকটি অত্যন্ত পশ ও অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত খার অঞ্চলে প্রায় সত্তর কোটি তিরাশি লাখ রুপি খরচ করে অত্যন্ত শৌখিন আরেকটি বড় বাংলো ক্রয় করেছিলেন। সেই সম্পত্তির নিবন্ধনের সময়ও তাকে সরকারের কোষাগারে অতিরিক্ত চার কোটি চব্বিশ লাখ টাকা কেবল স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছিল। একের পর এক এই ধরনের মেগা প্রপার্টি বা বাংলো ক্রয়ের মাধ্যমে জন আব্রাহাম মূলত তার সুদীর্ঘ সফল অভিনয় জীবনের উপার্জিত অর্থ অত্যন্ত লাভজনক এবং নিরাপদ খাতে লগ্নি করার এক অনন্য দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। চলচ্চিত্র জগতের গ্ল্যামার এবং বাস্তব জীবনের অর্থনৈতিক বুদ্ধিমত্তার এমন নিখুঁত মেলবন্ধন খুব কম অভিনেতার মাঝেই দেখতে পাওয়া যায়, যা তাকে অন্যান্য সাধারণ তারকাদের তুলনায় অনেক বেশি স্বতন্ত্র ও সফল একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ব্যক্তিগত জীবনের এই বিশাল ও সফল অর্থনৈতিক সাফল্যের খবরের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্র বা পেশাগত জীবনেও জন আব্রাহাম বর্তমান সময়ে দারুণ এক ব্যস্ত ও চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করছেন। চলচ্চিত্রের পর্দায় তার পরবর্তী উপস্থিতি কেমন হতে চলেছে, তা নিয়ে ভক্তদের জল্পনা-কল্পনার অন্ত নেই এবং তিনি বর্তমানে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি বায়োপিক বা জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রের অত্যন্ত নিবিড় ও কঠোর প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। বলিউডের অন্যতম সফল ও নামী পরিচালক রোহিত শেঠির পরিচালনায় নির্মিত হতে যাওয়া এই বিশেষ চলচ্চিত্রটি মূলত ভারতের মুম্বাই পুলিশের সাবেক এবং অত্যন্ত লিজেন্ডারি পুলিশ কমিশনার রাকেশ মারিয়ার বহুল আলোচিত এবং সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত স্মৃতিকথা ‘লেট মি সে ইট নাউ’ এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হচ্ছে। ভারতের অপরাধ জগতের ইতিহাসের অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে পরিচিত ১৯৯৩ সালের ভয়াবহ মুম্বাই ধারাবাহিক বোমা হামলা এবং পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ২৬/১১ এর পৈশাচিক সন্ত্রাসী হামলার মতো বড় বড় অপরাধের ঘটনাগুলোর পেছনের রহস্য উদঘাটন এবং জটিল তদন্ত প্রক্রিয়ায় রাকেশ মারিয়া যে অত্যন্ত সাহসী ও অনন্য ভূমিকা পালন করেছিলেন, তা ফুটিয়ে তোলা হবে এই চলচ্চিত্রে।

বাস্তব জীবনের এত বড় মাপের এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন আইকনিক পুলিশ ব্যক্তিত্বের চরিত্রের মতো একটি জটিল চরিত্রে রূপদান করা প্রসঙ্গে জন আব্রাহাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, কেবল রাকেশ মারিয়ার বাহ্যিক অবয়ব, চালচলন বা শারীরিক অঙ্গভঙ্গি পর্দায় অনুকরণ করাই তার মূল উদ্দেশ্য নয়। বরং একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার মানসিক দৃঢ়তা, গভীর অন্তর্দৃষ্টি, কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার অদম্য মানসিকতা এবং দেশের সুরক্ষায় তার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রচণ্ড পেশাগত কাজের চাপ ও মানসিক দ্বন্দ্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করা এবং তা ফুটিয়ে তোলাই তার প্রধান লক্ষ্য। ভারতীয় রাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত এমন একজন ঐতিহাসিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের চরিত্র রূপায়ণ করাকে তিনি তার অভিনয় জীবনের অন্যতম বড় একটি চ্যালেঞ্জ এবং বিশাল দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছেন। একদিকে কোটি কোটি টাকার নতুন বাংলোর মালিকানা অর্জন করে ব্যক্তিগত জীবনের সফলতার মুকুটে নতুন এক ডায়মন্ড যুক্ত করা এবং অন্যদিকে রূপালী পর্দায় দেশের এক বীর পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্য দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করা—সব মিলিয়ে জন আব্রাহাম এই মুহূর্তে তার জীবনের অত্যন্ত রোমাঞ্চকর ও স্বর্ণালী একটি সময় পার করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত