জুলাই পদযাত্রায় শেখ হাসিনাকে নিয়ে তুষারের মন্তব্য

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৩ বার
জুলাই পদযাত্রায় শেখ হাসিনাকে নিয়ে তুষারের মন্তব্য

প্রকাশ: ২১ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এবং ছাত্র-জনতার রক্তে লেখা জুলাই অভ্যুত্থানের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন যখন নানা সমীকরণ ও নতুন নতুন মতবিরোধে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে অত্যন্ত বিস্ফোরক ও কঠোর এক মন্তব্য করে পুরো দেশকে চমকে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির বা এনসিপির অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার। তিনি দ্ব্যর্থহীন ও অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লাশ কখনোই এই স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের মাটিতে কোনো ধরনের জানাজা বা দাফনের পবিত্র সুযোগ লাভ করবে না। বিগত ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার চরম নিপীড়ন, স্বৈরাচারী কায়داয় দেশ পরিচালনা এবং ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে চালিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এই তরুণ রাজনৈতিক নেতা বলেন যে, শেখ হাসিনা আর কখনোই এই বাংলায় পদার্পণ করতে পারবেন না এবং তাকে ভারতের রাজধানী দিল্লির কোনো এক অন্ধকার প্রকোষ্ঠেই তার জীবনের করুণ পরিণতি বরণ করতে হবে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনপদ পিরোজপুর জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে আয়োজিত এক বিশাল, সুশৃঙ্খল ও জনাকীর্ণ ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও পথসভায় বিশেষ অতিথির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী আসন থেকে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই ঘোষণা দেন, যা মুহূর্তের মধ্যে জাতীয় গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক অভূতপূর্ব আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সোমবার বিকালের দিকে পিরোজপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের ঐতিহাসিক চত্বরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্থানীয় শাখা ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে এই ‘জুলাই পদযাত্রা’ এবং পরবর্তী পথসভার আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, ছাত্র প্রতিনিধি ও সংগ্রামী জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে পুরো এলাকাকে এক জনসমুদ্রে পরিণত করেন। শহীদদের পবিত্র আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে এবং তাদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে সরোয়ার তুষার তার বক্তৃতায় আরও বলেন যে, একজন মুসলমানের সন্তান হিসেবে এবং এ দেশের আপামর জনসাধারণের ওপর সীমাহীন অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়ে বিদেশে পালিয়ে গিয়ে করুণ ও নিঃসঙ্গ প্রবাস জীবন বরণ করার চেয়ে বড় কোনো কলঙ্কজনক অধ্যায় মানবজীবনে আর কিছু হতে পারে না। তিনি অত্যন্ত শক্ত ভাষায় দাবি করেন যে, ইতিহাসের খলনায়কদের শেষ পরিণতি সব সময়ই অত্যন্ত ভয়াবহ ও লজ্জাজনক হয়ে থাকে এবং ভারত সরকারও শেষ পর্যন্ত এই স্বৈরশাসককে চিরকাল টিকিয়ে রাখতে পারবে না, বরং দিল্লির বুকেই তাদের চরম রাজনৈতিক ও শারীরিক পতন ঘটে যাবে। তার এই অত্যন্ত আবেগময়, ঝাঁঝালো ও তেজোদীপ্ত বক্তব্য উপস্থিত হাজার হাজার জনতা মুহুর্মুহু করতালিবাদন ও গগনবিদারী স্লোগানের মধ্য দিয়ে সমর্থন জানান, যা গোটা পিরোজপুর শহরজুড়ে এক অভূতপূর্ব ও রোমাঞ্চকর রাজনৈতিক উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান এবং বিশেষ করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন কিংবা নতুন সরকারের নীতিনির্ধারকদের আচার-আচরণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সরোয়ার তুষার বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাম্প্রতিক একটি রাজনৈতিক মন্তব্যকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন যে, বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই মন্ত্রী সাহেব অত্যন্ত জোরালো ও উচ্চকিত কণ্ঠে দাবি করেছিলেন যে ঐতিহাসিক গণভোটের ধারণাটি নাকি তাদের দলেরই সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক আবিষ্কার। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপ ও অবাক করার বিষয় হলো যে, সেই গণভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সাধারণ আপামর জনসাধারণের মূল্যবান ভোট নিজেদের ঝুলিতে ভরে ক্ষমতা দখল করার পর এখন তারা সম্পূর্ণ ইউটার্ন নিয়ে উল্টো সুরে কথা বলতে শুরু করেছেন এবং গণভোটের ধারণাকে পুরোপুরি অবৈধ, অবাস্তব ও অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করছেন। সরকারের শীর্ষপর্যায়ের এই ধরনের চরম দ্বিমুখী নীতি ও রাজনৈতিক প্রতারণার তীব্র সমালোচনা করে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে, যদি গণভোট বিষয়টি সত্যিই অবৈধ হয়েই থাকে, তবে বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটির পেছনের সামগ্রিক রাজনৈতিক গঠন এবং তাদের বর্তমান রাজনৈতিক অস্তিত্বই সম্পূর্ণ অবৈধ বলে গণ্য করা উচিত। যদি গণভোটকে অবৈধ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়, তবে আপনারা যে বিশেষ উপায়ে সরকার গঠন করে আজ ক্ষমতার মসনদে বসে আছেন, সেই সরকার গঠন প্রক্রিয়াও পুরোপুরি অবৈধ বলে গণ্য হবে। তাই জনগণের সঙ্গে এই ধরনের তামাশা এবং লুকোচুরি খেলা বন্ধ করে অবিলম্বে গণভোটের পবিত্র রায় এবং জুলাইয়ের মূল জনআকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত এ দেশের সংগ্রামী ও রক্তস্নাত জনগণ কোনো অবস্থাতেই বর্তমান সরকারকে ছাড় দেবে না এবং রাজপথ ছেড়ে ঘরে ফিরে যাবে না।

সরকার দলীয় নীতিনির্ধারকদের চরম ভণ্ডামি ও দ্বিমুখী আচরণের কারণে দেশের সাধারণ মানুষ বর্তমান প্রশাসনকে একটি আদ্যোপান্ত ভণ্ড ও প্রতারক সরকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে মন্তব্য করেন এনসিপির এই শীর্ষস্থানীয় নেতা। তিনি অভিযোগ করেন যে, শহীদদের তাজা রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করে যারা যেকোনো উপায়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার রঙিন স্বপ্ন দেখছেন, তাদের সেই স্বপ্ন এ দেশের সচেতন ছাত্র-জনতা কস্মিনকালেও পূরণ হতে দেবে না। ঐতিহাসিক জুলাই সনদ এবং গণঅভ্যুত্থানের মূল স্পিরিট ও চেতনাকে পাশ কাটিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরহস্তে প্রতিহত করা হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। পিরোজপুরের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাণবন্ত পথসভায় শুধুমাত্র সরোয়ার তুষারই একা বক্তব্য রাখেননি, বরং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা নিয়ে আরও অনেক কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত জোরালো ও দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। এই বিশাল রাজনৈতিক সমাবেশে বিশেষ আকর্ষণ ও প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের অত্যন্ত জনপ্রিয়, গতিশীল ও সংগ্রামী মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, যার উপস্থিতি উপস্থিত জনতার মাঝে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হাসান জুনায়েদ এবং কেন্দ্রীয় কমিটির অত্যন্ত পরিচিত মুখ ও তরুণ নেতা ড. শামীম হামিদী। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে পিরোজপুর জেলা এনসিপির সভাপতি হুমায়ুন কবির অত্যন্ত দক্ষ ও দূরদর্শী সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং জেলা সদস্যসচিব মাইনুল আহসান মুন্নার সাবলীল, প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় সঞ্চালনায় এই ঐতিহাসিক পথসভাটি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ও জাতীয় গণমাধ্যমে দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।

জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে উপস্থিত সাধারণ জনতার মাঝে বিপ্লব ও পরিবর্তনের যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য করা গেছে, তা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বারবার স্মরণ করিয়ে দেন যে, যে আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের জন্য হাজার হাজার তরুণ রাজপথে রক্ত ঢেলে দিয়েছে, সেই স্বপ্নের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস বা বিশ্বাসঘাতকতা দেশের জনগণ বরদাশত করবে না। ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ের এই দীর্ঘ ও বন্ধুর পথে প্রতিটি নাগরিককে সদা জাগ্রত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন যে, স্বৈরাচারের দোসরদের যেকোনো ধরনের গোপন ষড়যন্ত্র ও পুনর্বাসনের অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। পিরোজপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের এই চত্বর থেকে উচ্চারিত প্রতিটি স্লোগান এবং কঠোর হুশিয়ারি দেশের অন্যান্য জেলা ও মহানগরেও গভীর প্রভাব ফেলবে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহল দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করছে। সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি জনগণের এই সরাসরি বার্তা ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিশেষে, সরোয়ার তুষারের এই বিস্ফোরক ও আবেগঘন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। একপক্ষ যেমন তার এই বক্তব্যকে জনগণের ক্ষোভের বাস্তব প্রতিফলন বলে অভিহিত করছেন, অন্যপক্ষ আবার এর তীব্র সমালোচনা করে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখার তাগিদ দিচ্ছেন। তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে পিরোজপুরের এই জুলাই পদযাত্রা ও পথসভা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস এবং এর শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি কোনোভাবেই মুছে ফেলার নয়। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার, ভোটাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার এই লড়াইয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতৃবৃন্দের ধারাবাহিক এই কর্মসূচি এবং কঠোর অবস্থান আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন ও শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তির উত্থানকে ত্বরান্বিত করছে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক সমীকরণকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত