বিদায়ী নৌপ্রধানের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ৩২ বার
বিদায়ী নৌপ্রধানের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন শেষে বিদায়ের প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎ শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বিদায়ী সৌজন্য বিনিময়ই নয়, বরং নৌবাহিনীর সাম্প্রতিক অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনারও উপলক্ষ হয়ে ওঠে। দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, বাহিনীর উন্নয়ন কার্যক্রম এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পায়।

বঙ্গভবন সূত্রে জানা যায়, সাক্ষাৎকালে অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান দায়িত্ব পালনের পুরো সময়জুড়ে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা ও উৎসাহ নৌবাহিনীর পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়নের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, আধুনিক যুদ্ধজাহাজ সংযোজন, প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিদায়ী নৌপ্রধানের দায়িত্ব পালনকে প্রশংসার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাহিনীর সক্ষমতা তুলে ধরতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সফলভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রপতি তাকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যৎ জীবনেও দেশের প্রতি তার অবদান অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্রসীমা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কারণে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক নৌবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়নের যে ধারা গত কয়েক বছরে এগিয়েছে, তা ভবিষ্যতেও একইভাবে অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সমুদ্রসম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় নৌবাহিনী আগের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। যুদ্ধজাহাজ, টহলজাহাজ, সাবমেরিন সক্ষমতা, নৌবিমান, উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে বাহিনীর কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন, আন্তর্জাতিক যৌথ মহড়া এবং আঞ্চলিক সামুদ্রিক সহযোগিতায়ও বাংলাদেশ নৌবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কৌশলগত গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো এখন জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নীল অর্থনীতি, সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি দক্ষ ও আধুনিক নৌবাহিনীর বিকল্প নেই। ফলে বাহিনীর ধারাবাহিক উন্নয়ন দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।

অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান তার দায়িত্বকালে নৌবাহিনীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মানবিক সহায়তা এবং জাতীয় বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতেও নৌবাহিনীর কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি ও বিদায়ী নৌপ্রধানের এই সাক্ষাৎ দেশের সামরিক নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দায়িত্ব পরিবর্তনের আগে বিদায়ী প্রধানের সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহ্যগত প্রক্রিয়ার অংশ, যেখানে দায়িত্ব পালনকালীন অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বাহিনীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ দেশের সার্বিক নিরাপত্তা, পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গঠন এবং নৌবাহিনীর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান আগামী ২৩ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নৌবাহিনী প্রধানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। দায়িত্ব হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, বিদায়ী নৌপ্রধানের সময়কালে শুরু হওয়া আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম নতুন নেতৃত্বের অধীনেও অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর বাহিনী হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত