তেলাপোকা পার্টির আন্দোলন: প্রধান বিচারপতির কড়া বার্তা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
  • ১৭ বার
তেলাপোকা পার্টির আন্দোলন: প্রধান বিচারপতির কড়া বার্তা

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থার চরম অবনতি, লাগামহীন বেকারত্ব এবং বহুল আলোচিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল সব জাতীয় সংকটের সুরাহা চেয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে রাজপথ কাঁপিয়ে চলা আন্দোলনকারীদের ওপর সাম্প্রতিক বর্বরোচিত পুলিশি লাঠিচার্জের ঘটনার দ্রুত বিচার ও জরুরি শুনানির যে জোরালো আবেদন সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা হয়েছিল, দেশের সর্বোচ্চ আদালত কোনো ধরনের রাখঢাক না রেখেই তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। বুধবার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মামলাটি ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চে জরুরি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করে শুনানির তীব্র আবেদন জানান জনৈক আইনজীবী, যিনি মূলত আন্দোলনরত সাধারণ যুবসমাজ ও বিক্ষুব্ধ জনগণের আইনি লড়াইয়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু বিচারিক এজলাসে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই ভারতের প্রধান বিচারপতি অত্যন্ত কঠোর ও অনমনীয় মনোভাব প্রকাশ করে সাফ জানিয়ে দেন যে, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের মহামূল্যবান সময় নষ্ট করার বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই এবং আইনজীবী যেন অবিলম্বে নিজের মূল্যবান সময়ও এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় কাজে অপব্যয় না করেন।

আদালতের নথিপত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, শুনানির শুরুতে ওই আইনজীবী অত্যন্ত আবেগঘন ও জোরালো কণ্ঠে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন যে, দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি এই সাধারণ শিক্ষার্থীরা আজ সম্পূর্ণ জনস্বার্থেই রাজপথে নেমে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে বাধ্য হয়েছেন। নিট পরীক্ষার মতো সর্বভারতীয় মেধা যাচাইয়ের বিশাল দুর্নীতি এবং প্রশ্নফাঁসের মতো ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে যখন দেশের লাখ লাখ তরুণ ও চাকরিপ্রার্থী শিক্ষার্থী জীবনের চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচার চাইছে, ঠিক তখন তাদের ওপর রাষ্ট্রের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তথা পুলিশের এমন অমানবিক নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আইনজীবীর এই বক্তব্যের মাঝপথেই তাকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও কঠোরভাবে থামিয়ে দিয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ব্যঙ্গাত্মক ও দৃঢ় ভঙ্গিতে বলেন, ‘থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ’। প্রধান বিচারপতির এই আকস্মিক ও অনমনীয় বাচনভঙ্গিতে এজলাসের ভেতরে এক মুহূর্তের জন্য যেন এক অদ্ভুত ও থমথমে নীরবতা নেমে আসে, যা উপস্থিত আইনজীবী সমাজকেও কিছুটা হলেও হতবাক করে দেয়।

তৎক্ষণাৎ দমে না গিয়ে ওই আইনজীবী এরপর আদালতের সহানুভূতি অর্জনের উদ্দেশ্যে পুলিশের পৈশাচিক নির্যাতনের অকাট্য ও চাক্ষুষ প্রমাণ হিসেবে কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের সামনে উপস্থাপন করার জোর চেষ্টা চালান এবং আদালতের স্ক্রিনে বা ট্যাবলেটে সেই ভিডিওগুলো প্রদর্শনের অনুমতি চান। কিন্তু ভিডিওর নাম শুনেই রীতিমতো বিরক্তি প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়ে দেন যে, আদালত কক্ষের বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য এ ধরনের ভিডিও ক্লিপ দেখার মতো পর্যাপ্ত সময় তাদের হাতে একেবারেই নেই এবং দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয় কোনো অবস্থাতেই এজলাসে বসে ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়ার এই জাতীয় কোনো ভিডিও দেখবে না। প্রধান বিচারপতির এই দ্ব্যর্থহীন ও কঠোর অবস্থানের ফলে আন্দোলনকারীদের আইনি লড়াইয়ের পথ যে আপাতত সুপ্রিম কোর্টের আঙিনায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেল, তা নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের মনে আর বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ রইল না। এর আগে গত মঙ্গলবার ঠিক একই ইস্যুতে দিল্লি হাইকোর্টও পুলিশের এই নগ্ন ও নৃশংস নির্যাতনের বিরুদ্ধে দায়ের করা কোনো ধরনের জরুরি শুনানির আবেদন গ্রহণ করতে পরিষ্কারভাবে অস্বীকার করেছিল। দিল্লি হাইকোর্টের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ ছিল যে, এহেন রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা জনিত বিশৃঙ্খলার মারপ্যাঁচ এবং সংঘাতের মধ্যে যেন কোনোভাবেই দেশের আদালতকে জড়িয়ে ফেলা না হয়, কারণ রাজপথের রাজনৈতিক কর্মসূচি বা আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের ভার সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনের ওপর ন্যস্ত থাকা উচিত।

শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার, শিক্ষাঙ্গনে বিরাজমান চরম নৈরাজ্য দূরীকরণ এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগের নৈতিক দাবিতে গত বেশ কিছুদিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরের খোলা আকাশের নিচে অবস্থান ধর্মঘট ও প্রবল বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন ও ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এবং তাদের অদম্য সমর্থক ও সমমনা বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে এই নবগঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামটি আজ এক নতুন ইতিহাস ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যার নেপথ্যে রয়েছে খোদ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মুখ থেকে অতীতে উচ্চারিত অত্যন্ত কড়া ও বিতর্কিত একটি মন্তব্য। কিছুদিন আগে দেশের ক্রমবর্ধমান ও বিশাল বেকার যুব সম্প্রদায়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বা তাদের বর্তমান অসহায় ও প্রান্তিক অবস্থাকে ব্যঙ্গ করে প্রধান বিচারপতি তাদের ‘তেলাপোকা’ বা করোজ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। দেশের লাখ লাখ কর্মহীন, হতাশাগ্রস্ত ও ডিগ্রিধারী তরুণ সমাজ প্রধান বিচারপতির এই অবমূল্যায়নকারী ও অপমানজনক শব্দটিকে তীব্র প্রতিবাদের হাতিয়ারে পরিণত করে এবং নিজেদের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গঠন করে নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।

আজকের এই নজিরবিহীন ঘটনার পর দেশের সচেতন নাগরিক সমাজের বড় একটি অংশ মনে করছে যে, বিচার বিভাগের এই অনীহা ও কঠোর মনোভাব দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এক বিরাট বড় আঘাত হিসেবেই প্রতিভাত হচ্ছে। দিনের পর দিন দেশের শিক্ষাব্যবস্থার অবক্ষয়, কোটি কোটি বেকারের হাহাকার এবং দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ যখন পেটের দায়ে এবং ভবিষ্যতের টানে রাজপথে নেমে আসে, তখন রাষ্ট্রযন্ত্রের পুলিশ বাহিনী যেভাবে তাদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ ও পৈশাচিক নির্যাতন চালায়, তার সঠিক বিচার পাওয়ার শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে আদালত যদি এমন রক্ষণাত্মক ও নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করে, তবে সাধারণ মানুষের মনে আইনের শাসন সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদী আস্থার সংকট তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। তা সত্ত্বেও ককরোচ জনতা পার্টির তরুণ নেতৃত্ব ও অদম্য কর্মীরা ঘোষণা দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের আইনি সহায়তা বা সুপ্রিম কোর্টের অনীহা তাদের এই ন্যায্য ও নৈতিক আন্দোলনকে একচুলও দমাতে পারবে না। যতক্ষন পর্যন্ত না এই দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার সাধিত হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে, ততক্ষন পর্যন্ত দেশের আপামর ছাত্রসমাজ ও তেলাপোকা পার্টির লড়াকু কর্মীরা রাজপথ ছেড়ে এক পা-ও নড়বেন না বলে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত