ট্রাম্প-মামদানি দ্বন্দ্ব: ইসরায়েল ইস্যুর নতুন রাজনৈতিক অঙ্ক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
  • ১৪ বার
ট্রাম্প-মামদানি দ্বন্দ্ব: ইসরায়েল ইস্যুর নতুন রাজনৈতিক অঙ্ক

প্রকাশ: ২২ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং মার্কিন অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার পালাবদলে বর্তমানে এক নতুন এবং অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউইয়র্ক শহরের আলোচিত মেয়র জোহরান মামদানির মধ্যকার রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ বিশ্বজুড়ে প্রবল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামগ্রিক জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলবিদরা এমন একটি পুরোনো অথচ অব্যর্থ পথ বেছে নিয়েছেন, যা তাঁকে যেকোনো মূল্যে বিরোধীদের কোণঠাসা করার সুযোগ করে দেয়। আর তা হলো এমন কোনো প্রভাবশালী ও বিতর্কিত প্রতিপক্ষের সঙ্গে সম্মুখ সমরে লিপ্ত হওয়া, যাঁকে পুরো ডেমোক্রেটিক পার্টির আদর্শিক প্রতিচ্ছবি বা প্রতীক হিসেবে সহজে তুলে ধরা সম্ভব। আর এই রাজনীতির ঠিক কেন্দ্রবিন্দুতে এসে হাজির হয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, যিনি তাঁর স্পষ্টভাষী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বর্তমানে আমেরিকান রাজনীতিতে এক ভিন্ন ধারার শক্তির উৎস হয়ে উঠেছেন।

এই পুরো দ্বন্দ্বের মূল সূত্রপাত ঘটেছিল যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কখনো নিউইয়র্ক শহরে সফরে এলে তাঁকে আইনগতভাবে গ্রেপ্তার করার একটি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মেয়র জোহরান মামদানি। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই ঘোষণাটি দেওয়ার পর থেকেই মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিপত্তির সৃষ্টি হয়। কিন্তু নিজের দেওয়া সেই অবস্থান থেকে একচুলও সরে দাঁড়াতে বা প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার করতে পরিষ্কার অস্বীকৃতি জানান জোহরান মামদানি। এর ফলস্বরূপ, এই সুযোগটি লুফে নিতে এবং রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাত্র কয়েক দিন সময় লেগেছিল। গত সোমবার ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব মালিকানাধীন ও নিয়ন্ত্রিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে অত্যন্ত দম্ভের সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে অবস্থানকালে কোনো অবস্থাতেই বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না এবং তাঁর সরকার এমন কোনো পদক্ষেপের সুযোগ কাউকেই দেবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প সাধারণত এই ধরনের প্ল্যাটফর্মগুলোকে নতুন কোনো রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক উসকে দেওয়ার শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন, এবং এবারের ঘটনাটিও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রেসিডেন্টের এই দ্ব্যর্থহীন ও কঠোর ঘোষণার মধ্য দিয়ে হোয়াইট হাউসের কেন্দ্রীয় ক্ষমতার সঙ্গে দেশের অন্যতম প্রধান ও প্রভাবশালী শহর নিউইয়র্কের প্রশাসনের মধ্যে এক তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যে শহরকে ডোনাল্ড ট্রাম্প একসময় নিজে গর্বের সঙ্গে নিজের বাড়ি বলে সম্বোধন করতেন। তবে এই সংঘাতের আসল তাৎপর্য বা গভীরতা কেবল সাময়িক কোনো আইনগত বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক অঙ্ক। রাজনৈতিক মেরুকরণের চতুর খেলায় অভ্যস্ত ট্রাম্প বরাবরই স্পর্শকাতর কোনো বিষয় বা ব্যক্তিকে নিজের নির্বাচনী বা কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিতে সিদ্ধহস্ত। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি শুধু তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আইনি ঝামেলা থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন না, বরং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো একজন নেতার রক্ষাকর্তা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করে নিজের ভাবমূর্তি জোরালো করছেন।

একই সঙ্গে, এই দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প ডেমোক্রেটিক পার্টির আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে ‘অনেক বেশি চরমপন্থী’ হিসেবে ভোটারদের সামনে ফুটিয়ে তোলার এক দারুণ সুযোগ পেয়ে গেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর থেকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার নৃশংসতা ও সাধারণ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে তুমুল পররাষ্ট্রনৈতিক বিতর্ক চলছে, তার অভ্যন্তরীণ মার্কিন রাজনৈতিক প্রভাব এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি প্রবল। নিউইয়র্ক টাইমসের একটি আলোচিত পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে মেয়র জোহরান মামদানি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, নেতানিয়াহুর প্রকৃত স্থান হওয়া উচিত নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাঠগড়ায়, কারণ তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত। মামদানির এই দ্ব্যর্থহীন অবস্থান মার্কিন মূলধারার রাজনীতিতে ইসরায়েল বিষয়ে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও প্রায় সর্বজনীন অন্ধ সমর্থনের দেওয়লে ফাটল ধরাতে শুরু করেছে, যা ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরের অভ্যন্তরীণ রূপান্তরকেই স্পষ্ট করে তোলে।

মামদানির মতো তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতারা ইসরায়েলবিরোধী কঠোর ও আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করায় তৃণমূলের উদারপন্থী ও বামঘেঁষা ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের অভূতপূর্ব উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। একসময়ের প্রথা ভেঙে রাজনীতিতে আসা নতুন মুখ থেকে এখন প্রশাসনিক নীতিিনির্ধারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার এই সন্ধিক্ষণে নিজের প্রগতিশীল ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের জন্য মামদানির এই রাজনৈতিক অনমনীয়তা অত্যন্ত জরুরি। হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের ওপর ইসরায়েলি রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্বিচার আক্রমণকে বহু প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট ও তরুণ মার্কিন নাগরিক জাতিগত নিধন বলে বিশ্বাস করেন, আর এই বিশ্বাসের জায়গাটাই এখন জোহরান মামদানির রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রধান স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। যদিও ইসরায়েল রাষ্ট্রপক্ষ সবসময় এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং তাদের দাবি, হামাসের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে তারা নিজেদের আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার প্রয়োগ করছে। তা সত্ত্বেও, বাইডেন প্রশাসন থেকে শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন পর্যন্ত সকলেই অতীতে ইসরায়েলের এই সামরিক পদক্ষেপগুলোকে রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও বর্তমান ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে মেরুকরণ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন উদীয়মান নেতা এখন ইসরায়েলবিরোধী একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা জনসমক্ষে নিয়ে আসছেন, যা কেবল গাজা উপত্যকার সংকটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি যুক্ত হয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে। বর্তমান মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের সবচেয়ে বড় এবং কেন্দ্রীয় প্রশ্নটি হলো সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর ক্রমবর্ধমান অক্ষমতা। ডেমোক্র্যাটদের একটি বড় অংশ প্রশ্ন তুলছে যে, আমেরিকান করদাতাদের কষ্টার্জিত অর্থের বিলিয়ন ডলার কেন বিদেশে যুদ্ধ বা সংঘাতের পেছনে অনুদান হিসেবে পাঠানো হবে, যখন দেশের ভেতরে স্কুলগুলোর বেহাল দশা, স্বাস্থ্যসেবার চরম সংকট এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান নিম্নমুখী। তবে এই তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণের মাঝেও একটি দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বের সম্পর্কে টানাপোড়েনের দৃশ্যও বেশ স্পষ্ট। গত বছর ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জোহরান মামদানির মধ্যে বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ ও বন্ধুসুলভ সম্পর্ক বজায় থাকতে দেখা গিয়েছিল। এমনকি চলতি বছরের শুরুতে এক রক্ষণশীল গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেছিলেন যে মামদানির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার এবং তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকটি ফলপ্রসূ বৈঠকও হয়েছে।

বয়স, আদর্শ, রাজনৈতিক দর্শন এবং স্বভাবের দিক থেকে আকাশ-পাতাল তফাত থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প এবং জোহরান মামদানির কিছু কৌশলগত জায়গায় দারুণ মিল রয়েছে। দুজনই অত্যন্ত চমৎকার উপায়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক স্লোগান ও নীতি দিয়ে নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের সবসময় উজ্জীবিত রাখতে পছন্দ করেন এবং উভয়েরই গণযোগাযোগের দক্ষতা অসাধারণ। ফলে, ট্রাম্পের সঙ্গে এই প্রকাশ্যে তত্ত্বে বা বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়াটা আদতে মামদানির জন্যও একটি বিশাল রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে, যা জাতীয় স্তরের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তাঁর প্রভাবকে সারা দেশের মানুষের সামনে আরও স্পষ্ট করে তোলে। ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরকার রক্ষণশীল ও মধ্যপন্থী নেতারা অবশ্য গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে তাঁদের দলের অতি-উদারপন্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঐতিহ্যবাহী মিত্রকে এভাবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তা সত্ত্বেও, ট্রাম্পের রাজনৈতিক শিবির এই ফাটলটিকে আরও প্রশস্ত করার জন্য জোহরান মামদানিকে একটি আদর্শ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে বদ্ধপরিকর।

আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনগুলোর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প সুকৌশলে জোহরান মামদানিকে পুরো ডেমোক্রেটিক পার্টির মূল প্রতিচ্ছবি বা চরমপন্থী মুখ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন, যাতে সাধারণ ভোটারদের মনে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে ভীতির সঞ্চার করা যায়। এর আগেও ট্রাম্প এই কৌশল সফলভাবে প্রয়োগ করেছিলেন, যখন তিনি নিউইয়র্কের প্রভাবশালী নারী জনপ্রতিনিধি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ কিংবা ভারমন্টের সমাজতান্ত্রিক সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সকে তাদের দলের চরমপন্থী প্রতীক হিসেবে দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করেছিলেন। বর্তমান সময়ে অর্থনীতি পরিচালনা এবং জিনিসপত্রের লাগামহীন দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর যখন সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে, তখন এই ধরনের আদর্শিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্ক উসকে দিয়ে হিসাব বদলে দিতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অভিবাসন, লিঙ্গ পরিচয় এবং অপরাধের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে অতীতে যেভাবে ট্রাম্প সফলভাবে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছিলেন, ঠিক একই কায়দায় এবার ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে নির্বাচনী ময়দানে টেনে এনে রক্ষণশীল ইভ্যানজেলিক্যাল খ্রিস্টান ভোটারদের মনে চরম উদ্দীপনা তৈরি করতে চাইছেন তিনি। সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহু ইস্যুকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প ও মামদানির এই রাজনৈতিক লড়াই কেবল ক্ষমতার দ্বৈরথ নয়, বরং এটি মার্কিন রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণের এক অদম্য লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত