দিল্লি পুলিশের গুন্ডামি: ক্ষুব্ধ নাসিরুদ্দিন শাহ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
  • ১৮ বার
দিল্লি পুলিশের গুন্ডামি: ক্ষুব্ধ নাসিরুদ্দিন শাহ

প্রকাশ: ২২ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের রাজধানী দিল্লির বুকে শিক্ষাব্যবস্থার চরম অবনতি, লাগামহীন দুর্নীতি এবং বহুল আলোচিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুতর জাতীয় সংকটের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া সাধারণ ছাত্রছাত্রী ও তরুণ প্রজন্মের ওপর দিল্লি পুলিশ কর্তৃক চালানো নগ্ন পৈশাচিকতা ও বর্বর লাঠিচার্জের ঘটনার বিরুদ্ধে অত্যন্ত তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বলিউডের বরেণ্য, প্রবীণ ও জনপ্রিয় অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। সম্প্রতি ককরোচ জনতা পার্টির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘চলো সংসদ’ শীর্ষক ঐতিহাসিক মিছিল চলাকালে আন্দোলনরত নিরপরাধ ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ যেভাবে নির্বিচারে লাঠিচার্জ ও নির্যাতন চালিয়েছিল, তার সরাসরি নিন্দা জানিয়ে একটি অত্যন্ত জোরালো ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন এই দেশবরেণ্য অভিনেতা। গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে ককরোচ জনতা পার্টির অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা ওই ভিডিও বার্তার প্রতিটি লাইনে যেমন ফুটে উঠেছে গভীর বেদনা, ঠিক তেমনি চুইয়ে পড়েছে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এক তীব্র ও অবদম্য ক্ষোভ।

ভিডিও বার্তার শুরুতেই অত্যন্ত আবেগঘন ও ক্ষুব্ধ কণ্ঠে অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ সরাসরি আক্রমণ করেন বর্তমান দেশের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বকে এবং অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, যদি কোনো দেশের সর্বোচ্চ পদে এমন কোনো অশিক্ষিত ও হীন মানসিকতার ব্যক্তি নেতৃত্ব দেন, যার মধ্যে দূরদর্শিতার লেশমাত্র নেই, তবে তাঁর সুপ্ত বা প্রকাশ্য ইচ্ছাটাই এমন হয়ে দাঁড়াবে যেন গোটা দেশ এবং তাঁর আশপাশের প্রতিটি মানুষও তাঁরই মতো সম্পূর্ণ অশিক্ষিত, অবিবেচক, চরম অযোগ্য এবং নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সাধারণ মানুষের ওপর নেমে আসা লাগাতার দমনপীড়নের দিকে ইঙ্গিত করেই মূলত তিনি এই তীব্র কটাক্ষ করেন। ছাত্রদের ওপর চালানো বর্বরোচিত পুলিশি হামলার প্রসঙ্গ টেনে নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন যে, এই মুহূর্তে তাঁর মন ভীষণভাবে ভারাক্রান্ত হয়ে আছে এবং তিনি ভেতরে ভেতরে চরম রাগে ফুঁসছেন। মুখে মুখোশ পরে এবং হাতে মোটা লাঠি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাকধারী এই সদস্যরা যেভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়েছেন, তা কোনো সভ্য দেশের পুলিশের আচরণ হতে পারে না, বরং তাঁরা সম্পূর্ণ কুখ্যাত কোনো গুন্ডা বা বিদেশি শক্তির পেটোয়া এজেন্টের মতো আচরণ প্রদর্শন করেছেন।

পুলিশের এই অমানবিক ও পৈশাচিক আচরণের তীব্র সমালোচনা করে প্রবীণ এই অভিনেতা আরও বলেন যে, যারা আজ ক্ষমতার জোরে বা অন্ধ নির্দেশে নিরপরাধ তরুণদের ওপর নির্বিচারে লাঠি চালাচ্ছে, তাদের কি কখনো নিজেদের সন্তানদের কথা মনে পড়ে না? তাদের কি ন্যূনতম এই উপলব্ধি হয় না যে, আজ তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণের রক্ত ঝরাচ্ছে, কিন্তু কর্মের ফল হিসেবে একদিন তাদেরও এই অমার্জনীয় অপরাধের উপযুক্ত পরিণাম ভোগ করতে হবে? ভিডিওর একেবারে শেষাংশে এসে দেশের গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে বুক চিতিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া লড়াকু ছাত্রসমাজকে সান্ত্বনা ও অনুপ্রেরণা জুগিয়ে এই কিংবদন্তি অভিনেতা অত্যন্ত জোরালো কণ্ঠে বলেছেন যে, তিনি দেশের সকল ছাত্রছাত্রীকে জানাতে চান তারা যেন কোনো অবস্থাতেই নিজেদের মানসিক সাহস বা মনোবল হারিয়ে না ফেলেন। কোটি কোটি দেশবাসীর গভীর সহানুভূতি ও সমর্থন আজ এই তরুণদের সঙ্গে রয়েছে এবং বহু মানুষ কায়মনোবাক্যে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। দেশের তরুণ প্রজন্মের ওপর তাঁর আজীবন অগাধ ভরসা ছিল এবং বর্তমান এই কঠিন সময়ে এসে সেই বিশ্বাস ও আস্থার মাত্রা যেন আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, আর যেকোনো মূল্যে তাঁরা এই ন্যায়যুদ্ধে তরুণদের পাশেই থাকবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে এবং দিল্লির সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তরফ থেকে এই পুরো ঘটনাটির সম্পূর্ণ ভিন্ন ও আত্মপক্ষ সমর্থকমূলক ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। গত সোমবার নয়াদিল্লির রাজপথে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে আন্দোলনকারীরা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক, হিংসাত্মক এবং উগ্র আচরণ প্রদর্শন করেছিলেন বলে দাবি করেছে পুলিশ প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তরফ থেকে বারবার মুখে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও এবং আইন অমান্য না করার জন্য পর্যাপ্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা সেই কথায় বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করেননি এবং তৎকালীন সময়ে বলবৎ থাকা কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও নিয়মকানুনগুলো প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করেছিলেন। সেই কারণেই বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়েছিল বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফাই গাওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পূর্ণ উল্টো কথা বলছে, যেখানে তারা দাবি করেছেন যে পুলিশ কোনো ধরনের বাছবিচার বা পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ জমায়েতের ওপর অতর্কিতে পৈশাচিক হামলা চালায়, যার ফলে বহু কোমলমতি শিক্ষার্থী গুরুতর জখম হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিও ফুটেজে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে যে, ক্ষিপ্ত পুলিশ সদস্যরা ছাত্রদের ওপর অমানবিক কায়দায় লাঠিচার্জ করছেন এবং বিক্ষিপ্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে মুহুর্মুহু কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করছেন। এমনকি আন্দোলনকারীদের আরও গুরুতর অভিযোগ ছিল যে, পুলিশের অফিশিয়াল ইউনিফর্মের বাইরে সাধারণ পোশাকে বা সিভিক পোশাকে কিছু উগ্র লোকজনও এই হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছিল এবং তাদের হাতেও লাঠিসোঁটা দেখা গিয়েছিল, যা পুরো ঘটনাটিকে এক পরিকল্পিত দমনপীড়নের রূপ দেয়। দীর্ঘ দিন ধরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরে জেঁকে বসা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং বিশেষ করে সর্বভারতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা তথা নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো চাঞ্চল্যকর ও অপরাধমূলক ঘটনার সুনির্দিষ্ট প্রতিবাদেই মূলত এই লাগাতার কর্মসূচি ও আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে বিশিষ্টজনেরাও এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে রাজপথে নেমে আসছেন, যার অংশ হিসেবে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক চলতি মাসের শুরুতেই এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যোগ দিয়ে যন্তর মন্তরের খোলা আকাশের নিচে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বিভিন্ন প্রতিনিধি দল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসলেও এবং দফায় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তার কোনো সুনির্দিষ্ট ও সন্তোষজনক সমাধান এখনো বের না হওয়ায় এই আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর রূপ ধারণ করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত