প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অস্ট্রেলিয়া সফর সব সময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। আগামী আগস্টে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও স্টিভেন স্মিথদের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে টাইগাররা। তবে এই ঐতিহাসিক সফরে দলের অন্যতম অভিজ্ঞ পেসার ইবাদত হোসেনকে দেখা যাবে না। জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে অগ্রাধিকার দিয়ে সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়া সফরের সময়ই প্রথমবারের মতো বাবা হতে যাচ্ছেন ইবাদত হোসেন। সন্তান জন্মের সময় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই ডানহাতি গতিতারকা। পারিবারিক এই বিশেষ মুহূর্তে পরিবারের সঙ্গে থাকার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে ছুটির আবেদন করেছেন তিনি।
বিসিবির এক কর্মকর্তা ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সান-কে জানিয়েছেন, ইবাদত ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটির আবেদন করেছেন এবং অস্ট্রেলিয়া সফরে তাকে পাওয়া যাবে না। বোর্ডও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে। ক্রিকেট মহলে ইবাদতের এই সিদ্ধান্তকে মানবিক এবং দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ দলের পেস আক্রমণের অন্যতম নির্ভরযোগ্য সদস্য ইবাদত হোসেন। দীর্ঘ ইনজুরির পর সম্প্রতি তিনি ধীরে ধীরে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরেছেন। তার উচ্চতা, গতি এবং বাউন্স আদায়ের সক্ষমতা বিদেশের কন্ডিশনে বাংলাদেশ দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি উইকেটে তার উপস্থিতি দলের জন্য বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারত বলে মনে করছেন অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক।
তবে ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে প্রাধান্য দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট অনেকেই। আধুনিক পেশাদার ক্রীড়াঙ্গনে পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনেক ক্রিকেটারই সন্তান জন্মের সময় পরিবারের পাশে থাকতে আন্তর্জাতিক সিরিজ থেকে বিরতি নিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় ইবাদতের সিদ্ধান্তও ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশ দলের আরেক ফাস্ট বোলার নাহিদ রানার চোট নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। জিম্বাবুয়ে সফরের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বোলিং করার সময় পেশিতে টান অনুভব করে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। চোটের কারণে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতেও খেলতে পারেননি এই তরুণ গতিতারকা।
বুধবার (২২ জুলাই) নাহিদ রানার স্ক্যান করা হয়েছে। বিসিবির চিকিৎসা বিভাগ স্ক্যান রিপোর্ট হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, সাধারণত এ ধরনের পেশির চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে নাহিদকে পাওয়ার আশা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে। ২০০৩ সালের পর এই প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলবে টাইগাররা। দুই দশকেরও বেশি সময় পর বিশ্বের অন্যতম কঠিন ক্রিকেটভূমিতে টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ, যা দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণেরও সুযোগ।
সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে। এরপর ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজে বাংলাদেশ দলের জন্য পেস বোলিং বিভাগ বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইবাদতের অনুপস্থিতি এবং নাহিদ রানার ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা নির্বাচকদের বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণে বাধ্য করতে পারে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে লম্বা গড়নের এবং অতিরিক্ত বাউন্স আদায়ে সক্ষম বোলারদের গুরুত্ব অনেক বেশি। সে বিবেচনায় ইবাদতের অনুপস্থিতি অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য একটি বড় শূন্যতা তৈরি করবে। তবুও ব্যক্তিগত জীবনের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পরিবারের পাশে থাকার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোই উচিত বলে মত অনেক সাবেক ক্রিকেটারের।
এদিকে বিসিবি দল ঘোষণার আগে নাহিদ রানার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা এবং অন্যান্য ফাস্ট বোলারদের প্রস্তুতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নির্বাচকরা আশা করছেন, চোট কাটিয়ে নাহিদ দ্রুত মাঠে ফিরতে পারবেন এবং অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ যথাসম্ভব শক্তিশালী রূপেই মাঠে নামবে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশের জন্য যেমন একটি কঠিন ক্রিকেটীয় পরীক্ষা, তেমনি ইবাদত হোসেনের জীবনে এটি এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বড় মঞ্চের পরিবর্তে পরিবারের সবচেয়ে আনন্দময় মুহূর্তকে বেছে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত তার পেশাদার পরিচয়ের পাশাপাশি একজন দায়িত্বশীল পরিবারের সদস্য হিসেবেও নতুন পরিচয় তুলে ধরেছে।