সর্বশেষ :
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান ফখরুলের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার হাসনাত আবদুল্লাহর রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার দাবি নাহিদের, নতুন বিতর্ক রাজনীতিতে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রস্তুতি, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নজর দেশের গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত স্পিকার-ইসির ভূতুড়ে প্রতিষ্ঠানের নামে টিআর বরাদ্দ, উঠছে অনিয়মের অভিযোগ গ্যাস সংকটে রাজধানীর সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষা মাতামুহুরী কলেজের জমি উদ্ধারে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম নলছিটি পৌরসভার অনিয়মে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি

উল্টো রথযাত্রায় শেষ হচ্ছে জগন্নাথ দেবের উৎসব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ২৫ বার
উল্টো রথযাত্রায় শেষ হচ্ছে জগন্নাথ দেবের উৎসব

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার সমাপনী পর্ব ‘উল্টো রথযাত্রা’ আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) পালিত হচ্ছে। গত ১৬ জুলাই শুরু হওয়া নয় দিনব্যাপী রথযাত্রা উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে ভক্তদের উচ্ছ্বাস, প্রার্থনা, শোভাযাত্রা এবং নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। উৎসবকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর ধর্মীয় আবেগ, আনন্দ এবং আধ্যাত্মিক অনুভূতি।

উল্টো রথযাত্রা মূলত জগন্নাথ দেব, তার ভ্রাতা বলরাম এবং ভগিনী শুভদ্রার নিজ মন্দিরে প্রত্যাবর্তনের প্রতীক। রথযাত্রার দিন দেবতারা রথে চড়ে ভক্তদের মাঝে আসেন বলে ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে। নয় দিন পর উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে তারা আবার মূল মন্দিরে ফিরে যান। এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করেই আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, পূজা, কীর্তন, প্রসাদ বিতরণ এবং ধর্মীয় আলোচনা।

সনাতন ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, ‘জগন্নাথ’ শব্দের অর্থ ‘জগতের নাথ’ বা বিশ্বজগতের অধীশ্বর। ভক্তদের বিশ্বাস, ভগবান জগন্নাথের কৃপা লাভ করলে মানুষ জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তির পথ খুঁজে পায়। সেই বিশ্বাস থেকেই শত শত বছর ধরে রথের ওপর জগন্নাথ দেব, শুভদ্রা ও বলরামের প্রতিমা স্থাপন করে রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রা উদযাপনের ঐতিহ্য চলে আসছে।

রাজধানী ঢাকায় আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। শুক্রবার সকালে পূজা, হরিনাম সংকীর্তন, শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ, ভাগবত আলোচনা, বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ কামনায় বিশেষ যজ্ঞ এবং মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। বিকেলে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে হাজারো ভক্তের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনা সভা শেষে তিনটি সুসজ্জিত বিশাল রথে জগন্নাথ দেব, শুভদ্রা ও বলরামের প্রতিকৃতি নিয়ে শোভাযাত্রা শুরু হবে। রথযাত্রাটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক অতিক্রম করে স্বামীবাগ ইসকন মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে। ধর্মীয় সংগীত, কীর্তন, শঙ্খধ্বনি এবং ভক্তদের জয়ধ্বনিতে পুরো পরিবেশ উৎসবমুখর হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে একটি আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সরকারের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সনাতন সম্প্রদায়ের বিশিষ্টজনেরা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের মতে, এই আলোচনা সভার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়া।

শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারের জগন্নাথ জিউ ঠাকুর মন্দির, জয়কালী রোডের রামসীতা মন্দির, শাঁখারীবাজারের বিভিন্ন মন্দির, সাভারের ধামরাই, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, ময়মনসিংহ, সিলেট, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় স্থানীয়ভাবে রথ টানা, পূজা, প্রসাদ বিতরণ এবং ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বিশেষ করে ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী যশোমাধবের রথযাত্রা বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী সেখানে সমবেত হন। বিশাল কাঠের রথ, ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা এবং লোকজ সংস্কৃতির সমন্বয়ে এই আয়োজন বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

রথযাত্রার ইতিহাস বহু শতাব্দী পুরোনো। ভারতের ওডিশা রাজ্যের পুরী জগন্নাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে এই উৎসবের সূচনা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশেও রথযাত্রা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে। অনেক স্থানে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও এই উৎসব দেখতে এবং আনন্দ ভাগাভাগি করতে অংশ নেন, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, রথযাত্রা মানুষের মধ্যে ভক্তি, সহমর্মিতা, আত্মশুদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার শিক্ষা দেয়। ভগবান জগন্নাথের রথ টানাকে অনেকে পুণ্যের কাজ বলে মনে করেন। এ কারণে শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষ উৎসাহের সঙ্গে এই আয়োজনে অংশ নেন। অনেক পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই উৎসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে।

উৎসবকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ মন্দির, শোভাযাত্রার রুট এবং জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়ও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে ধর্মীয় অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।

ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের উৎসব রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে গুরুত্বের সঙ্গে উদযাপিত হয়ে থাকে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উৎসবে পারস্পরিক শুভেচ্ছা ও অংশগ্রহণ দেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করে। উল্টো রথযাত্রাও সেই ঐতিহ্যেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে আরও দৃঢ় করে।

আজকের উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে এ বছরের শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের নয় দিনব্যাপী রথযাত্রা উৎসব। আয়োজকদের প্রত্যাশা, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন হবে এবং ধর্মীয় এই আয়োজন সমাজে সম্প্রীতি, মানবিকতা ও শান্তির বার্তা আরও সুদৃঢ় করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত