সর্বশেষ :
গণতন্ত্র হত্যাকারী হাসিনাকে বিতাড়িত করেছে দেশের মানুষ: রাশেদা বেগম হিরা প্রধান শিক্ষকের কুৎসিত রূপ: চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ নড়াইলে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে ইউপি সদস্য খুন, এলাকায় উত্তেজনা বিয়ের তিন দিন পর সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল নবদম্পতির স্বপ্ন রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য সংকট, চিকিৎসকদের পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান ফখরুলের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার হাসনাত আবদুল্লাহর রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার দাবি নাহিদের, নতুন বিতর্ক রাজনীতিতে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রস্তুতি, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নজর দেশের গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত স্পিকার-ইসির

রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার দাবি নাহিদের, নতুন বিতর্ক রাজনীতিতে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ১৩ বার
রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার দাবি নাহিদের, নতুন বিতর্ক রাজনীতিতে

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় আরও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শুধু পদত্যাগ করলেই হবে না, রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তার এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জামালপুর শহরে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে আয়োজিত পদযাত্রা শেষে ফৌজদারি মোড়ে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। সেখানে তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কেবল পদত্যাগ করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। তার ভাষায়, রাষ্ট্রপতি ‘গণহত্যার সমর্থনকারী’ হওয়ায় তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা কোনো ব্যক্তি যদি গুরুতর অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন, তাহলে তার ক্ষেত্রেও আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকার পর হঠাৎ কেন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রয়োজন দেখা দিল। তিনি বলেন, বিষয়টি রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের চেয়ে সরকারের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে। তার দাবি, সরকার হয়তো রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। যদিও এ বিষয়ে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি; বরং এটি তার রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে তুলে ধরেন।

নাহিদ ইসলাম বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পরও পাঁচ মাসে আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে পরিবর্তন করতে না পারা সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তার ভাষায়, যে সরকার রাষ্ট্রপতির মতো একটি সাংবিধানিক বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, সেই সরকার দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে কতটা সক্ষম—তা জনগণ মূল্যায়ন করছে।

রাষ্ট্রপতির পদে একজন নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য এবং অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিকে দেখতে চায় দেশের জনগণ বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে। এবারও যদি যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় বিবেচনায় কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হয়, তাহলে সরকারের প্রতি জনগণের অবশিষ্ট আস্থাও নষ্ট হয়ে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সমাবেশে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এমনভাবে হওয়া উচিত, যাতে জনগণ মনে করে তিনি পুরো জাতির প্রতিনিধি, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নন। তিনি দাবি করেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়বে।

এনসিপির এই কর্মসূচিতে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যুগ্ম সদস্যসচিব লুৎফর রহমান, জামালপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব মোশাররফ হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। এর আগে বিকেলে শহরের দয়াময়ী মোড় থেকে একটি পদযাত্রা বের করা হয়। পদযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ফৌজদারি মোড়ে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, দায়িত্ব হস্তান্তর এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই বলে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং তাকে গ্রেপ্তারের দাবি এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক বক্তব্যের পর্যায়েই রয়েছে। এ বিষয়ে কোনো তদন্ত, বিচারিক সিদ্ধান্ত বা আইনগত পদক্ষেপের ঘোষণা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আইনগত প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক বিধানের ওপর।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের সঙ্গে এনসিপির এ ধরনের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির উত্তরসূরি নির্বাচন এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার বিষয়টিও এখন জাতীয় আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। এখন নজর থাকবে রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, সরকারের অবস্থান এবং পরবর্তী সাংবিধানিক পদক্ষেপের দিকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত