সর্বশেষ :
গণবিক্ষোভে বদলে যাওয়া ভারত: দেড় দশকের রাজনৈতিক বাঁক গণতন্ত্র হত্যাকারী হাসিনাকে বিতাড়িত করেছে দেশের মানুষ: রাশেদা বেগম হিরা প্রধান শিক্ষকের কুৎসিত রূপ: চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ নড়াইলে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে ইউপি সদস্য খুন, এলাকায় উত্তেজনা বিয়ের তিন দিন পর সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল নবদম্পতির স্বপ্ন রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য সংকট, চিকিৎসকদের পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান ফখরুলের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার হাসনাত আবদুল্লাহর রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার দাবি নাহিদের, নতুন বিতর্ক রাজনীতিতে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রস্তুতি, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নজর দেশের

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান ফখরুলের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ১৪ বার
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান ফখরুলের

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন নানা আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা চলছে, তখন এ বিষয়ে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো বা গুজবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। জনগণকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত একটি সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলমান আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দায়িত্বশীল অবস্থান নেওয়া সবার কর্তব্য। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই সব ধরনের সিদ্ধান্তের ভিত্তি হওয়া উচিত।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্র নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার সব সময় জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের বিকল্প নেই।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারায় এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকেও আলোকপাত করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এসব পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপরও পড়ছে। তাই জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার।

তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এমন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে বাংলাদেশের সার্বভৌম স্বার্থ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অগ্রাধিকার পাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা না আসা পর্যন্ত গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, সাংবিধানিক যেকোনো পরিবর্তন দেশের আইন ও সংবিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হবে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে চলমান আলোচনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক বক্তব্য এবং যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জনমনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তারা মনে করছেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গুজব ছড়ানো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সেমিনারে উপস্থিত বিভিন্ন বক্তাও গণতন্ত্র, সুশাসন এবং জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা রাখা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করাই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত