সর্বশেষ :
গণবিক্ষোভে বদলে যাওয়া ভারত: দেড় দশকের রাজনৈতিক বাঁক গণতন্ত্র হত্যাকারী হাসিনাকে বিতাড়িত করেছে দেশের মানুষ: রাশেদা বেগম হিরা প্রধান শিক্ষকের কুৎসিত রূপ: চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ নড়াইলে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে ইউপি সদস্য খুন, এলাকায় উত্তেজনা বিয়ের তিন দিন পর সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল নবদম্পতির স্বপ্ন রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য সংকট, চিকিৎসকদের পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান ফখরুলের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার হাসনাত আবদুল্লাহর রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার দাবি নাহিদের, নতুন বিতর্ক রাজনীতিতে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রস্তুতি, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নজর দেশের

রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য সংকট, চিকিৎসকদের পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ১১ বার
রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য সংকট, চিকিৎসকদের পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসা ও পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। সাম্প্রতিক শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় হৃদ্‌রোগের পাশাপাশি স্নায়বিক সমস্যারও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে বঙ্গভবনের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তাঁর স্বাস্থ্য, সম্ভাব্য পদত্যাগ এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বঙ্গভবন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, গত কয়েক দিনে রাষ্ট্রপতি দুবার বিস্তৃত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। সিটি স্ক্যান ও এমআরআইসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রতিবেদনে হৃদ্‌যন্ত্রের জটিলতার পাশাপাশি নিউরোলজিক্যাল সমস্যারও লক্ষণ ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতামত অনুযায়ী, তাঁর জন্য বর্তমানে সবচেয়ে প্রয়োজন নিয়মিত চিকিৎসা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং কর্মব্যস্ততা কমিয়ে আনা।

জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দীর্ঘদিন ধরেই হৃদ্‌রোগে ভুগছেন। অতীতে তিনি সিঙ্গাপুরে বাইপাস সার্জারি করান। অস্ত্রোপচারের পর কিছুদিন সুস্থ থাকলেও পরবর্তীতে শারীরিক দুর্বলতা, কোমর ও পিঠের ব্যথাসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। এরপর তিনি যুক্তরাজ্যে গিয়ে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। সাম্প্রতিক সময়ে আবারও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া হয় এবং নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি বিবেচনায় চিকিৎসকরা তাঁকে সক্রিয় দায়িত্ব থেকে বিরতি নিয়ে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। চিকিৎসকদের মতামতের পাশাপাশি পরিবার ও নিকটজনদের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চললেও পরিবেশে এক ধরনের আবেগঘন আবহ তৈরি হয়। সকালে তিনি নিজ কার্যালয়ে এসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিতে স্বাক্ষর করেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। একই সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হওয়ায় বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও নানা আলোচনা শুরু হয়।

বঙ্গভবনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতির শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে আগে থেকেই সবাই উদ্বিগ্ন ছিলেন। সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো সেটিই তাঁর শেষ কর্মদিবস হতে পারে। দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাজ করার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বিদায়ের অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেছেন।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তাই তাঁর সম্ভাব্য বিদায়কে সবাই স্বাভাবিকভাবে আবেগের সঙ্গে দেখছেন। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকলেও দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দেখিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা।

বঙ্গভবনের একটি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি অতীতে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় সম্মানজনকভাবে দায়িত্ব শেষ করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর মতে, সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করাই তাঁর প্রধান দায়িত্ব ছিল। সেই দায়িত্ব যথাসম্ভব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।

এদিকে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা জোরালো হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির কার্যালয় কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবুও বিভিন্ন মহলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এরপর পদ শূন্য হলে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সম্পূর্ণ সাংবিধানিক একটি বিষয়। স্বাস্থ্যগত কারণ বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তা নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং সম্ভাব্য পদত্যাগের বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক নয়, সাংবিধানিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত সরকারি ঘোষণা এবং সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হবে বলে তারা মনে করছেন।

এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও রাষ্ট্রপতির শারীরিক সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অনেকে সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তনের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি, চিকিৎসকদের পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ এবং পদত্যাগের সম্ভাবনা দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এখন আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণার দিকেই সবার নজর রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত