প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আইনজীবী ও জনপ্রিয় মডেল জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, যিনি মিডিয়া অঙ্গনে পিয়া জান্নাতুল নামেই সমধিক পরিচিত, সম্প্রতি এক অভূতপূর্ব ও ভীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাকে অজ্ঞাত ব্যক্তি কর্তৃক অনুসরণ করা এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ এনে তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করেছিলেন। অবশেষে সেই জিডিটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে তা তদন্ত করার জন্য পুলিশকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন বনানী থানা পুলিশকে এই অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। দেশের সাংস্কৃতিক ও আইনি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচিত এই ঘটনাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনেও নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৮ জুলাই রাজধানী ঢাকার গুলশান ও বনানী এলাকার সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে। ওই দিন নিজের ও নিজের পরিবারের সদস্যদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়ে বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করেন পিয়া জান্নাতুল। থানা সূত্রে জানা যায়, জিডিতে তিনি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট কিছু আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন। সম্প্রতি সমাজে ঘটে যাওয়া একটি আলোচিত ঘটনায় এক নারীর ন্যায়বিচার এবং তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পক্ষে অত্যন্ত জোরালো আইনি ও মানবিক অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন পিয়া। মূলত এরপর থেকেই একটি বিশেষ চক্রের পক্ষ থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও মানসিক চাপের মুখে পড়তে শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তার ইনবক্সে আপত্তিকর ও অরুচিকর বার্তা পাঠানো হতে থাকে। পাশাপাশি বিভিন্ন অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে তাকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু ভার্চুয়াল মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নয় এই হয়রানি, বরং গত প্রায় তিন মাস ধরে অজ্ঞাতপরিচয় কিছু ব্যক্তি সুনির্দিষ্টভাবে তাকে বিভিন্ন স্থানে শারীরিক ও মানসিকভাবে অনুসরণ করছে বলেও জিডিতে দাবি করা হয়েছে।
সোমবার এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। জিডির অভিযোগ তদন্তের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতের অনুমতির আবেদন করা হয়েছিল এবং সেই শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল সোমবার। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শুনানির সময় পিয়া জান্নাতুল নিজে স্বশরীরে আদালতে উপস্থিত ছিলেন, যা গণমাধ্যম ও আদালত পাড়ায় বাড়তি আগ্রহের সৃষ্টি করেছিল। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক বনানী থানা পুলিশকে অভিযোগের প্রতিটি দিক অত্যন্ত নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মোস্তফা কামাল। তিনি জানান যে আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর এখন পুলিশ এই অভিযোগের পেছনে থাকা আসল অপরাধীদের চিহ্নিত করতে কাজ শুরু করবে।
আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও এই ঘটনার কারণে পিয়া জান্নাতুল এবং তার পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ঘরের বাইরে বের হলে সবসময় এক ধরনের অদৃশ্য ভয় ও ট্র্যাকিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে তাকে। সম্ভাব্য যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ও মারাত্মক পরিস্থিতি এড়ানোর জন্যই তিনি মূলত রাষ্ট্রের কাছে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছিলেন। বর্তমান সমাজে একজন সচেতন নাগরিক ও আইনজীবী হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি এ ধরনের অপরাধমূলক হুমকির মুখে পড়তে হয়, তবে তা আইনের শাসন ও নারী নিরাপত্তার জন্য বড় একটি অশনিসংকেত বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পিয়া জান্নাতুলের এই সাহসিকতার প্রশংসা করার পাশাপাশি তার নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার অগণিত ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা।
এদিকে নিজের অবস্থান নিয়ে জিডিতে সম্পূর্ণ স্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরেছেন পিয়া জান্নাতুল। তিনি অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছেন যে অতীতে কিংবা বর্তমানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাঁর বিন্দুমাত্র কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। বর্তমান বা অতীতের কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিল না এবং তিনি কেবল একজন পেশাদার আইনজীবী ও মডেল হিসেবে তার মানবিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে তার এই মানবিক ও আইনি অবস্থানের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা ষড়যন্ত্রের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও মানবিক জায়গা থেকে একটি অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারণেই তাকে এই অহেতুক হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দেশের প্রতিটি সচেতন মানুষ আশা করছেন যে পুলিশ প্রশাসন আদালতের এই নির্দেশ দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে পিয়া জান্নাতুল ও তার পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে।