কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়াতে কাজ করছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৪১ বার
কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়াতে কাজ করছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৮ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো কৃষিখাত, যার সাফল্যের ওপর নির্ভর করে দেশের কোটি কোটি মানুষের অন্ন, বস্ত্র ও জীবনযাত্রা। বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে দেশ আজ শুধু খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতাই অর্জন করেনি, বরং উৎপাদিত উদ্বৃত্ত কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে সফলভাবে রপ্তানি করার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। দেশের এই ধারাবাহিক অগ্রযাত্রাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের অপার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বলে জোরালো মন্তব্য করেছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। মঙ্গলবার সকালে গাজীপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী ও দেশের সর্ববৃহৎ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বা বারি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করার পর আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদী ও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মন্ত্রীর এই সময়োপযোগী ঘোষণা দেশের চাষি সমাজ এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন আশা ও উৎসাহের সঞ্চার করেছে।

সকালে গাজীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে পৌঁছালে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও বরেণ্য কৃষি বিজ্ঞানীরা মন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এরপর মন্ত্রী ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন গবেষণাগার, মাঠপর্যায়ের পরীক্ষাগার এবং উদ্ভাবিত নতুন জাতের ফসলের প্লটগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ঘুরে দেখেন। বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি দেশের আবহাওয়া ও মাটির উপযোগী উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেন। পরিদর্শন শেষে ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে কৃষি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান, গবেষক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় দেশের সার্বিক কৃষি গবেষণা কার্যক্রমকে আরও বেশি যুগোপযোগী ও ফলপ্রসূ করা, ফসলের উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি করা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্যের গুণগত মান ও মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করার ওপর অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করা হয়। দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে বিজ্ঞানীদের নিরলস গবেষণার প্রশংসা করেন মন্ত্রী।

সভায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এবং দেশের বর্তমান কৃষি পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন যে, দেশের ভেতরে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে এই পণ্যের রপ্তানি সক্ষমতা ব্যাপকভাবে প্রসারিত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন যে, বর্তমান বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি শাকসবজি, ফলমূল, মসলা এবং প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের বিশাল চাহিদা রয়েছে এবং সেই চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজারে বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের শক্তিশালী বাজার সম্প্রসারণ ও বহুমুখীকরণই সরকারের অন্যতম প্রধান নীতিগত লক্ষ্য। কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে যেসব আন্তর্জাতিক মান ও ফাইটোস্যানিটারি বা উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে, সরকার সেগুলো অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দূর করার জন্য কাজ করছে যাতে আমাদের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি অর্জন করতে পারেন এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।

কৃষিপণ্যের উৎপাদনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর একটি বিষয় হলো সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং কৃত্রিম সংকট রোধ করা। এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন হুশিয়ারি উচ্চারণ করে কৃষিমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমানে দেশের বাজারে সারের কোনো ধরনের ঘাটতি বা সংকট নেই, বরং সরকারের গুদামগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল ও অসাধু সিন্ডিকেট রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক ফায়দা হাসিল করার অসৎ উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দেশের সার বাজারকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। কৃষিমন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের জনস্বার্থবিরোধী ও কৃষকবিরোধী অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সরকার শুরু থেকেই অত্যন্ত কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে। কৃত্রিম সংকট তৈরিকারক অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই বিষয়ে কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখানো হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সতর্ক করে দেন।

গাজীপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় দেশের কৃষি খাতের নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় প্রশাসনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন, যারা কৃষির উন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি, যিনি তার বক্তব্যে স্থানীয় কৃষকদের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সুযোগ্য সচিব ড. রফিকুল ইসলাম, দেশের খ্যাতনামা কৃষি বিজ্ঞানীগণ, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকবৃন্দ, শিক্ষক সমাজ এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের কৃষিখাতকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং গবেষণার ফলাফল দ্রুত মাঠপর্যায়ে কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

সব মিলিয়ে কৃষিমন্ত্রীর এই গাজীপুর সফর এবং তার সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেশের কৃষি অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা বয়ে এনেছে। একদিকে উৎপাদকদের জন্য সারের সহজলভ্যতা ও বাজার স্থিতিশীল রাখার কঠোর সরকারি অঙ্গীকার এবং অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের সোনালী সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে বলে সচেতন মহল মনে করছে। কৃষকদের ঘাম ঝরানো পরিশ্রম এবং সরকারের সঠিক নীতিগত সহায়তার হাত ধরে বাংলাদেশের কৃষি আজ শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সরকারের এই আন্তরিক ও দূরদর্শী পদক্ষেপগুলোর সুফল অচিরেই দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতে কৃষির অবদান আরও বেশি সুদৃঢ় ও গৌরবোজ্জ্বল হয়ে উঠবে বলে দেশবাসী ও সংশ্লিষ্ট সকলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত