সর্বশেষ :

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মারধরের শিকার দুই ছাত্র কারাগারে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১৯ বার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মারধরের শিকার দুই ছাত্র কারাগারে

প্রকাশ:  ২৯ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে সচেতন মহলে বরাবরই নানা প্রশ্ন ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, মতপার্থক্য এবং ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত বিরোধের জেরে যে ধরনের অনভিপ্রেত ও সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে চলেছে, তা সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থাকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই অস্থিতিশীল ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ শিকার হয়েছে ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, প্রক্টর দপ্তরে মারধর, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ঢুকে অতর্কিত হামলা এবং পরবর্তীতে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো মব সহিংসতার ঘটনা গোটা দেশকে স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত সোমবার দুপুরে, যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা রাকসু এবং ছাত্রশিবিরের কিছু নেতার উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমানের দপ্তরে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। ওই সভায় নারীঘটিত একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়কে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সতেরো-আঠারো শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাসকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী হিসেবে অভিযুক্ত করে তাঁর ওপর চড়াও হন রাকসু ও ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রক্টরের দপ্তরের মতো একটি দায়িত্বশীল স্থানে বসে এভাবে বিচারবহির্ভূতভাবে একজন ছাত্রকে মারধর করার ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলার চরম অবনতিকেই স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।

এই ঘটনার প্রাথমিক উত্তাপ প্রশমিত হওয়ার আগেই পরিস্থিতি আরও বেশি ভয়াবহ আকার ধারণ করে যখন দুপুরের পর বিকেল তিনটার দিকে মারধরের শিকার আনাসসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী রাকসু ভবনে পাল্টা আক্রমণ চালান। এই আকস্মিক হামলায় রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিবসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন, যা দুই পক্ষের মধ্যকার বিরোধকে আরও বেশি হিংসাত্মক করে তোলে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে উত্তেজনা এমন একপর্যায়ে পৌঁছায় যে, পরবর্তীতে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা দলবদ্ধভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সংরক্ষিত পাঠকক্ষে ঢুকে পড়েন। লাইব্রেরির মতো একটি শান্ত ও পবিত্র স্থানে সাবেক ও বর্তমান চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা যখন নিজেদের ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে সেখানে ঢুকে মো. আনাস, হাসিব ও মাহমুদুল হাসান নামের তিন শিক্ষার্থীকে লাঠিসোটা ও রড দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়।

কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির ভেতরে ঘটিত এই বর্বরোচিত হামলার মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করে। মারধরের এই ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে যখন অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তখনো হামলাকারীদের ক্ষোভ শান্ত হয়নি। বরং অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর থেকে তিন দফায় টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে আহত শিক্ষার্থীদের ওপর পুনরায় শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়, যা উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের হৃদয়কেও প্রকম্পিত করে তোলে। পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একটি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের ভেতরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের চোখের সামনে এই ধরনের নৃশংস মব জাস্টিস বা বিচারবহির্ভূত সহিংসতার দৃশ্য বিবেকবান মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত সোমবার রাতেই নগরের শাহ মখদুম থানায় দایر করা একটি পূর্বের মামলায় মারধরের শিকার ওই দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, ‘ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ নিয়ে এর আগে শাহ মখদুম থানায় দায়ের করা একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আহত ওই দুই শিক্ষার্থীকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সরাসরি জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে মারধরের শিকার ওই দুই শিক্ষার্থী আদালতের নির্দেশে কারাগারবন্দি রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সংঘটিত এই দফায় দফায় সহিংসতার ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রদলসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা এই প্রকাশ্য মব সহিংসতা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, লাইব্রেরি এবং বিশ্ববিদ্যালয় হলো শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ একটি আশ্রয়স্থল। অথচ সেই পবিত্র স্থানেই একপক্ষ আরেক পক্ষের ওপর যেভাবে হামলা চালিয়েছে এবং খোদ প্রক্টরের দপ্তরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

অন্যদিকে, ক্যাম্পাসের অন্যতম ছাত্র সংগঠনগুলোর মোর্চা গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটও একটি যৌথ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। ছাত্র মঞ্চের আহ্বায়ক নাসিম সরকারের পাঠানো ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রক্টরের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন এবং লাইব্রেরির মতো স্থানে ঢুকে যেভাবে বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে, তা কোনো সুস্থ ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাসের চিত্র হতে পারে না। ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে শিক্ষার্থীরা যে একটি স্বাধীন ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের স্বপ্ন দেখেছিল, এই ধরনের বেপরোয়া মব ভায়োলেন্স সেই সমস্ত স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের পক্ষ থেকে দুই দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে রাকসু ভবনে হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এবং মব সহিংসতায় জড়িত সব দায়ী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিসহ পুরো ক্যাম্পাসে পড়াশোনার একটি ভয়হীন ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত সোমবারের এই দফায় দফায় হামলা ও সহিংসতার সমগ্র ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের প্রথিতযশা অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিকে আগামী দশ কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির অন্য সম্মানিত সদস্যরা হলেন ফার্মাসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ছাদিক, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আসাদুল হক, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম এবং ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. এ নাঈম ফারুকী। ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কার্যক্রম শুরু করেছেন।

সহিংসতার এই ঘটনার জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির যে পাঠকক্ষটিতে শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছিল, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অর্ধশতাধিক চাকরিপ্রত্যাশী ও গবেষক শিক্ষার্থী এই পাঠকক্ষে এসে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রস্তুতি নিতেন। কিন্তু ঘটনার পর থেকে পাঠকক্ষের ফটক বন্ধ থাকায় চরম অনিশ্চয়তা ও মনস্তাত্ত্বিক চাপে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে পাশের অন্যান্য পাঠাগার বা দোতলার ডিসকাশন কক্ষে বসে পড়াশোনার চেষ্টা চালালেও এই আকস্মিক অচলাবস্থা তাদের প্রস্তুতিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই অচলাবস্থার দ্রুত অবসান এবং লাইব্রেরির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে পুরো ঘটনাপ্রবাহের একপর্যায়ে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বক্তব্য দেওয়ায় নতুন করে আরেকটি বিতর্কের জন্ম হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাকসুর নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে ভিপি মোস্তাকুর রহমান গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং সাংবাদিকদের একটি অংশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, সংবাদমাধ্যমগুলোর একটি অংশ পক্ষপাতদুষ্টভাবে ছাত্রলীগের পক্ষে অবস্থান নিয়ে একপাক্ষিক সংবাদ পরিবেশন করছে এবং তাদের এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার ও তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সব মিলিয়ে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া এই ধারাবাহিক সংঘাত, শিক্ষক-প্রশাসনের সামনেই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, পরবর্তীতে পুলিশ কর্তৃক আহত শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার এবং লাইব্রেরি বন্ধ থাকার মতো ঘটনাগুলো দেশের সামগ্রিক উচ্চশিক্ষা খাতের ভঙ্গুর নিরাপত্তাব্যবস্থাকেই উন্মোচন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্তবুদ্ধি চর্চা, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং জ্ঞান বিতরণের কেন্দ্র; সেখানে পেশিশক্তি প্রদর্শন কিংবা মব জাস্টিসের কোনো স্থান থাকতে পারে না। সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক সমাজের এখন একটাই প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের মুখোশ উন্মোচিত হোক এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চিরতরে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার একটি সুস্থ পরিবেশ ফিরে আসুক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত