তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩ বার

প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নীলফামারীর তিস্তা নদীতে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে পানি দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার বেশ কয়েকটি চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত লালমনিরহাটের দোয়ানীতে অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২৮ সেন্টিমিটার। ওই পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা নির্ধারিত রয়েছে ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। ফলে নির্ধারিত সীমার চেয়ে ১৩ সেন্টিমিটার বেশি উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তার পানি।

গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির কারণে উজান থেকে নেমে আসা পানিতে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া এলাকায় ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে চাপ তৈরি হয়েছে এবং তীরবর্তী এলাকায় পানি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।

তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিমলা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, গয়াবাড়ী, খালিশা চাপানী ও ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলে পানি উঠেছে। একই সঙ্গে জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের বেশ কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নদীর পানি বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি বলে জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম জানান, নদীর পানি বাড়লেও চরাঞ্চলের কোনো বাড়িঘরে এখনো পানি প্রবেশ করেনি। তবে কিছু এলাকায় রোপা আমনের খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের মধ্যে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেলে সবচেয়ে আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নদীর আশপাশের চরাঞ্চলের মানুষ। এসব এলাকার বাসিন্দারা প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনের ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

খালিশা চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সহিদুজ্জামান সরকার জানান, সকাল থেকে নদীর পানি বাড়লেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। তবে ইউনিয়নের বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হয়েছে। তিনি বলেন, পানি আরও বাড়লে মানুষের চলাচল ও কৃষিকাজে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

তিস্তার পানি বৃদ্ধির ঘটনায় নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি নজরদারিতে রেখেছে। নদীর পানি আরও বাড়লে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি বেড়েছে। তবে উজানে ভারতের অংশে তিস্তা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার অনেক নিচে রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে আছে।

তিনি বলেন, তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই খুলে রাখা হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিচের দিকে প্রবাহিত হতে পারে। বর্তমানে বড় ধরনের কোনো আশঙ্কা নেই। তবে নদীর পানি পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিস্তা বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্ত নদী। বর্ষা মৌসুমে উজানের পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে প্রতিবছরই এ নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন চরাঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েন। একদিকে যেমন ফসল ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, অন্যদিকে নদীভাঙন ও বসতভিটা হারানোর ভয়ও থাকে এসব এলাকার মানুষের।

স্থানীয়দের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, নদীর পানি দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকলে কৃষি জমির ক্ষতি বাড়তে পারে। বিশেষ করে চলতি মৌসুমের আমন চাষের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। তবে পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ কম হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবহাওয়া পরিস্থিতি ও নদীর পানি প্রবাহের ওপর নির্ভর করে আগামী কয়েক ঘণ্টায় তিস্তার পানি পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। তাই নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত