চৌমুহনীতে বিএনপি নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৯ বার
চৌমুহনীতে বিএনপি নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ব্যস্ততম চৌমুহনী বাজারে এক রোমহর্ষক ও নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এবং স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হাজী আবুল কাশেমকে (৬০) সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্য করে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা অতর্কিত গুলি চালায়। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট সেই প্রাণঘাতী গুলি বিএনপি নেতার গায়ে সরাসরি না লেগে তার জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসা এক বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বুক ভেদ করে চলে যায়। এই আকস্মিক ও সশস্ত্র হামলার ঘটনায় পুরো চৌমুহনী বাজার এবং এর আশেপাশের ব্যবসায়িক এলাকায় চরম আতঙ্ক, থমথমে পরিবেশ ও তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত বিবরণী এবং পুলিশি সূত্রে জানা যায় যে, ঘটনার দিন রাতে হাজী আবুল কাশেম তার দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি চৌমুহনী বাজারের নোয়াখালী জাতীয় হকার্স সমবায় সমিতি লিমিটেডের কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে উক্ত সমবায় সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ব্যবসায়িক ও দাপ্তরিক কাজ শেষ করে রাত তখন পৌনে বারোটার দিকে তিনি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী, চৌমুহনী হকার্স মার্কেটের বিশিষ্ট ফার্মেসি ব্যবসায়ী ইয়াছিন সেন্টুসহ (৪৫) কার্যালয় থেকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে বের হয়ে আসেন।
তারা দুজনে একত্রে কথা বলতে বলতে এবং হেঁটে হেঁটে চৌমুহনী বাজারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হকার্স মার্কেটের মূল গলির ওবায়দুলের চায়ের দোকানের সামনে এসে পৌঁছান। ঠিক সেই মুহূর্তেই ওত পেতে থাকা সশস্ত্র ও অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আকস্মিকভাবে হাজী আবুল কাশেমকে টার্গেট করে একের পর এক লক্ষ্যস্থির করে গুলি ছুড়তে শুরু করে। ঠিক সেই বিপদের মুহূর্তে চরম সাহসিকতার পরিচয় দেন তার অনুগত সহযোগী ইয়াছিন সেন্টু। তিনি কালক্ষেপণ না করে দ্রুত এগিয়ে এসে বিএনপি নেতা হাজী আবুল কাশেমকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে বুলেটের সুনির্দিষ্ট নিশানা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন।
সহযোগীর এই অতর্কিত ও বীরত্বপূর্ণ ধাক্কায় বিএনপি নেতা হাজী আবুল কাশেমের প্রাণ রক্ষা পেলেও তার ডান হাতে বুলেটের সামান্য আঁচড় লাগে। কিন্তু রক্ষা করা যায়নি ইয়াছিন সেন্টুকে। দুর্বৃত্তদের ছোড়া একটি শক্তিশালী গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সরাসরি এসে আঘাত করে ইয়াছিন সেন্টুর বুকের বাম পাশে। মুহূর্তের মধ্যে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং পুরো এলাকা এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। গুলির বিকট শব্দে রাতের চায়ের দোকান ও আশপাশের রাস্তাঘাট মুহূর্তের মধ্যে ফাঁকা হয়ে যায় এবং স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করার চেষ্টা চালান।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় উৎসুক জনতা ও ব্যবসায়ীরা গুরুতর আহত অবস্থায় ইয়াছিন সেন্টুকে দ্রুত চৌমুহনী থেকে উদ্ধার করে অবিলম্বে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পন্ন করেন। তবে তার আঘাত অত্যন্ত গুরুতর এবং বুকের সুবেদী স্থানে বুলেটবিদ্ধ হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিংবা অন্য কোনো বিশেষায়িত উন্নত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে চিকিৎসকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে চাঞ্চল্যকর এই সশস্ত্র হামলার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান যে, দুর্বৃত্তদের অতর্কিত গুলিতে একজন সাধারণ ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক কর্মীর সহযোগী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করার জন্য নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। খুব শীঘ্রই অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) আনম ইমরান খান গণমাধ্যমকে জানান যে, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশের একটি বিশেষ টিম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে পুলিশ ধারণা করছে যে, সুনির্দিষ্টভাবে বিএনপি নেতা হাজী আবুল কাশেমকে হত্যা বা জখম করার উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ কিংবা ভুক্তভোগী পরিবার কিংবা রাজনৈতিক মহলের পক্ষ থেকে এই হামলার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা নেপথ্যের নেতার নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানানো সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার পেছনে পূর্ব শত্রুতা, স্থানীয় বাজার আধিপত্য বিস্তার কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক বিরোধ কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত