ফেসবুক Ads-এ যুক্ত হচ্ছে বিকাশ পেমেন্ট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৬ বার
ফেসবুক Ads-এ যুক্ত হচ্ছে বিকাশ পেমেন্ট
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় দেশের তরুণ প্রজন্ম ও উদীয়মান উদ্যোক্তারা যখন তথ্যপ্রযুক্তির হাত ধরে এক নতুন অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছেন, ঠিক সেই সময়ে ই-কমার্স ও এফ-কমার্স খাতের জন্য এক দারুণ আশাব্যঞ্জক ও স্বস্তিদায়ক খবর সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা তথা ফেসবুক তাদের বিজ্ঞাপনী প্ল্যাটফর্মে পেমেন্ট বা লেনদেন করার মাধ্যম হিসেবে বাংলাদেশের সর্বজনপ্রিয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিকাশকে যুক্ত করার একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের লাখ লাখ ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী এবং ফেসবুক পেজভিত্তিক উদ্যোক্তারা তাদের ডিজিটাল মার্কেটিং ও বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করতে গিয়ে নানা ধরনের জটিলতা ও আর্থিক বাধার মুখে পড়ছিলেন। মেটার বিজ্ঞাপনী ব্যবস্থাপক বা অ্যাডস ম্যানেজারে স্থানীয় এই জনপ্রিয় পেমেন্ট পদ্ধতি যুক্ত হওয়ার খবরে ডিজিটাল ব্যবসায়ীদের মনে নতুন করে আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক ই-কোসিস্টেমকে আরও গতিশীল করতে এক বিরাট অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যদিও প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটার পক্ষ থেকে এখনো এই সেবাটি চালুর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বা চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবুও বেশ কিছু লক্ষণ ও বাস্তব প্রমাণ এরই মধ্যে উদ্যোক্তাদের মনে উদ্দীপনা তৈরি করেছে। বিভিন্ন ব্যবহারকারী ও উদ্যোক্তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা বিভিন্ন স্ক্রিনশট এবং ডিজিটাল তথ্যে দেখা গেছে যে ফেসবুকের অ্যাডস ম্যানেজার বা বিজ্ঞাপন অ্যাকাউন্টগুলোর ‘পেমেন্ট পদ্ধতি যোগ করুন’ অপশনে চিরাচরিত আন্তর্জাতিক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের পাশাপাশি খুব স্পষ্টভাবে বিকাশ অপশনটি প্রদর্শিত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পরীক্ষামূলক এই সুবিধাটি ব্যবহার করে দেশের কতিপয় ভাগ্যবান উদ্যোক্তা ইতোমধ্যেই সফলভাবে তাদের বিজ্ঞাপনের বিল বা পেমেন্ট পরিশোধ করতে পেরেছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে মেটা কর্তৃপক্ষ পর্দার আড়ালে বাংলাদেশের উদীয়মান বাজারটির বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য এই কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংযুক্তি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে, যা সফলভাবে সম্পূর্ণ হলে তা দেশের পুরো ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন বিজনেস কমিউনিটির জন্য এক যুগান্তকারী মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে।
এত দিন ধরে বাংলাদেশের ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের কাছে ফেসবুক বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করা ছিল একটি অত্যন্ত জটিল ও কষ্টসাধ্য প্রক্রিয়া। দেশের প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা নীতি এবং ব্যাংকিং প্রবিধান অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কার্ড বা ডুয়াল কারেন্সি সুবিধা পাওয়া সব নতুন উদ্যোক্তার জন্য সহজ ছিল না। ব্যাংকগুলোর নানা শর্ত পূরণ, ক্রেডিট কার্ডের বাৎসরিক ফি এবং ডলার এনডোর্সমেন্টের হ্যাপা পোহাতে গিয়ে অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বা নারী উদ্যোক্তা মারাত্মক হিমশিম খেতেন। বহু তরুণ উদ্যোক্তা কেবল সঠিক পেমেন্ট পদ্ধতির অভাবে তাদের ক্ষুদ্র ব্যবসাটিকে ঠিকমতো প্রসারিত করতে পারতেন না। অনেককে আবার বাধ্য হয়ে বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের এজেন্সির শরণাপন্ন হতে হতো, যা অতিরিক্ত খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি আস্থার সংকটও তৈরি করত। ফলে ফেসবুকের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনায় বিকাশ যুক্ত হওয়ার এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা খুব সহজেই কোনো ধরনের ব্যাংকিং জটিলতা ছাড়াই সরাসরি নিজেদের মোবাইল ওয়ালেট থেকে বিজ্ঞাপনের খরচ মেটাতে পারবেন।
দেশের ই-কমার্স এবং ফেসবুকভিত্তিক এফ-কমার্স বা ফেইসবুক কমার্স সেক্টর গত কয়েক বছরে যে হারে অপ্রতিরোধ্য গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা সত্যিই অভাবনীয়। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও হাজার হাজার নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা ফেসবুক পেজকে কেন্দ্র করে তাদের সফল ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। পোশাক, হস্তশিল্প, অর্গানিক খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অনলাইনভিত্তিক এই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো দেশের অর্থনীতিতে এক অনন্য অবদান রেখে চলেছে। এই ব্যবসায়গুলোর মূল প্রাণশক্তি হলো সঠিক গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং বা ফেসবুক অ্যাডস পরিচালনা করা। কিন্তু পেমেন্ট সংকটের কারণে এতদিন বিজ্ঞাপনের চাকা সচল রাখতে গিয়ে উদ্যোক্তাদের দমবন্ধ করা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো। বিকাশ পেমেন্ট পদ্ধতিটি সবার জন্য উন্মুক্ত ও স্থায়ীভাবে চালু হয়ে গেলে এই চিরচেনা ভোগান্তির স্থায়ী অবসান ঘটবে এবং যেকোনো সাধারণ উদ্যোক্তা তার স্মার্টফোনের সামান্য কয়েকটি ক্লিকের মাধ্যমেই তার ব্যবসায়ের প্রচারণার পথ সুগম করতে পারবেন।
বর্তমানে সুবিধাটি পরীক্ষামূলক বা বেটা স্টেজে থাকায় কবে নাগাদ এটি দেশের সকল ফেসবুক ব্যবহারকারী ও বিজ্ঞাপনদাতার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে মেটা যেভাবে দক্ষিণ এশিয়ার বাজারগুলোতে স্থানীয় ফিনটেক সলিউশনগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছে, তাতে খুব দ্রুতই সুসংবাদ পেতে পারে বাংলাদেশ। বিকাশ বা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির চেহারা সম্পূর্ণ পাল্টে যাবে। আন্তর্জাতিক কার্ডের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীলতা হ্রাসের পাশাপাশি এটি স্থানীয় ফিনটেক খাতের সক্ষমতাকেও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবে। দেশের অজস্র ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার মেধা, পরিশ্রম ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধাটি দূর হতে চলেছে। সবমিলিয়ে, ফেসবুকের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং একটি শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে অনন্য ভূমিকা পালন করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত