প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতীয় রাজনীতিতে হঠাৎ করেই এক চাঞ্চল্যকর ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ, জাতীয় নাগরিক পার্টির বা এনসিপির মুখপাত্র এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক সফল যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসেনের বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক আইনি নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি জনবহুল ও সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে বিথীকা বিনতে হোসেনের দেওয়া অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুতর কিছু মন্তব্যের জেরে এই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একজন জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে এমন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র কৌতূহল এবং আলোচনার ঝড় উঠেছে।
ঘটনার মূল সূত্রপাত ঘটে যখন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসেন একটি প্রকাশ্য সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রকাশ্যে দাবি করেন যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বা বিসিবির একজন পরিচালক হিসেবে তাঁর নিজের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সুগম বা সহজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহলের নিকট থেকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরাসরি তিন কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। তাঁর এই ধরনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউবসহ দেশের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে এবং সাধারণ নেটিজেনদের মধ্যে নানা ধরনের সমালোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। আসিফ মাহমুদের সমর্থক ও অনুসারীরা এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করতে থাকেন।

আইনি নোটিশ সূত্রে আরও জানা গেছে যে, এই ধরনের মানহানিকর ও ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর গত চার আগস্ট আসিফ মাহমুদের পক্ষ থেকে কয়েকজন প্রতিনিধি বিথীকা বিনতে হোসেনের সঙ্গে সরাসরি বা নানা মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। ওই সময় তাঁর কাছে অনুরোধ জানানো হয় যে, তিনি যেহেতু প্রকাশ্যে এত বড় একটি আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন, সেটির সপক্ষে যেন কোনো ধরনের তথ্য-প্রমাণ, নথিপত্র, অডিও বা ভিডিও ক্লিপ উপস্থাপন করেন। প্রথমদিকে তিনি এই বিষয়ে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলে জোরালো দাবি করলেও পরবর্তীতে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তিনি কোনো ধরনের দালিলিক প্রমাণ বা সত্যতার কোনো তথ্য উপস্থাপন করতে পারেননি। উপযুক্ত ও সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, এই পুরো অভিযোগটি ছিল সম্পূর্ণ মনগড়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার একটি সুদূরপ্রসারী অপচেষ্টা মাত্র।
গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনির মাধ্যমে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে এই আইনি নোটিশটি বিথীকা বিনতে হোসেনের দপ্তরে ও বাসভবনে পাঠানো হয়েছে। নোটিশে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ২০২৪ সালের আট আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের দশ ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড তাঁকে একজন পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য জননেতায় পরিণত করেছে। অথচ এমন একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো রকম সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ ছাড়াই প্রকাশ্য মাধ্যমে চাঁদা দাবির মতো গুরুতর মিথ্যা অভিযোগ তোলার কারণে তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান, পারিবারিক মর্যাদা এবং রাজনৈতিক সুনামের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
প্রেরিত আইনি নোটিশে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, এই ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার ও প্রকাশের কারণে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী গুরুতর দেওয়ানি ও ফৌজদারি দায় সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে পেনাল কোডের বা দণ্ডবিধির পাঁচশ ধারাসহ প্রযোজ্য অন্যান্য আইনি বিধানের অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার পূর্ণ সুযোগ রয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পর আগামী সাত দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বিথীকা বিনতে হোসেনকে বলা হয়েছে তিনি যেন অবিলম্বে তাঁর উত্থাপিত অভিযোগের সপক্ষে সমস্ত দালিলিক প্রমাণ প্রকাশ্যে উপস্থাপন করেন। অন্যথায় এই সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়ে লিখিতভাবে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে এবং একই সংবাদ মাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমান গুরুত্ব ও প্রচারের সঙ্গে সেই ক্ষমার বিষয়টি প্রকাশ করতে হবে। নির্ধারিত এই সাত দিনের মধ্যে যদি দাবিকৃত শর্তসমূহ পূরণ করা না হয়, তবে দেশের প্রচলিত প্রচলিত আইন অনুযায়ী উপযুক্ত আদালতে দেওয়ানি ও ফৌজদারী মামলা দায়ের করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।

এদিকে আইনি নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। ওই বিজ্ঞপ্তিতে তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, বিগত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রী মহল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে এই অভ্যুত্থানের মূল নেতৃত্ব এবং তরুণ বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে গভীর ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও চরিত্রহননের নোংরা খেলায় লিপ্ত রয়েছে। বিগত দুই বছর ধরে তাঁর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অবাস্তব অপবাদ ও কুৎসা রটানো হলেও এখন পর্যন্ত কেউ তাঁর বিরুদ্ধে একটিও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা সত্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। তিনি মনে করেন, এই ধরনের লাগাতার মিথ্যাচার ও অপপ্রচার কেবল ব্যক্তি আসিফ মাহমুদের সম্মানহানির জন্যই করা হচ্ছে না, বরং এটি মূলত সমগ্র জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সুমহান নেতৃত্ব, এর পবিত্র চেতনা এবং গণমানুষের অর্জিত ঐতিহাসিক অর্জনগুলোকে পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি গভীর চক্রান্তের অংশবিশেষ।
বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে আসিফ মাহমুদ দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে এই ধরনের যেকোনো মিথ্যাচার, অপপ্রচার এবং চরিত্রহননের প্রতিটি ঘৃণ্য অপচেষ্টার উপযুক্ত জবাব কেবল রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে নয়, বরং দেশের প্রচলিত আইনের কঠোর কাঠামোর মাধ্যমেই দেওয়া হবে। দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং সাধারণ জনতা এই ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে সত্য উন্মোচনের দাবি জানিয়েছে। চৌমুহনী ও মেহেরপুরের অন্যান্য সমসাময়িক ঘটনার পাশাপাশি রাজনৈতিক এই নতুন আইনি লড়াই এখন পুরো দেশের মানুষের নজর কেড়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে এই নোটিশের কী ধরনের জবাব আসে এবং সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসেন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো রাজনৈতিক মহল ও সচেতন দেশবাসী।