স্বর্ণের দাম ভরিতে প্রায় ১০ হাজার টাকা বেড়েছে

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩২ বার

প্রকাশ: ৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় মূল্য বৃদ্ধির ফলে ভোক্তাদের জন্য স্বর্ণের গহনা কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে।

এর আগে গত ৩১ জুলাই ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই দফায় ভালো মানের স্বর্ণের দাম বেড়েছে ১২ হাজার ৭২ টাকা। এতে দেশের সাধারণ ক্রেতা, বিয়ের বাজারের ক্রেতা এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৯ হাজার ৪৪৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৮ হাজার ১০৬ টাকা। এখন এই মানের স্বর্ণের গহনা কিনতে ক্রেতাকে দিতে হবে ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা।

এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও বেড়েছে। এই মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা, যা আগের চেয়ে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বেশি।

স্বর্ণের পাশাপাশি বেড়েছে রুপার দামও। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ২৯২ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের রুপার দামও একই পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা। ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪ হাজার ২৪ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩৩ টাকা।

স্বর্ণের বাজারে এই ধারাবাহিক মূল্য বৃদ্ধি দেশের গহনা ক্রেতাদের জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনের জন্য যারা স্বর্ণ কিনতে চান, তাদের বাজেট নতুন করে হিসাব করতে হচ্ছে। কারণ বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতায় স্বর্ণ শুধু অলংকার নয়, অনেক পরিবারের কাছে এটি সঞ্চয় ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচামালের দামের পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ওঠানামা করে। আন্তর্জাতিক বাজারে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এতে বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে এবং দামেও প্রভাব পড়ে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রানীতির পরিবর্তনও স্বর্ণের দামের ওপর প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশের স্বর্ণ বাজার মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হলেও স্থানীয় কিছু বিষয়ও দামের ওপর প্রভাব ফেলে। আমদানি ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার এবং সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়তে বা কমতে পারে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দাম বৃদ্ধির ফলে স্বর্ণের গহনার বিক্রি কিছুটা কমতে পারে। কারণ উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্রেতা প্রয়োজনীয় পরিমাণ স্বর্ণ কিনতে পারছেন না। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বিয়ের গহনা কেনার ক্ষেত্রে চাপ আরও বাড়ছে।

তবে ব্যবসায়ীদের মতে, স্বর্ণের চাহিদা পুরোপুরি কমে যায়নি। বাংলাদেশের সামাজিক সংস্কৃতিতে স্বর্ণের বিশেষ গুরুত্ব থাকায় মানুষ সামর্থ্য অনুযায়ী এখনো স্বর্ণ কিনছেন। অনেক ক্রেতা ভারী গহনার পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত হালকা ডিজাইনের গহনার দিকে ঝুঁকছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি শুধু গহনা বাজারেই প্রভাব ফেলে না, এটি মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা এবং বিনিয়োগ সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে। যখন অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ে, তখন অনেক মানুষ ব্যাংক বা অন্যান্য বিনিয়োগের পাশাপাশি স্বর্ণকে বিকল্প সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেন।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণের বাজার নিয়ন্ত্রণে মূল্য নির্ধারণে বাজুস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও স্থানীয় তেজাবী স্বর্ণের দামের ওপর ভিত্তি করে সংগঠনটি নিয়মিত স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে।

নতুন এই মূল্য বৃদ্ধির পর দেশের স্বর্ণ বাজারে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে দাম নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি। ক্রেতারা যেমন কম দামে স্বর্ণ কেনার সুযোগ প্রত্যাশা করছেন, তেমনি ব্যবসায়ীরা বলছেন আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই দাম নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, স্বর্ণের নতুন মূল্য দেশের বাজারে একটি বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। একদিকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও স্থানীয় বাজারের চাপ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে স্বর্ণের বাজার কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত