সর্বশেষ :

বিলিয়ন ডলার ক্লাবে নোলানের ‘দ্য ওডিসি’

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১২ বার
বিলিয়ন ডলার ক্লাবে নোলানের ‘দ্য ওডিসি’
প্রকাশ: ১০ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিশ্ব চলচ্চিত্রের রূপালী পর্দায় আবারও এক অনন্য ও জাদুকরী ইতিহাস রচনা করলেন বর্তমান সময়ের অন্যতম সফল ও প্রভাবশালী চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান। সেলুলয়েডের ফ্রেমে কালজয়ী সব গল্প বুনে বিশ্বজুড়ে সিনেমাপ্রেমীদের মন জয় করে নেওয়া এই ব্রিটিশ-আমেরিকান পরিচালক তার মেধা ও মুনশিয়ানার নতুন এক মুকুট যুক্ত করলেন নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের অমর সৃষ্টি এবং ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য হোমারের ‘দ্য ওডিসি’ অবলম্বনে নির্মিত ক্রিস্টোফার নোলানের বহু প্রতীক্ষিত সিনেমাটি মুক্তির মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্ব বক্স অফিসে এক অবিশ্বাস্য ও চমকপ্রদ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি দর্শকের উন্মাদনা, ভালোবাস এবং অভাবনীয় ব্যবসায়িক সাফল্যের হাত ধরে সিনেমাটির মোট বৈশ্বিক আয় ইতিমধ্যেই জাদুকরী এক বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়িয়ে গেছে। সিনেমা হলের অন্ধকার প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের পিনপতন নীরবতা এবং টিকিট কাউন্টারে উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ক্রিস্টোফার নোলানের জাদুকরী পরিচালনা এবং ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের আকর্ষণ আজও বিশ্বজুড়ে কতটা প্রবল ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
চলতি বছরের গত ১৭ জুলাই বিশ্বব্যাপী বড় পর্দায় মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই দর্শক মহলে এক বিরল উন্মাদনার সৃষ্টি করেছিল ‘দ্য ওডিসি’। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই বক্স অফিসের সমস্ত হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়ে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে সিনেমাটি। সর্বশেষ বক্স অফিস রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান পর্যন্ত শুধুমাত্র উত্তর আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজার থেকেই সিনেমাটি বিশাল অংকের অর্থাৎ প্রায় ৪২৯ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলার আয় করতে সক্ষম হয়েছে। এর পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারগুলো থেকেও সমানতালে এসেছে অভাবনীয় সাফল্য, যেখান থেকে অর্জিত হয়েছে আরও প্রায় ৫৭৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের এই আকাশচুম্বী সাফল্য একসঙ্গে যোগ করলে সিনেমাটির সর্বমোট বিশ্বব্যাপী আয় ইতিমধ্যেই এক বিলিয়ন ডলারের সোনালী মাইলফলক ছাড়িয়ে আরও ওপরে অবস্থান করছে। ক্রিস্টোফার নোলানের সুদীর্ঘ ও গৌরবান্বিত চলচ্চিত্র পরিচালনার ক্যারিয়ারে এই অসামান্য অর্জন একটি বিশেষ ও ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকল, যা তার মুকুটে নতুন এক উজ্জ্বল রত্ন যুক্ত করল।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষক ও বক্স অফিস বোদ্ধাদের মতে, দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর নোলান সাহেবের কোনো চলচ্চিত্র এই দুর্লভ বিলিয়ন ডলার ক্লাবের সদস্যপদ লাভ করল। এর আগে ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তার অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সাড়া জাগানো সুপারহিরো চলচ্চিত্র ‘দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস’ বিশ্ব বক্স অফিসে এক বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ চব্বিশ পরিক্রমায় নোলানের আর কোনো একক পরিচালনা বা ফ্র্যাঞ্চাইজির সিনেমা এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে দীর্ঘ এই বিরতির অবসান ঘটিয়ে আবারও সেই রাজকীয় সাফল্য ফিরিয়ে আনল ‘দ্য ওডিসি’। শুধু তাই নয়, বর্তমান গতির ধারা অব্যাহত থাকলে খুব দ্রুতই এই সিনেমাটি ক্রিস্টোফার নোলানের ক্যারিয়ারের সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয় করা বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে পরিণত হওয়ার গৌরব অর্জন করবে। ইতিমধ্যে নোলানেরই অমর সৃষ্টি হিসেবে সমাদৃত ‘দ্য ডার্ক নাইট’ এবং ‘দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস’-এর মতো ঐতিহাসিক সিনেমার বক্স অফিস রেকর্ড ভেঙে ফেলার একদম দ্বারপ্রান্তে বা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে রয়েছে ‘দ্য ওডিসি’।
সবচেয়ে রোমাঞ্চকর বিষয় হলো, ‘দ্য ওডিসি’-র এই অপ্রতিরোধ্য বক্স অফিসযাত্রা ও সাফল্যের রথ এখানেই থেমে থাকছে না বা এর শেষ সীমানায় এসে পৌঁছায়নি। চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম বৃহত্তম ও লাভজনক বাজার হিসেবে পরিচিত চীনের বাজারে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পায়নি এই মহাকাব্যিক সিনেমাটি। আগামী ১৪ আগস্ট চীনের কয়েক হাজার আধুনিক ও বিশাল প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চলচ্চিত্র বাজারে মুক্তির সুবাদে চীনের অগণিত দর্শকের উন্মাদনা এবং টিকিটের চাহিদাকে সঙ্গে নিয়ে সিনেমাটির বিশ্বব্যাপী মোট আয় আগামী দিনগুলোতে আরও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা জোরালো ধারণা করছেন। বিশ্ব বাজারের বড় একটি অংশ এখনও বাকি থাকতেই যদি এই সিনেমাটি এক বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলতে পারে, তবে চীনের বাজারে প্রদর্শিত হওয়ার পর এর চূড়ান্ত ব্যবসায়িক রেকর্ড কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা নিয়ে এখন থেকেই হলিউডের অন্দরমহলে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে।
গ্রিক সাহিত্যের প্রাচীন ইতিহাসের কালজয়ী ও কেন্দ্রীয় চরিত্র রাজা ওডিসিয়াসকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে এই মেগা বাজেটের সিনেমাটির মূল চিত্রনাট্য ও রোমাঞ্চকর কাহিনী। ট্রোজান যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী অধ্যায় শেষ করে সুদূর সমুদ্র পাড়ি দিয়ে নিজের জন্মভূমি ও প্রিয় রাজ্য ইথাকায় ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এক দীর্ঘ, দুর্গম ও চরম বিপৎসংকুল সমুদ্রযাত্রায় বের হন রাজা ওডিসিয়াস। দীর্ঘ সময় ধরে উত্তাল সাগরের দানবীয় ঢেউ, নানা অতিপ্রাকৃতিক বাধা এবং অসংখ্য প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং শেষ পর্যন্ত নিজের পরিবার ও প্রিয়জনদের কাছে অক্ষত শরীরে ফিরে যাওয়ার তীব্র আকাক্ষা ও হাহাকারই হয়ে উঠেছে এই পুরো গল্পের মূল চালিকাশক্তি। মানুষের মনের ভেতরের সুপ্ত সাহস, বেঁচে থাকার অদম্য জেদ এবং ভাগ্যের সঙ্গে লড়াইয়ের এই চিরন্তন রূপ অত্যন্ত নিখুঁত ও জীবন্ত করে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন নির্মাতা, যা দর্শকদের মনকে গভীরভাবে নাড়া দিতে সক্ষম হয়েছে।
সিনেমাটির বাণিজ্যিক সাফল্যের পেছনে এর দুর্দান্ত ও তারকাবহুল কাস্টিং বা অভিনয়শিল্পীদের অসামান্য অবদান রয়েছে, যা দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে টেনে আনতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। এই মহাকাব্যিক চলচ্চিত্রে কেন্দ্রীয় চরিত্র অর্থাৎ রাজা ওডিসিয়াসের ভূমিকায় অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী অভিনয় করে বিশ্ববাসীর মন জয় করে নিয়েছেন অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেতা ম্যাট ডেমন। তার পাশাপাশি এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন বর্তমান সময়ের বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও জনপ্রিয় বেশ কজন তারকা। ম্যাট ডেমনের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন অস্কারজয়ী প্রতিভাবান অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ে, তরুণ প্রজন্মের হার্টথ্রব ও জনপ্রিয় অভিনেতা টম হল্যান্ড, গ্ল্যামার ও অভিনয়ের দারুণ দ্যুতি ছড়ানো তারকা জেন্ডায়া, সুপরিচিত অভিনেতা রবার্ট প্যাটিনসন এবং হলিউডের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী শার্লিজ থেরনের মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা। প্রত্যেকেই নিজ নিজ চরিত্রের গভীরতা বজায় রেখে অত্যন্ত মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন, যা সিনেমাটির মানকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
চলতি বছরের বক্স অফিসের সার্বিক হিসাব করলে দেখা যায় যে, বর্তমান ২০২৬ সাল জুড়ে হলিউড অঙ্গনে বেশ কিছু দারুণ ও ব্যবসাসফল সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বা সমপরিমাণ অর্থ আয় করা চলচ্চিত্রের তালিকায় পঞ্চদশ বা পঞ্চম সিনেমা হিসেবে নিজের নাম লিখিয়ে নিল ‘দ্য ওডিসি’। এর আগে চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে মুক্তিপ্রাপ্ত অ্যানিমেশন ও লাইভ-অ্যাকশন ঘরানার বেশ কয়েকটি সিনেমা এই অভিজাত বিলিয়ন ডলার ক্লাবে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিয়েছিল। এই তালিকায় ইতিপূর্বে অত্যন্ত সফলভাবে স্থান করে নিয়েছে দর্শকপ্রিয় সিনেমা ‘স্পাইডার-مان: ব্র্যান্ড নিউ ডে’, বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী অ্যানিমেশন মাস্টারপিস ‘টয় স্টোরি ৫’, দুর্দান্ত ব্যবসা করা ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’ এবং সংগীতের বরপুত্রকে নিয়ে নির্মিত বায়োপিক ‘মাইকেল’। এসব বাঘা বাঘা ও জনপ্রিয় সব সিনেমার ভিড়ে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ তার স্বকীয়তা, মহাকাব্যিক পটভূমি এবং শক্তিশালী নির্মাণশৈলীর কারণে নিজের একটি স্বতন্ত্র ও গৌরবোজ্জ্বল স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত