সর্বশেষ :

হাদি হত্যায় অভিযুক্তদের ফেরাতে ভারতের প্রতি অনুরোধ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১১ বার
হাদি হত্যায় অভিযুক্তদের ফেরাতে ভারতের প্রতি অনুরোধ
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র। কূটনীতি ও ভূ-রাজনীতির চলমান নানা সমীকরণের মধ্যেই সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হওয়া এই বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বিগত দিনে সংঘটিত কিছু চাঞ্চল্যকর অপরাধের বিচার এবং পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক তাগিদ। কূটনৈতিক মহলের মতে, দুই দেশের মধ্যকার অমীমাংসিত ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলো সুরাহা করার ক্ষেত্রে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে পৌঁছালে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে অত্যন্ত উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকের একেবারেই শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে তাঁর নতুন কর্মস্থলে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশে সফলভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য শুভকামনা ব্যক্ত করেন। এর জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় তাঁর বিগত দুই মাসের কার্যকালের নানা অভিজ্ঞতা, এদেশের মানুষের আতিথেয়তা এবং কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও গণমুখী করার বিষয়ে এই আলাপচারিতায় উভয় পক্ষই ঐকমত্য পোষণ করেন। শুভেচ্ছা বিনিময়ের পরপরই বৈঠকে দুই নিকট প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার অমীমাংসিত দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে অত্যন্ত খোলামেলা ও ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু হয়।
এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সবচাইতে বেশি যে বিষয়টি জোরালোভাবে আলোচিত হয়েছে, তা হলো পলাতক অপরাধীদের আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গ। বৈঠকের আলোচনায় অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ সরকার গভীরভাবে আশা করে ভারত সরকার খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে। এর পাশাপাশি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মর্মান্তিক একটি বিষয়ে ভারতের প্রতি জোরালো অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মতো একটি নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থেকে যারা সুকৌশলে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে, সেই সব পলাতক হত্যাকারীদের অবিলম্বে আটক করে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ভারতের প্রতি কঠোর ও আন্তরিক অনুরোধ জানানো হয়। দেশের বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি করার জন্য এবং শহীদ হাদির শোকার্ত পরিবার ও দেশবাসীর দীর্ঘদিনের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণের স্বার্থে অপরাধীদের এই প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত জরুরি বলে বৈঠকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেশী দুই দেশের বন্ধুত্বের দীর্ঘ ইতিহাসকে স্মরণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বহুদূর এগিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি দূর করতে এবং দীর্ঘমেয়ায়ী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে একটি উপযুক্ত, স্থিতিশীল ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত আবশ্যক। পারস্পরিক স্বার্থের সুরক্ষার পাশাপাশি সার্বভৌমত্ব ও সম্মানের জায়গাকে অক্ষুণ্ণ রেখে দুই দেশ কীভাবে যৌথভাবে কাজ করতে পারে, সেই রূপরেখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে উভয় দেশের নীতিনির্ধারকদের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি করার বিষয়ে বৈঠকে ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে সন্ত্রাসবাদ দমন এবং অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও এই বৈঠকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই কূটনৈতিক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন দেশের পররাষ্ট্র নীতির সঙ্গে জড়িত শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারকরা। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অন্যদিকে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকেও হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে দূতাবাসের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উভয় পক্ষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নোট করে নেন এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে উদ্ভূত সমস্যাগুলোর একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ভারতের হাইকমিশনার বাংলাদেশের এই যৌক্তিক দাবি ও উদ্বেগের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন বলে জানা গেছে এবং তিনি এই বার্তাটি তাঁর দেশের সরকারের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত