সর্বশেষ :

স্বস্তির হাওয়া রিজার্ভে, পাঁচ দিনে বাড়ল ২৭৪ মিলিয়ন ডলার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩ বার
স্বস্তির হাওয়া রিজার্ভে, পাঁচ দিনে বাড়ল ২৭৪ মিলিয়ন ডলার
প্রকাশ:  ১০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘ লড়াই ও নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে এক দারুণ স্বস্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরে এসেছে, যা দেশের কোটি মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ এবং অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক হিসাব অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। বিগত বেশ কিছুদিন ধরে চলা অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে এই অর্জন দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রোববার এই নতুন ও স্বস্তিদায়ক তথ্যটি গণমাধ্যমের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও দায়িত্বশীল মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাঠানো সুনির্দিষ্ট ও হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, গত ৯ আগস্ট দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল মোট ৩৬ হাজার ৮৬৬ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য বিপিএম-৬ পদ্ধতি বা গাইডলাইন অনুসরণ করে হিসাব করলে এই রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩২ হাজার ৪৯ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার। বিশ্ব অর্থনীতির এই জটিল সমীকরণের মাঝেও দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিচক্ষণ পদক্ষেপে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার এভাবে শক্তিশালী হওয়া এক অভাবনীয় সাফল্যের ইঙ্গিত দেয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি ও সুচারু পর্যালোচনার তথ্যানুযায়ী, এর মাত্র পাঁচ দিন আগে অর্থাৎ গত ৪ আগস্ট দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার ৫৯২ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার। সেই হিসেবে মাত্র পাঁচ দিনের ছোট্ট একটি ব্যবধানে দেশের মোট গ্রস রিজার্ভে যুক্ত হয়েছে বিস্ময়করভাবে প্রায় ২৭৩ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বা আইএমএফের কঠোর ও নিখুঁত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা প্রকৃত রিজার্ভের সূচকও উর্ধ্বগামী হয়েছে। গত ৪ আগস্ট আইএমএফের সেই বিশেষ হিসাবে দেশের রিজার্ভ ছিল ৩১ হাজার ৭৭৬ দশমিক ২৭ মিলিয়ন ডলার, যা মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় বৃদ্ধি পেয়ে সোজা গিয়ে পৌঁছেছে ৩২ হাজার ৪৯ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রকৃত বা নিট পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিটি অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত ও নির্ভুল মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে। এই বিশেষ পদ্ধতিতে মোট রিজার্ভ বা বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল থেকে বিভিন্ন ধরনের স্বল্পমেয়াদি দায় বা দেনা বাদ দেওয়ার পর যে প্রকৃত অর্থ উদ্বৃত্ত থাকে, সেটিকে নিট রিজার্ভ হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। ফলে এই পদ্ধতিতে যখন রিজার্ভ বৃদ্ধির ইতিবাচক চিত্র ফুটে ওঠে, তখন তা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তির মজবুতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে লেনদেনের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বড় শিল্পপতিদের মনেও এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি নতুন কর্মচাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
সাম্প্রতিক এই উন্নতির পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অর্জিত রেমিট্যান্সপ্রবাহের গ্রাফ। দেশের বাইরে থাকা কোটি প্রবাসীর পাঠানো কষ্টার্জিত অর্থে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উৎসে এক দারুণ ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই জোরালো প্রবাহের কারণেই মূলত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে এই ঊর্ধ্বমুখী ও টেকসই ধারা দেখতে পাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। মুদ্রাবাজারের এই স্বস্তিদায়ক পরিবর্তন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ কমানো এবং দ্রব্যমূল্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে অর্থনীতিবিদরা জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত