সর্বশেষ :

ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতে চুপ্পুর বিরুদ্ধে অভিযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪ বার
ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতে চুপ্পুর বিরুদ্ধে অভিযোগ
প্রকাশ: ১০ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের আর্থিক খাতের ইতিহাসে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি ও ব্যাংক লুটের ঘটনাগুলোর এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ও জনপ্রিয় ইসলামী ব্যাংক পিএলসি থেকে সুকৌশলে জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির ঘটনায় দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এবং বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ মোট ৩৮ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি শক্তিশালী অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই অভিযোগ দায়েরের পর থেকে গোটা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায় যে, গত সোমবার দুপুরে ইসলামী ব্যাংকের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রাজধানীর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তসহ এই অভিযোগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দাখিল করা অভিযোগে অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৭ সালের দিকে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ কতৃর্পক্ষ এই ব্যাংকটির মালিকানা ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কুক্ষিগত করে। ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অব্যবহিত পরেই শুরু হয় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে নিয়মনীতি বহির্ভূতভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়ার সুদূরপ্রসারী পাঁয়তারা। এরই ধারাবাহিকতায় ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামক অত্যন্ত দুর্বল এবং নামমাত্র একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ঋণের সীমা চরম জালিয়াতি ও ক্ষমতার জোড়ে ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়।
ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও দুদকে পাঠানো নথিপত্র থেকে জানা যায় যে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পরবর্তী সময়ে অত্যন্ত সুকৌশলে ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযুক্ত সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড মূলত বহুল আলোচিত অ্যাননটেক্স গ্রুপের মোহাম্মদ ইউনুস বাদলের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। এই ধরনের দুর্বল ও ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে সম্পূর্ণ বেআইনি এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে এই বিশাল অঙ্কের ঋণ বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার নেপথ্যে প্রধান কারিগর হিসেবে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেছিলেন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এস আলম নিজে। তৎকালীন সময়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের অত্যন্ত প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এ ছাড়া ব্যাংকটির সাবেক তিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক যথাক্রমে মনিরুল মাওলা, আব্দুল হামিদ মিয়া এবং মাহবুব উল আলমসহ পর্ষদের অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এই অনৈতিক ও বেআইনি কাজের প্রতিটি পদক্ষেপে দাপ্তরিক অনুমোদন দিয়ে সহযোগিতার মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন বলে অভিযোগে জোরালোভাবে বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বা সাংবিধানিক উচ্চ পদে আসীন থেকেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন একটি আর্থিক অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ কীভাবে একটি দেশের আর্থিক ভিত্তিকে পঙ্গু করে দিয়েছে, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এই অনিয়ম ও দুর্নীতির গভীরতা নিরূপণের জন্য কেবল নিজেদের অভ্যন্তরীণ হিসাবের ওপর নির্ভর করেনি, বরং পুরোপুরি পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দেশের স্বনামধন্য মোট ৪টি শীর্ষস্থানীয় অডিট ফার্ম বা নিরীক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দীর্ঘ তদন্ত পরিচালনা করেছে। ওই নিরীক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চুলচেরা অডিট রিপোর্টে ব্যাংকটির তৎকালীন নীতিনির্ধারক ও পর্ষদ সদস্যদের এই ভয়াবহ দুর্নীতির সমস্ত অসঙ্গতি এবং লোপাট হওয়া অর্থের প্রবাহ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে খুঁজে পাওয়া গেছে। সংগৃহীত সেই অডিট রিপোর্ট এবং শক্ত প্রমাণাদি সংযুক্ত করেই দুদকে এই পূর্ণাঙ্গ অভিযোগপত্রটি দাখিল করা হয়েছে, যা অপরাধীদের আইনি কাঠামোর আওতায় আনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর জনগণের দীর্ঘদিনের আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের নজিরবিহীন লুটপাট সাধারণ মানুষের নৈতিক মনোবলকে মারাত্মকভাবে ধাক্কা দিয়েছে। আমানতকারীদের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে যেভাবে ক্ষমতার জোরে হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়া হয়েছে, তা আর্থিক অপরাধের এক অন্ধকার চিত্র ফুটিয়ে তোলে। দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার ক্ষেত্রে একটি বড় আইনি পদক্ষেপ গৃহিত হলো। সচেতন নাগরিক সমাজ ও অর্থনীতিবিদরা আশা প্রকাশ করছেন যে, নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্তের মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রতিটি রাঘববোয়ালকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং পাচার হওয়া বা আত্মসাৎকৃত প্রতিটি টাকা উদ্ধার করে ব্যাংকের কোষাগারে ফিরিয়ে আনা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত