গজারিয়ায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ১৫ লাখ টাকার ডাকাতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩১ বার
গজারিয়ায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ১৫ লাখ টাকার ডাকাতি
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার একটি প্রত্যন্ত ও শান্ত জনপদে রাতের গভীরতায় ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক, উদ্বেগ ও থমথমে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার ভিটিকান্দি গ্রামে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে সংঘবদ্ধ একটি সশস্ত্র ডাকাত দল এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর নিজ বাড়িতে হানা দিয়ে পরিবারের সমস্ত সদস্যকে অস্ত্রশস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জিম্মি অবস্থার সুযোগ নিয়ে প্রায় পনেরো লাখ টাকার নগদ অর্থ, মূল্যবান স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল অত্যন্ত সুকৌশলে লুট করে নিয়ে পালিয়ে যায়। রাতের আঁধারে সংঘটিত এই বর্বরোচিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সময় ডাকাতদের বাধা দিতে গেলে বাড়ির মালিক স্বপন শিকদারকে অত্যন্ত নির্মমভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়, যা এই লোমহর্ষক ঘটনাকে আরও বেশি মর্মান্তিক করে তুলেছে। রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে ঘটা এই আকস্মিক অপরাধমূলক কাণ্ডে এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবার এবং প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্য ও বিবরণে জানা যায় যে, ঘটনার দিন গভীর রাতে যখন ঘড়ির কাঁটায় ঠিক আড়াইটা বাজছিল, তখন এলাকার চারপাশ সম্পূর্ণ নিস্তব্ধ ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে নদীপথ ব্যবহার করে একটি ট্রলারযোগে চৌকস ও সংঘবদ্ধ চৌদ্দ থেকে পনেরো জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ব্যবসায়ী স্বপন শিকদারের বাড়ির ঘাটে এসে নোঙর করে। এরপর তারা অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সাথে বাড়ির বারান্দার প্রধান পকেট গেটের তালা ভেঙে ফেলেন এবং জোরপূর্বক বাড়ির অন্দরে প্রবেশ করেন। হঠাৎ এই অস্বাভাবিক শব্দ ও সাড়াশব্দ পেয়ে বাড়ির ভেতরে থাকা লোকজনের ঘুম ভেঙে যায় এবং তারা বুঝতে পারেন যে কোনো বড় ধরনের বিপদ বা অপরাধীচক্র তাদের বাড়িতে হানা দিয়েছে। চরম আতঙ্কিত হয়ে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের জীবন রক্ষার্থে তাৎক্ষণিকভাবে নিজ নিজ কক্ষের ভেতরে গিয়ে দরজায় ছিটকানি লাগিয়ে তা বন্ধ করে ফেলেন এবং ভেতরে নিরাপদ আশ্রয়ের চেষ্টা করেন।
কিন্তু সশস্ত্র ডাকাত দলের সদস্যরা অত্যন্ত পেশাদার অপরাধীর মতো সুসজ্জিত ও বেপরোয়া ছিল। তারা ঘরের বন্ধ দরজায় সজোরে আঘাত হেনে মুহূর্তের মধ্যে কক্ষগুলোর দরজা ভেঙে চুরমার করে ফেলে এবং ঘরের ভেতরে ঢুকে পরিবারের সকল সদস্যের মাথার ওপর ধারালো অস্ত্র ও পিস্তল ঠেকিয়ে অবর্ণনীয় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। বন্দুক ও অস্ত্রের নলের মুখে জিম্মি করে কাউকে কোনো ধরনের চিৎকার করার বা নড়াচড়া করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই ভীতিকর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ডাকাতরা আলমারি ও সুকেস ভেঙে নগদ দুই লাখ ত্রিশ হাজার টাকা, প্রায় ছয় ভরি ওজনের মহামূল্যবান স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করে। সব মিলিয়ে প্রায় পনেরো লাখ টাকারও বেশি মূল্যের মালামাল ও সম্পদ লুটের পর ডাকাত দল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পুনরায় নদীপথের ট্রলার ব্যবহার করে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে রাতের বেলাতেই নিরাপদে পালিয়ে যায়।
পরিবারের অসহায় সদস্যদের কান্নাকাটি এবং প্রাণ বাঁচানোর আকুতিতে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে খানখান হয়ে গেলেও আশপাশের প্রতিবেশীরা অস্ত্রধারী ডাকাতদের ভয়ংকর উপস্থিতির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কেউ এগিয়ে আসার সাহস পাননি। যাওয়ার সময় ডাকাত দলের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন বাড়ির সাহসী মালিক স্বপন শিকদার। তাঁকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করায় সন্ত্রাসীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও মারধর করে মারাত্মকভাবে জখম করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় গ্রামবাসী ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে এসে আহত স্বপন শিকদারকে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই ভিটিকান্দি গ্রামের সাধারণ মানুষের মাঝে এক ধরনের গভীর নিরাপত্তাহীনতা ও অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে পুলিশের নিয়মিত টহল জোরদার না থাকার কারণে অপরাধীরা এ ধরনের অপরাধ করে খুব সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা।
ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থানীয় দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছেন। গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসি নকীব আকরাম হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, স্থানীয় সচেতন জনসাধারণের মাধ্যমে এই দুঃসংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে এবং ঘটনাস্থলের পারিপার্শ্বিক আলামত সংগ্রহ করে অপরাধীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। সংঘবদ্ধ এই ডাকাত চক্রটিকে খুব শীঘ্রই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে। নদীপথ ব্যবহার করে ঘটে যাওয়া এই ধরনের চাঞ্চল্যকর অপরাধ দমনের জন্য এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত