প্রিমিয়ার লিগের যেসব রেকর্ড ভাঙা প্রায় অসম্ভব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৩ বার
প্রিমিয়ার লিগের যেসব রেকর্ড ভাঙা প্রায় অসম্ভব
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয়, রোমাঞ্চকর এবং জমজমাট ঘরোয়া টুর্নামেন্ট হিসেবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ বা ইমপিপলসের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা রয়েছে। ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ৩৪টি মৌসুমের পথপরিক্রমায় এই প্রতিযোগিতায় অগণিত তারকা ফুটবলার ও ঐতিহ্যবাহী ক্লাব তাদের অবিশ্বাস্য নৈপুণ্য ও পারফরম্যান্স দিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের বিমোহিত করেছে। সময়ের বিবর্তনে খেলার ধরন বদলেছে, টাকার ঝনঝনানি বেড়েছে এবং মাঠের লড়াই আরও বেশি গতিশীল ও ট্যাকটিক্যাল হয়ে উঠেছে। তবে এই দীর্ঘ যাত্রায় কিছু কিছু রেকর্ড এমন অবিশ্বাস্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে, যা বর্তমানের আধুনিক ফুটবলে দাঁড়িয়ে পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড় বা ক্লাবের পক্ষে ভাঙা প্রায় অসম্ভব এক দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানের ব্যস্ত ফুটবল সূচি, ইনজুরির ঝুঁকি এড়াতে খেলোয়াড়দের নিয়মিত বিশ্রাম দেওয়া, স্কোয়াড রোটেশন নীতি এবং প্রতিপক্ষের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে দাঁড়িয়ে এই ঐতিহাসিক রেকর্ডগুলোর অনেকগুলোই যে চিরকাল অক্ষত থেকে যেতে পারে, সে বিষয়ে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা একমত পোষণ করেছেন।
আসন্ন ২১ আগস্ট প্রিমিয়ার লিগের ৩৫তম মৌসুমের বাঁশি বাজার আগে ফুটবল বিশ্বের নজর তাই অতীতে গড়া সেই সমস্ত আকাশছোঁয়া অর্জনের দিকে, যা আজও রূপকথার মতো জীবন্ত হয়ে আছে। এই অসম্ভব রেকর্ডগুলোর তালিকার একেবারে শীর্ষে রয়েছে সর্বকালের সেরা গোলদাতা অ্যালান শিয়ারারের ২৬০টি গোলের পাহাড়সম রেকর্ড। ২০০৬ সালে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার আগে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্স এবং নিউক্যাসল ইউনাইটেডের জার্সিতে খেলে শিয়ারার প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। দীর্ঘ দুই দশক অতিক্রান্ত হওয়ার পরও তাঁর এই ২৬০ গোলের রেকর্ড কেউ ছুঁতে পারেনি। বর্তমান যুগে দ্বিতীয় স্থানে থাকা হ্যারি কেইন ২১৩ গোল করে প্রিমিয়ার লিগ ছেড়ে জার্মান বুন্দেসলিগায় পাড়ি জমানোর কারণে শিয়ারারের ধারেকাছে এখন কোনো সক্রিয় তারকা নেই। যদিও নরওয়ের তরুণ বিস্ময় আর্লিং হালান্ড যেভাবে গোল করে চলেছেন, তাতে ভবিষ্যতে হয়তো তাকে একজন সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জার হিসেবে দেখা যেতে পারে, তবুও এই বিশাল ব্যবধান ঘুচিয়ে রেকর্ড ভাঙা মুখের কথা নয়।
রেকর্ডের এই ধারাবাহিকতায় ক্লাবের সাফল্যের দিক থেকে চেলসির টানা ৮৬ ম্যাচ হোম ভেন্যুতে অপরাজিত থাকার রেকর্ডটি আজও ফুটবলারদের মনে বিস্ময় জাগায়। ২০০৪ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ স্টেডিয়াম প্রতিপক্ষের জন্য এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছিল। ক্লদিও রানিয়েরির হাত ধরে শুরু হওয়া এই অজেয় যাত্রা পরবর্তীতে স্পেশাল ওয়ান জোসে মরিনহোর অধীনে এক অবিশ্বাস্য উচ্চতা অর্জন করেছিল এবং পরবর্তী সময়ে আভ্রাম গ্রান্ট ও লুইস ফেলিপে স্কোলারির আমলেও তা অব্যাহত ছিল। দীর্ঘ সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ঘরের মাঠে কোনো ম্যাচ না হেরে চেলসি এক ইতিহাস গড়েছিল, যার যবনিকা টেনেছিল রবিন ফন পার্সির আর্সেনাল। ঠিক একইভাবে জোসে মরিনহোর কোচিংয়ে ২০০৪-০৫ মৌসুমে চেলসি রক্ষণভাগে যে প্রাচীর তৈরি করেছিল, তা প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। পেট্র চেক, জন টেরি, রিকার্দো কারভালহোদের নিয়ে গড়া সেই রক্ষণ পুরো ৩৮ ম্যাচের মৌসুমে মাত্র ১৫টি গোল হজম করেছিল এবং অবিশ্বাস্যভাবে ২৫টি ম্যাচে ক্লিন শিট বা গোলশূন্য ব্যবধান বজায় রেখেছিল। পুরো মৌসুমে কোনো ম্যাচেই তারা একটির বেশি গোল হজম করেনি, যা বর্তমানের আক্রমণাত্মক ও হাই-প্রেস ফুটবলে অসম্ভব এক ব্যাপার।
অন্যদিকে, পেপ গার্দিওলার দুর্দান্ত ম্যানচেস্টার সিটি ২০১৭-১৮ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে প্রথম এবং একমাত্র দল হিসেবে ১০০ পয়েন্ট অর্জনের রেকর্ড গড়েছিল। ৩৮ ম্যাচের সেই মৌসুমে সিটি ৩২টি জয়, ৪টি ড্র ও মাত্র ২টিতে হেরে মোট একশ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছিল এবং ১০৬টি গোল করার পাশাপাশি তাদের গোল ব্যবধান ছিল প্লাস উনআশি। মৌসুমের একদম শেষ মুহূর্তে সাউদাম্পটনের বিপক্ষে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের অন্তিম মুহূর্তের গোলেই এই ঐতিহাসিক শততম পয়েন্ট নিশ্চিত হয়েছিল। এর কাছাকাছি গিয়ে লিভারপুল ২০১৯-২০ মৌসুমে ৯৯ পয়েন্ট পেলেও সিটির সেই রাজকীয় রেকর্ড অক্ষতই থেকে যায়। আর আর্সেন ওয়েঙ্গারের অধীনে ২০০৩-০৪ মৌসুমে আর্সেনালের ‘ইনভিন্সিবল’ বা অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গল্প তো রূপকথার চেয়েও বেশি কিছু। পুরো ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থেকে লিগ শিরোপা জেতার সেই যাত্রার পর তারা টানা ৪৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার গৌরব অর্জন করেছিল, যা ১০০ পয়েন্টের ম্যানচেস্টার সিটি বা ৯৯ পয়েন্টের লিভারপুলও ভাঙতে পারেনি।
ব্যক্তিগত মাইলফলক ও ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে জেমস মিলনারের ৬৫৮ ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি আধুনিক ফুটবলে এক অবিশ্বাস্য শারীরিক ফিটনেসের নজির স্থাপন করেছে। ২০০২ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে লিডস ইউনাইটেডের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক হওয়া মিলনার দীর্ঘ ২৪টি মৌসুম খেলে ২০২৬ সালের জুনে ব্রাইটনের হয়ে যখন বুটজোড়া চিরতরে তুলে রাখেন, তখন তাঁর নামের পাশে যোগ হয় এই আকাশছেোঁয়া ম্যাচ সংখ্যা। দুই দশক ধরে প্রিমিয়ার লিগের মতো কঠিন ও দ্রুতগতির লিগে গুরুতর চোট এড়িয়ে টানা খেলে যাওয়া যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই চরম ধৈর্যের বিষয়। একইভাবে ২০০৮-০৯ মৌসুমে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলরক্ষক এডউইন ফন ডার সার টানা ১৩১১ মিনিট কোনো গোল হজম না করে প্রিমিয়ার লিগে টানা ১৪টি ক্লিন শিট রাখার যে রেকর্ড গড়েছিলেন, তা বর্তমানের এই ফরোয়ার্ড-ডোমিনেটেড ফুটবলে কল্পনা করাও কঠিন। এছাড়া ২০০১ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে আর্সেনালের টানা ৫৫ ম্যাচে গোল করার এবং ২০০৭ সালে পোর্টসমাউথ ও রিডিংয়ের মধ্যকার সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ১১টি গোল হওয়ার রেকর্ডগুলো প্রমাণ করে যে প্রিমিয়ার লিগ কতটা নাটকীয় ও রোমাঞ্চে ভরপুর হতে পারে। এই রেকর্ডগুলোর প্রতিটিই একেকটি মহাকাব্য, যা নতুন প্রজন্মের জন্য এক অপরাজিত চ্যালেঞ্জ হয়ে যুগের পর যুগ টিকে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত