প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় ম্যালেরিয়া বহনকারী মশার শরীরে রোগটির পরজীবী শনাক্ত হওয়ার পর দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। মশাবাহিত এ রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এ সতর্কতা জারি করা হয়।
কোরিয়া ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এজেন্সি (কেডিসিএ) জানিয়েছে, ২৭ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত দেশটির উত্তরাঞ্চলের পাজু ও ইয়েনচিওন কাউন্টি থেকে সংগ্রহ করা অ্যানোফিলিস মশার নমুনায় ‘প্লাজমোডিয়াম ভাইভ্যাক্স’ ম্যালেরিয়া পরজীবীর জেনেটিক উপাদান পাওয়া গেছে।
কেডিসিএর মতে, ম্যালেরিয়া বাহক মশার শরীরে পরজীবীর উপস্থিতি শনাক্ত হওয়া সংক্রমিত মশার কামড়ে মানুষের ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্কতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ম্যালেরিয়া বাহক মশার সংখ্যা বাড়তে থাকায় গত ২২ জুন একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল কেডিসিএ। পরবর্তী সময়ে মশার উপদ্রব ও ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দেশটির পাঁচটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়।
তবে চলতি বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় কম রয়েছে। কেডিসিএর তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত দেশটিতে ২০১ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৫৫ জন। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি সাধারণত উত্তর কোরিয়ার সীমান্তবর্তী ডিমিলিটারাইজড জোন (ডিএমজেড) সংলগ্ন এলাকায় বেশি থাকে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিধি ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
এবারের সতর্কতা এমন এক সময়ে জারি হলো, যখন দক্ষিণ কোরিয়ায় তীব্র গরম চলছে। কেডিসিএ জানিয়েছে, অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে গত বছরের তুলনায় এবার ম্যালেরিয়া বাহক মশার ঘনত্ব কম রয়েছে। তবে তাপমাত্রা কমে গেলে মশার প্রজনন ও বিস্তার আবার বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের রাতে বাইরে অবস্থান কমানোর পরামর্শ দিয়েছে। বাইরে প্রয়োজনীয় কাজে বের হলে শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরা এবং মশা নিরোধক স্প্রে বা মশারি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া জ্বর, কাঁপুনি কিংবা ম্যালেরিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানোর আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করা ব্যক্তিদের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কম হলেও বাহক মশার মধ্যে ম্যালেরিয়া পরজীবীর উপস্থিতি নতুন করে সতর্ক হওয়ার কারণ। তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মশার বিস্তার রোধ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা—দুই ক্ষেত্রেই সতর্কতা বজায় রাখা প্রয়োজন।