প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশে স্নায়ুরোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারণে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নতুন ৫০০ শয্যা যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে হাসপাতালটির মোট শয্যাসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১ হাজারে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাসপাতালের নবনির্মিত ভবনটির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পরই নতুন ভবনে রোগীদের চিকিৎসাসেবা চালু করার কথা রয়েছে।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন ভবনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অধিকাংশ চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। নতুন অবকাঠামো চালু হলে শয্যাসংকটের কারণে বর্তমানে যেসব রোগীকে ফিরিয়ে দিতে হয়, তাদের একটি বড় অংশকে চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
নবনির্মিত ভবনটি তিনটি বেজমেন্টসহ মোট ১৫ তলা। বেজমেন্টের তিনটি তলায় পার্কিং ও বিভিন্ন সার্ভিস কার্যক্রমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওপরের ১২ তলায় রয়েছে রোগীদের ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার এবং বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক ইউনিট।
নতুন ভবনে ৪০টি আইসিইউ বেড, ২০টি এইচডিইউ বেড, ২৪টি পোস্ট-অপারেটিভ বেড এবং ১১২টি কেবিন রয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য ১০০ শয্যার একটি ট্রমা ইউনিট রাখা হয়েছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের সুবিধা থাকবে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্তদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এরপর রয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া রোগী। পাশাপাশি পার্কিনসন্স, ডিমেনেশিয়া, গিলিয়ান-বারে সিনড্রোম (জিবিএস), মৃগী, হাইড্রোকেফালাসসহ বিভিন্ন নিউরোলজিক্যাল রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
নতুন নিনস ইউনিট-২ ভবনে পুরোপুরি সেন্ট্রাল এসি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে এ ধরনের সুবিধা দেশে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে।
ট্রমা ইউনিটের চারটি অপারেশন থিয়েটারের মধ্যে দুটি মডুলার ওটি। নিয়ন্ত্রিত ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশে অস্ত্রোপচারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এসব অপারেশন থিয়েটারে জার্মান প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
মাথা বা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশে আঘাত পাওয়া রোগীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নতুন ভবনে রোগী স্থানান্তরের বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এক থেকে তিনতলা পর্যন্ত রয়েছে স্কেলেটর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে রোগী পরিবহণে এমন সুবিধাও প্রথমবার যুক্ত হয়েছে।
নতুন ভবনে ৬২টি ভেন্টিলেটর, একটি ক্যাথল্যাব, দুটি এমআরআই এবং দুটি সিটি স্ক্যান মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করতে অত্যাধুনিক অটোক্লেভ মেশিন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সলিড ওয়েস্ট ডিসপোজাল সিস্টেম এবং পৃথক অক্সিজেন প্ল্যান্টও রাখা হয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার নতুন ভবনটির উদ্বোধন করবেন। এর মাধ্যমে হাসপাতালের সক্ষমতা আরও বাড়বে এবং চিকিৎসাসেবায় ৫০০ নতুন শয্যা যুক্ত হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে নির্ধারিত শয্যার বাইরে রোগী ভর্তি করার সুযোগ না থাকায় অনেক রোগীকে ফিরিয়ে দিতে হয়। নতুন ভবন চালু হলে সেই চাপ অনেকটাই কমবে এবং আরও বেশি রোগীকে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
পরিচালক জানান, দেশে নিউরো রোগীদের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। নতুন ভবন চালুর মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসা সক্ষমতা আরও এক ধাপ বাড়ল।