হাসিনার প্রত্যার্পণ নয়, তারেকের সফরেই দিল্লির নজর

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬৬ বার

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ ইস্যুতে আপাতত অস্বস্তি বাড়ানোর বদলে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি। পাঁচ মাস আগে পাঠানো ভারতের আমন্ত্রণে ঢাকা ইতিবাচক সাড়া দিক—এমন প্রত্যাশা রয়েছে দিল্লির। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ব্রিকস বৈঠকের আগে সফরটি হলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণকে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের প্রধান বাধা হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় ভারত। সেই প্রক্রিয়ায় তারেক রহমানের ভারত সফরকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে নয়াদিল্লি।

ভারতের পক্ষ থেকে প্রায় পাঁচ মাস আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাতে সাড়া দেয়নি ঢাকা। এরই মধ্যে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ব্রিকস বৈঠকের সময় ঘনিয়ে আসছে। ফলে তার আগে সফর হলে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কূটনৈতিক মহলের ধারণা, তারেক রহমানের ভারত সফর হলে শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হতে পারে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, যোগাযোগ, নদীর পানি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো ইস্যু আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

একইভাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেদের উদ্বেগ, স্বার্থ ও প্রত্যাশার বিষয়গুলো তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

এদিকে নয়াদিল্লি আপাতত প্রকাশ্যে কোনো কঠোর অবস্থান না নিয়ে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। এরই মধ্যে ভারতের রাজ্যসভায় দেশটির বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিংয়ের দেওয়া বক্তব্যেও বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বার্তা পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের জবাবে কীর্তি বর্ধন সিং জানান, আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ আরও উন্নত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারতের রেল ও সড়ক যোগাযোগ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং সামগ্রিক সংযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন চললেও যোগাযোগ ও বাণিজ্যের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার এই বার্তাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছে কূটনৈতিক মহল।

অন্যদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের ওপর একাধিকবার চাপ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা প্রকাশ্যে বিষয়টি তুললেও নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এমন কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি, যাতে দ্রুত প্রত্যার্পণের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ফলে হাসিনার প্রত্যার্পণ দুই দেশের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অস্বস্তির কারণ হয়ে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারত চাইছে, একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে পুরো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আটকে না রেখে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে। তারেক রহমানের ভারত সফর সেই যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হতে পারে বলে মনে করছে নয়াদিল্লি।

তবে এই আমন্ত্রণের মধ্যে কূটনৈতিক বার্তাও রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তারেক রহমান সফরে গেলে তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ঢাকার জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা যদি আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের সরাসরি বৈঠকের সুযোগ অদূর ভবিষ্যতে পাওয়া কঠিন হতে পারে—এমন বার্তাও রয়েছে।

এখন তাই বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে নয়াদিল্লি। তারেক রহমান ভারত সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করলে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে রাজনৈতিক যোগাযোগের দরজা খুলতে পারে। আর সফরটি না হলে হাসিনার প্রত্যার্পণসহ বিদ্যমান অস্বস্তিগুলো আরও কিছু সময় ধরে সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে।

সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ প্রশ্নের পাশাপাশি এখন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর। সেপ্টেম্বরের ব্রিকস বৈঠকের আগে সেই সফর বাস্তবে রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন দুই দেশের কূটনৈতিক মহলের নজরে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com