গ্যাসের দাবিতে চট্টগ্রামে অটোরিকশাচালকদের অবরোধ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১১ বার
গ্যাসের দাবিতে চট্টগ্রামে অটোরিকশাচালকদের অবরোধ

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর এলাকায় গ্যাসের সংকটকে কেন্দ্র করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগে শুক্রবার সকালে সড়ক অবরোধ করেন চালকেরা। এতে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে নগরের ষোলশহর এলাকার ফসিল ফিলিং স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করার পর একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ চালকেরা সড়কে অবস্থান নেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর চালকেরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

চালকদের ভাষ্য, সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে যাঁদের প্রতিদিনের আয়-রোজগার নির্ভর করে, তাঁদের জন্য দীর্ঘ সময় গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শুধু সময়ের অপচয় নয়, সরাসরি জীবিকার সংকটও তৈরি করছে। গাড়িতে গ্যাস না থাকায় তাঁরা যাত্রী পরিবহন করতে পারছেন না। ফলে একদিকে যেমন আয় বন্ধ থাকছে, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় ফিলিং স্টেশনের সামনে অপেক্ষা করতে গিয়ে বাড়ছে নানা ধরনের ভোগান্তি।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার ভোর থেকেই ফসিল ফিলিং স্টেশনের সামনে গ্যাস নেওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশার দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সারি আরও দীর্ঘ হতে থাকে। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং তাঁরা সড়কে অবস্থান নিয়ে গ্যাস সরবরাহের দাবিতে প্রতিবাদ শুরু করেন।

সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ফসিল ফিলিং স্টেশনের সামনে গ্যাসের জন্য বিপুলসংখ্যক যানবাহন অপেক্ষা করছে। ছুটির দিন হওয়ায় নগরের অন্যান্য দিনের তুলনায় সড়কে যানবাহনের চাপ কিছুটা কম থাকলেও ফিলিং স্টেশনের আশপাশে দীর্ঘ সারির কারণে আলাদা পরিস্থিতি তৈরি হয়। চালকদের কয়েকজন জানান, তাঁরা শুধু কয়েক ঘণ্টা নয়, কেউ কেউ এক দিনেরও বেশি সময় ধরে গাড়ি নিয়ে সেখানে অপেক্ষা করছেন।

চালকদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ফিলিং স্টেশনের সামনে অবস্থান করেও তাঁরা গ্যাস পাচ্ছেন না। কখন সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্যও তাঁদের দেওয়া হচ্ছে না। ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাঁদের।

মোহাম্মদ হানিফ নামের এক অটোরিকশাচালক বলেন, ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গাড়ি নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। গ্যাস না থাকায় গাড়ি চালাতে পারছেন না। কখন গ্যাস পাওয়া যাবে, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। তাঁর কথায়, এভাবে দিনের পর দিন গাড়ি নিয়ে বসে থাকলে পরিবার নিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়ে।

চালকদের এই বক্তব্যে শুধু গ্যাসের সংকট নয়, তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের আর্থিক চাপের চিত্রও উঠে এসেছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা নগরের গণপরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাজার ও বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতের জন্য এসব অটোরিকশার ওপর নির্ভর করেন। ফলে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে এর প্রভাব চালকদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের ওপরও পড়ে।

একজন চালকের জন্য প্রতিদিন গাড়ি চালানো মানে নির্দিষ্ট সময় রাস্তায় থাকা এবং যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে আয় করা। কিন্তু দীর্ঘ সময় গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে সেই সময়টি আর আয় করার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। গ্যাসের সংকট দীর্ঘায়িত হলে তাঁদের দৈনিক আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের খরচ মেটানোও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

ফসিল ফিলিং স্টেশনের একজন কর্মকর্তা জানান, গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্টেশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তেমন কিছু করার নেই বলেও তিনি জানান।

ফলে সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি। ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় একদিকে যেমন বিপুলসংখ্যক গাড়ি অপেক্ষমাণ, অন্যদিকে চালকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কখন সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা স্পষ্ট না হওয়ায় অপেক্ষার সময়ও নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।

গ্যাসের দাবিতে সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পাঁচলাইশ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট সড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন চালকেরা। পরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করে। পুলিশের অনুরোধে চালকেরা সড়ক ছেড়ে চলে যান।

পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ দ্রুত শেষ হলেও গ্যাস সংকটের মূল সমস্যাটি তখনও সমাধান হয়নি। ফলে চালকদের মধ্যে আবারও অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও যদি সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

চট্টগ্রাম নগরের গণপরিবহন ব্যবস্থায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভূমিকা দীর্ঘদিনের। নগরের বিভিন্ন এলাকায় স্বল্প দূরত্ব থেকে শুরু করে তুলনামূলক দূরের গন্তব্যেও যাত্রীরা এসব যানবাহন ব্যবহার করেন। গ্যাসের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে শুধু অটোরিকশাচালকদের আয় নয়, নগরের পরিবহন ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

এ অবস্থায় চালকদের দাবি, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার পাশাপাশি সংকটের সময় ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরবরাহের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া প্রয়োজন। এতে চালকদের অনিশ্চয়তা কমবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ভোগান্তির শিকার হওয়ার পরিস্থিতিও কিছুটা এড়ানো সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সরবরাহ না থাকলে তাদের পক্ষে গ্যাস দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সরবরাহ ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ ফিলিং স্টেশনের সামনে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হলেও যদি মূল উৎস থেকে পর্যাপ্ত গ্যাস না আসে, তাহলে স্টেশন কর্তৃপক্ষের পক্ষেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

শুক্রবারের এই ঘটনায় বড় ধরনের সংঘর্ষ বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকদের সঙ্গে কথা বলায় অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি অবরোধমুক্ত হয়। তবে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গ্যাসের অপেক্ষায় থাকা চালকদের দুর্ভোগই বলে দিচ্ছে, সংকটটি তাঁদের কাছে কতটা গুরুতর।

একদিকে জ্বালানির সংকট, অন্যদিকে প্রতিদিনের আয়-রোজগারের অনিশ্চয়তা—এই দুইয়ের চাপে থাকা অটোরিকশাচালকদের জন্য দ্রুত সমাধান এখন সবচেয়ে জরুরি। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে শুধু চালকদের কর্মজীবনই স্বাভাবিক হবে না, নগরের যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থাতেও ফিরবে স্বস্তি। তাই ষোলশহরের এই ঘটনাকে সাময়িক সড়ক অবরোধ হিসেবে দেখার পাশাপাশি নগরের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত