চান্দিনায় ঘরে ঢুকে গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ বার
চান্দিনায় ঘরে ঢুকে গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় নিজ বাড়িতে ঢুকে বীনা রানী রায় (৫৮) নামে এক গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বরকইট ইউনিয়নের বরকইট দক্ষিণপাড়া শীল বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

নিহত বীনা রানী রায় ওই গ্রামের দিলীপ কুমার রায়ের স্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। তাঁর স্বামী দিলীপ কুমার রায় পাশের একটি দোকানে চা পান করতে গিয়েছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে চাকরি করায় নিয়মিতভাবে বাড়িতে থাকা সম্ভব হয় না।

নিহতের ছেলে তাপস রায় জানান, প্রতিদিনের মতো তাঁর মা সন্ধ্যায় পূজা-অর্চনা শেষে ঘরে বসে টেলিভিশন দেখছিলেন। এ সময় তাঁর বাবা বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের একটি দোকানে চা পান করতে যান। এর কিছুক্ষণ পরই অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ঘরে প্রবেশ করে তাঁর মায়ের ওপর হামলা চালায় বলে পরিবারের অভিযোগ।

তাপস রায়ের ভাষ্য, হামলাকারীরা তাঁর মায়ের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে। একপর্যায়ে তাঁর মায়ের চিৎকার শুনতে পান পাশের ঘরে থাকা এক জ্যাঠা। তিনি বাড়ির অন্য লোকজনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় বীনা রানী রায়কে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আকস্মিক এই ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

তাপস রায় বলেন, কারা কী কারণে তাঁর মায়ের ওপর হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে পরিবারের সদস্যদের দাবি, হামলাটি পরিকল্পিতভাবে হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহতের পরিবারের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। বরকইট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরে আলম বলেন, স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

এদিকে, বাড়িতে প্রবেশ করে একজন নারীকে এভাবে হামলা চালিয়ে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনার সময় বাড়িতে অন্য কেউ না থাকায় হামলাকারীরা কীভাবে সেখানে প্রবেশ করেছিল, তাদের সংখ্যা কত ছিল এবং হামলার পর কোন পথে তারা পালিয়ে গেছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্তে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের আলামত এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের পাশাপাশি জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে এখনো এ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হয়নি। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে জানিয়েছে।

একটি শান্ত সন্ধ্যায় পূজা-অর্চনা শেষে ঘরে বসে থাকা বীনা রানী রায়ের ওপর আকস্মিক হামলা এবং পরে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। একই সঙ্গে এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্ত শেষ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা হবে।

তবে ঘটনাটি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। হত্যার পেছনে পূর্বশত্রুতা, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত