ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি শুরু, বৈঠক প্রশাসনের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬ বার
ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি শুরু, বৈঠক প্রশাসনের

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বশীল ছাত্র সংসদকে ঘিরে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনা সামনে আসায় ক্যাম্পাসে এ নিয়ে আগ্রহও বাড়ছে। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার প্রথম প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সভায় নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, শিক্ষার্থী ও সক্রিয় ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং আবাসিক হলগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলকভাবে আয়োজন করতে হলে আগে ক্যাম্পাসের সামগ্রিক পরিবেশ সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা প্রয়োজন। বিশেষ করে আবাসিক হলগুলোর পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের অবস্থান, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য অংশীজনদের মতামত বিবেচনায় নিয়েই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চায় প্রশাসন। প্রথম প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় অনুষ্ঠিত সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, দুই সহ-উপাচার্য, প্রক্টর এবং বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রাধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় নির্বাচন আয়োজনের কাঠামো, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হলের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের জন্য কী কী প্রস্তুতি প্রয়োজন, নির্বাচন কীভাবে পরিচালিত হবে এবং কারা এই নির্বাচনের অংশীজন—এসব বিষয় সভায় আলোচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি আবাসিক হলের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশাসনকে অবহিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রাধ্যক্ষদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ জন্য হল প্রাধ্যক্ষরা নিজ নিজ আবাসিক হলে সভা করবেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের সার্বিক পরিস্থিতি, আবাসিক পরিবেশ, সম্ভাব্য সমস্যা এবং নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। পরে এসব সভার মাধ্যমে পাওয়া তথ্য প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের পরবর্তী প্রস্তুতি নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।

ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধু হলগুলোর পরিস্থিতিই পর্যালোচনা করতে চায় না, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের মতামতও নিতে চায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে সক্রিয় ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব বৈঠকে নির্বাচন পরিচালনা, অংশগ্রহণের পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়া হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে ডাকসু নির্বাচন শুধু একটি সাংগঠনিক নির্বাচন নয়, বরং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আবাসিক হলের পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, খেলাধুলা, পরিবহন, খাবার, গ্রন্থাগারসহ নানা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি ও প্রত্যাশা তুলে ধরার ক্ষেত্রে ছাত্র সংসদের ভূমিকা রয়েছে। ফলে নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনের প্রস্তুতি শুরুর ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নতুন প্রত্যাশা তৈরি করতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতেও নানা পরিবর্তন এসেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ধরনও বদলেছে। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ক্যাম্পাসে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এমন পরিস্থিতিতে ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের আগে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য পরিবেশ তৈরির চেষ্টা প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রথম প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হওয়ায় এখন নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়েও আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে বৃহস্পতিবারের সভায় নির্দিষ্ট কোনো নির্বাচনী তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বরং আপাতত প্রাথমিক প্রস্তুতি ও পরিস্থিতি মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ডাকসুর বর্তমান কমিটির মেয়াদও নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর বর্তমান ডাকসু কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করে। সে হিসাবে তাদের এক বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী বর্তমান কমিটির মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তে পারে।

ফলে প্রশাসনের হাতে এখন একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও নির্বাচন আয়োজনের আগে নানা প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাজ সম্পন্ন করতে হবে। ভোটার তালিকা, প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা, নির্বাচনী আচরণবিধি, ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং ভোটগ্রহণের কারিগরি ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও সামনে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রত্যাশা থাকতে পারে। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এসব মতামত সংগ্রহ করা হলে নির্বাচনের প্রস্তুতি আরও বাস্তবভিত্তিক করার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য বিরোধ বা ভুল বোঝাবুঝি কমাতেও অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা সহায়ক হতে পারে।

আবাসিক হলগুলোর পরিস্থিতি পর্যালোচনার সিদ্ধান্তও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনের একটি বড় অংশ আবাসিক হলকেন্দ্রিক। শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবন, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে হলগুলোর পরিবেশ সরাসরি যুক্ত। তাই ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে হলগুলোর পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশাসনের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকা জরুরি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পারে, তাহলে ডাকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের কাছে একটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনগুলোর আস্থা অর্জন করাও প্রশাসনের অন্যতম বড় দায়িত্ব হবে।

প্রথম প্রস্তুতিমূলক সভার মধ্য দিয়ে আপাতত সেই প্রক্রিয়ার সূচনা হলো। সামনে আবাসিক হলগুলোতে সভা, পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হবে। এসব আলোচনায় উঠে আসা মতামত ও বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।

ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, প্রশাসন কত দ্রুত এবং কীভাবে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শেষ করতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হলে শিক্ষার্থীরা তাদের নতুন প্রতিনিধিত্বশীল নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আর সেই নির্বাচন কতটা অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হবে, তা নির্ভর করবে প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপে প্রশাসন ও অংশীজনদের পারস্পরিক আস্থা এবং সহযোগিতার ওপর।

সবশেষে বলা যায়, বৃহস্পতিবারের সভাটি ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের পথে একটি প্রাথমিক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন হলভিত্তিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই হবে পরবর্তী পর্যায়ের মূল বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে সেই প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও শিক্ষার্থীবান্ধব হয়, সেদিকেই নজর থাকবে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত