প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা, নিয়োগ-পদোন্নতি, আর্থিক কার্যক্রম এবং করপোরেট সুশাসন নিয়ে ওঠা একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগ তদন্তে নেমেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তদন্তের আওতায় ডিএসইর আর্থিক ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ডিএসইর কাছে বিপুলসংখ্যক নথি, আর্থিক প্রতিবেদন, পরিচালনা পর্ষদের সভার কার্যবিবরণী এবং নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে বিএসইসির তদন্ত কমিটি। সংশ্লিষ্ট নথি ও ই-মেইল সংরক্ষণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সেগুলো পরিবর্তন, মুছে ফেলা কিংবা ওভাররাইট না করার কথা বলা হয়েছে।
ডিএসইর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে অবৈধ নিয়োগ ও পদোন্নতি, সম্ভাব্য ইনসাইডার ট্রেডিং, বেনামে স্টেকহোল্ডারশিপ কেনা, মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে শেয়ার লেনদেন এবং বিনিয়োগকারীদের গোপন পোর্টফোলিও তথ্য পাচারের মতো গুরুতর বিষয় রয়েছে। পাশাপাশি নারী সহকর্মীদের যৌন হয়রানি, ভবন নির্মাণে আর্থিক অনিয়ম এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করার অভিযোগও তদন্তের আওতায় এসেছে।
তবে এসবই এখন পর্যন্ত অভিযোগ। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম কিংবা অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
বিএসইসি এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একটি কমিটি ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অব্যবস্থাপনা, করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি, নিয়োগে অনিয়ম এবং স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। অপর কমিটি কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করছে।
তদন্ত ইতোমধ্যে প্রাথমিক পর্যায় অতিক্রম করেছে। কমিটির সদস্যরা ডিএসইর সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। একই সঙ্গে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি চেয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তথ্য জমা দেওয়ার জন্য ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফলে রোববারই ছিল সংশ্লিষ্ট নথি তদন্ত কমিটির কাছে পাঠানোর নির্ধারিত শেষ দিন।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার জানিয়েছেন, বিএসইসির পক্ষ থেকে যেসব তথ্য ও ডকুমেন্ট চাওয়া হয়েছে সেগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
পুঁজিবাজারের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল আর্থিক ব্যবস্থায় স্টক এক্সচেঞ্জের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর অর্থ, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য এবং বিপুলসংখ্যক লেনদেনের তথ্য ডিএসইর প্রযুক্তি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইনসাইডার ট্রেডিং কিংবা গোপন তথ্য অপব্যবহারের অভিযোগ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
তদন্ত কমিটি ডিএসইর কয়েক বছরের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী রয়েছে। একই সময়ের ব্যবস্থাপনা চিঠি এবং অভ্যন্তরীণ ও বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদনও অনুসন্ধানের জন্য চাওয়া হয়েছে।
শুধু আর্থিক তথ্য নয়, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এজন্য ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ডিএসই পরিচালনা পর্ষদের সব সভার কার্যবিবরণী চাওয়া হয়েছে।
পাঁচ বছর আগে ডিএসইর সাংগঠনিক কাঠামো কেমন ছিল এবং বর্তমানে সেটি কোন অবস্থায় রয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণও দিতে বলা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন হয়ে থাকলে কোন প্রক্রিয়ায় এবং কী কারণে পরিবর্তন করা হয়েছে, সেটিও তদন্তকারীরা যাচাই করতে পারেন।
তদন্তে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও তার ওপরের পর্যায়ে যত নিয়োগ হয়েছে, সেসব নিয়োগের পূর্ণাঙ্গ নথি চেয়েছে তদন্ত কমিটি।
চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা এবং পরামর্শক নিয়োগের তথ্যও এর মধ্যে রয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, প্রার্থীদের আবেদন, সাক্ষাৎকার বোর্ডের গঠন, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, মেধা তালিকা এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের নোট জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ ধরনের বিস্তারিত তথ্য চাওয়ার মাধ্যমে নিয়োগের প্রতিটি ধাপে প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটি যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হবে। কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়া কিংবা নিয়মের বাইরে গিয়ে নিয়োগের অভিযোগ থাকলে নথিগুলোর মাধ্যমে তার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হতে পারে।
ডিএসইর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও অনুসন্ধানের বাইরে থাকছে না। গত তিন বছরে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স বিভাগ করপোরেট সুশাসন, মানবসম্পদ এবং নিয়োগ নিয়ে যেসব প্রতিবেদন তৈরি করেছে, সেগুলোও চেয়েছে তদন্ত কমিটি।
বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ডিএসইর রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স কমিটি, রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন এবং নমিনেশন অ্যান্ড রিমিউনারেশন কমিটির ভূমিকা। এসব কমিটির কার্যপরিধি, বর্তমান সদস্যদের তালিকা এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিত সভাগুলোর কার্যবিবরণী ও সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়েছে।
চুক্তিভিত্তিক পদ, পরামর্শক এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ কিংবা পুনর্নিয়োগে এসব কমিটি কী ভূমিকা রেখেছে, সেটিও অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
ডিএসইর প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা ঘিরেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ম্যাচিং ইঞ্জিন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের গোপন পোর্টফোলিও তথ্য অর্থের বিনিময়ে বাইরে সরবরাহ করা হয়েছে কি না, সেটি তদন্তের বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে।
শেয়ারবাজারের ম্যাচিং ইঞ্জিন ক্রয়-বিক্রয়ের আদেশ মিলিয়ে লেনদেন সম্পন্ন করার কেন্দ্রীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা। এমন ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিনিয়োগকারীদের সংবেদনশীল তথ্য অনৈতিকভাবে ব্যবহার করলে বাজারের স্বচ্ছতা এবং সমান সুযোগের নীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
একইভাবে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আগাম জেনে শেয়ার লেনদেনের অভিযোগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের অপ্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হলে সেটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের তুলনায় অন্যায্য সুবিধা তৈরি করতে পারে।
ডিএসইর কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের শেয়ার ব্যবসাও তাই তদন্তে গুরুত্ব পেতে পারে। শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা নিজের দায়িত্বের কারণে অপ্রকাশিত তথ্য জানার সুযোগ পেয়ে থাকলে তার ব্যক্তিগত কিংবা পরিবারের সদস্যদের লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছে কি না, সেটি যাচাই জরুরি।
আরেকটি আলোচিত বিষয় হচ্ছে কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতি। নিয়মবহির্ভূতভাবে ২৮ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই সিদ্ধান্তে ডিএসইর মানবসম্পদ নীতি, চাকরিবিধি এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটি পৃথকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিএসইর অতীত ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১৯৯৬ ও ২০১০ সালের বড় শেয়ারবাজার ধস এবং কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসের গ্রাহকদের সমন্বিত হিসাব থেকে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ ছিল। তবে বর্তমান তদন্তে কোন পুরোনো ঘটনা কতটা অন্তর্ভুক্ত থাকবে, সেটি তদন্তের চূড়ান্ত পরিধির ওপর নির্ভর করবে।
ডিএসইর সাবেক চেয়ারম্যান আহমেদ ইকবাল হাসান প্রতিষ্ঠানটির করপোরেট সুশাসন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম প্রভাবিত করা হয়েছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বারবার ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বর্তমান তদন্ত উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাবেক এই চেয়ারম্যান। তার মতে, ডিএসইর অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম নিয়ে এমন বিস্তৃত তদন্ত বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে অভিযোগ যত গুরুতরই হোক, তদন্তের নিরপেক্ষতা এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য শোনা সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রাথমিক অভিযোগ কিংবা তদন্ত শুরু হওয়া কোনো ব্যক্তির দায় প্রমাণ করে না। নথি, আর্থিক লেনদেন, ডিজিটাল রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনার পরই সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।
এ কারণেই তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি ও ই-মেইল সংরক্ষণের নির্দেশ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। বিএসইসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট রেকর্ড পরিবর্তন, মুছে ফেলা কিংবা ওভাররাইট করা যাবে না।
একই সঙ্গে অনুসন্ধান ও তথ্য চাওয়ার বিষয়টি কঠোরভাবে গোপন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থ এবং সম্ভাব্য আলামতের অখণ্ডতা বজায় রাখার জন্য এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাংলাদেশের শেয়ারবাজার দীর্ঘদিন ধরে আস্থার সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। বড় দরপতন, কারসাজির অভিযোগ, দুর্বল কোম্পানির তালিকাভুক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের ঘটনায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেই বাজারে প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জের অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।
ডিএসই একই সঙ্গে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বাজার অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে এর কর্মকর্তা ও পরিচালনা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা শুধু প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব বিষয় নয়। পুরো পুঁজিবাজারের বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও তা সরাসরি সম্পর্কিত।
বিএসইসির বর্তমান তদন্ত তাই কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ডিএসইর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সক্ষমতার পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে। অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কোন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটিও চিহ্নিত করা প্রয়োজন হবে।
অন্যদিকে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না মিললে সেটিও স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাজারের আস্থা ধরে রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্ত যেমন প্রয়োজন, একইভাবে প্রমাণ ছাড়া কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়ানোও জরুরি।
এখন নজর থাকবে ডিএসই থেকে চাওয়া নথি পাওয়ার পর তদন্ত কোন দিকে এগোয়। আর্থিক প্রতিবেদন, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত, নিয়োগের নথি, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা এবং ডিজিটাল যোগাযোগ বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করবে তদন্ত কমিটি।
দেশের প্রধান শেয়ারবাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনের প্রশ্নে এই অনুসন্ধানের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ একটি কার্যকর পুঁজিবাজারের ভিত্তি শুধু প্রযুক্তি কিংবা তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা নয়। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সুশাসনের ওপরই শেষ পর্যন্ত বাজারের দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে।