প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সৌজন্য সাক্ষাৎ আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বঙ্গভবনে দুপুর সাড়ে ১২টায় এ সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে সিইসি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সাক্ষাতে সিইসির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ পর্যায়ের এই সাক্ষাৎকে ঘিরে জাতীয় পর্যায়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলায় কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তবে বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে বৈঠকের আলোচ্যসূচি নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও দেশের চলমান নির্বাচন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। আগে অক্টোবর থেকে নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও তা পিছিয়ে নভেম্বর থেকে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা, নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিধি ও আইন পর্যালোচনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়নের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে কমিশন। এসব প্রস্তুতির মধ্যেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাক্ষাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করতে পারে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে ভোট আয়োজনের সময়সূচি, নির্বাচন পরিচালনায় প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বৈঠকের আগে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়কে আলোচনার চূড়ান্ত এজেন্ডা হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেশের তৃণমূল পর্যায়ের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। তাই এই নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সময় নির্বাচন, নিরাপত্তা, ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ এবং প্রশাসনিক সক্ষমতার বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হয়।
নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জানিয়েছে, ভোটের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। আবহাওয়া পরিস্থিতি, সম্ভাব্য বন্যা, ধর্মীয় উৎসব, পাবলিক পরীক্ষা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনায় রেখে নির্বাচন আয়োজনের সময় নির্ধারণ করা হবে। কারণ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাধারণত ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং শিক্ষকরা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন। অতীতে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ফলে এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এরই মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনায় নির্বাচনকেন্দ্রিক সম্ভাব্য ঝুঁকি, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আইনি প্রস্তুতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আচরণবিধি সংশ্লিষ্ট নথি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেটি ফেরত আসার পর কমিশন বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আইন সংস্কারের বিষয়ে কমিশনের সুপারিশও প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে নির্বাচন উপযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য চাওয়া হয়েছিল। ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার তালিকাও কমিশনের কাছে পৌঁছেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।
ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার কাজও নির্বাচন প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর নির্বাচনী এলাকার ভোটার সংখ্যা ও কেন্দ্রভিত্তিক ভোটারসংক্রান্ত তথ্য আরও স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত ও যাচাইয়ের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য চলতি অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দের কথা জানিয়েছে সরকার। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন—স্থানীয় সরকারের পাঁচ ধরনের প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোন নির্বাচন কখন এবং কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ তাই নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও সামনের নির্বাচন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও এটিকে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলা হয়েছে, তবু নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করার বিষয়টি আলোচনায় থাকলে বৈঠকটি প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বঙ্গভবনে আজকের সাক্ষাৎ শেষে আলোচনার বিষয়বস্তু বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি ও প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়ে কোনো নতুন তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম যখন ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে, তখন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের এই সাক্ষাৎকে ঘিরে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনের প্রস্তুতি, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—সবকিছুই আগামী দিনের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।