প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্রায় চার দশক আগে যে চরিত্রে অভিনয় করে গতির দুনিয়ায় দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন টম ক্রুজ, সেই কোল ট্রিকল চরিত্রেই আবার ফিরছেন হলিউডের এই তারকা। ১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়া জনপ্রিয় রেসিং সিনেমা ‘ডেজ অব থান্ডার’-এর নতুন কিস্তিতে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও নাসকার রেসিংয়ের জগতে দেখা যাবে তাঁকে। আর এবার তাঁর সঙ্গে পর্দায় থাকছেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ে।
নতুন সিনেমাটিকে ঘিরে এরই মধ্যে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে টম ক্রুজের পুরোনো একটি জনপ্রিয় চরিত্রে ফিরে আসার খবরটি হলিউডে আলাদা আলোচনা তৈরি করেছে। সিনেমাটি ২০২৮ সালের ২ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ডেজ অব থান্ডার’ ছিল টম ক্রুজের ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্পোর্টস ড্রামা। সিনেমাটিতে কোল ট্রিকল ছিলেন তরুণ, আত্মবিশ্বাসী এবং অত্যন্ত প্রতিভাবান এক নাসকার রেসার। গতির প্রতি তাঁর দুর্দমনীয় আকর্ষণ যেমন ছিল, তেমনি ছিল নিজের সীমাবদ্ধতা ও মানসিক চাপের সঙ্গে লড়াই। রেসিংয়ের উত্তেজনার পাশাপাশি চরিত্রটির ব্যক্তিগত সংগ্রাম সিনেমাটিকে শুধু একটি গাড়ির দৌড়ের গল্পে সীমাবদ্ধ রাখেনি।
মূল সিনেমাটি পরিচালনা করেছিলেন টনি স্কট। গল্পে দেখা যায়, তরুণ রেসার কোল ট্রিকল একটি নাসকার দলে যোগ দেন এবং দ্রুত নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিতে শুরু করেন। তবে পেশাদার রেসিংয়ের কঠিন বাস্তবতা, প্রতিযোগিতার চাপ এবং নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তাঁকে একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে। একজন অভিজ্ঞ রেসিং তারকার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার মধ্য দিয়ে কোল ধীরে ধীরে বুঝতে পারেন, শুধু দ্রুত গাড়ি চালাতে পারাই সাফল্যের জন্য যথেষ্ট নয়।
চার দশকের কাছাকাছি সময় পর সেই চরিত্রের প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একটি পুরোনো সিনেমার সিক্যুয়েল নয়; টম ক্রুজের অভিনয়জীবনের একটি পরিচিত অধ্যায়ের পুনরাগমনও বটে। তবে নতুন সিনেমার গল্প আগের কাহিনিকে ঠিক কীভাবে এগিয়ে নেবে, সে বিষয়ে নির্মাতারা এখনো বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি।
নতুন কিস্তিতে অ্যান হ্যাথাওয়ের যুক্ত হওয়া সিনেমাটির প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে। তিনি এখানে শুধু রেসিং দলের মালিক নন, একজন প্রকৌশলীর ভূমিকাতেও দেখা যাবেন বলে জানা গেছে। ফলে গল্পে রেসিংয়ের পাশাপাশি প্রযুক্তি, কৌশল এবং একটি দল পরিচালনার বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। টম ক্রুজের কোল ট্রিকল এবং হ্যাথাওয়ের চরিত্রের মধ্যে সম্পর্ক গল্পের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে কি না, সেটিও এখন দর্শকদের কৌতূহলের বিষয়।
সম্প্রতি সিনেমাটির প্রচারণা ঘিরে টম ক্রুজ সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করেন। সেখানে তাঁকে অ্যান হ্যাথাওয়ের সঙ্গে একটি নাসকার রেসট্র্যাকে দেখা যায়। ছবিটি প্রকাশের পর থেকেই নতুন সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। দীর্ঘদিন পর পুরোনো চরিত্রে টম ক্রুজকে দেখার সম্ভাবনা এবং তাঁর সঙ্গে হ্যাথাওয়ের মতো অভিনেত্রীর উপস্থিতি সিনেমাটিকে বড় পর্দার অন্যতম আলোচিত প্রকল্পে পরিণত করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
নতুন ছবিটি পরিচালনা করবেন জনাথন লেভিন। সিনেমাটির প্রযোজনার দায়িত্বেও থাকছেন টম ক্রুজ। তাঁর সঙ্গে সহপ্রযোজক হিসেবে থাকছেন জেরি ব্রুকহাইমার ও টমি হারপার। জেরি ব্রুকহাইমারের নামটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ মূল ‘ডেজ অব থান্ডার’-এর সঙ্গেও তাঁর প্রযোজনা সংশ্লিষ্টতা ছিল। ফলে নতুন কিস্তিতে পুরোনো সিনেমার সঙ্গে সৃজনশীল ও প্রযোজনাগত একটি ধারাবাহিকতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
টম ক্রুজের ক্যারিয়ারে রেসিং জগতের এই প্রত্যাবর্তন আরও একটি কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। গত কয়েক বছর ধরে তিনি প্রধানত ‘মিশন: ইমপসিবল’ সিরিজের জন্য আলোচনায় ছিলেন। বিপজ্জনক স্টান্ট, দ্রুতগতির অ্যাকশন এবং বাস্তবধর্মী দৃশ্যের জন্য তাঁর সিনেমাগুলো বিশ্বজুড়ে দর্শকদের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু এবার পুরোনো একটি চরিত্রে ফিরে তিনি সেই অ্যাকশন-নির্ভর ক্যারিয়ারের বাইরে নিজের পরিচিত অভিনয়জগতের আরেকটি দিক সামনে আনার সুযোগ পাচ্ছেন।
‘ডেজ অব থান্ডার’-এর নতুন কিস্তির পাশাপাশি টম ক্রুজের সামনে রয়েছে আরও বেশ কিছু বড় প্রকল্প। ‘টপ গান’ ফ্র্যাঞ্চাইজির আরেকটি কিস্তিও তাঁর ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে। ‘টপ গান: ম্যাভেরিক’-এর বিপুল সাফল্যের পর সেই সিরিজে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়েও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ফলে একই সঙ্গে পুরোনো একাধিক জনপ্রিয় চরিত্রে ফেরার মধ্য দিয়ে ক্রুজ যেন নিজের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোকে আবার সামনে নিয়ে আসছেন।
শুধু অ্যাকশন নয়, নাটকীয় চরিত্রেও ফিরছেন এই অভিনেতা। আলেহান্দ্রো গনসালেস ইনারিতুর পরিচালনায় ‘ডিগার’ সিনেমায় তাঁকে দেখা যাবে বলে জানা গেছে। ফলে সামনে তাঁর কাজের তালিকায় অ্যাকশন, স্পোর্টস ড্রামা ও চরিত্রনির্ভর সিনেমার বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে অ্যান হ্যাথাওয়ের ক্যারিয়ারও বর্তমানে ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একের পর এক বড় প্রকল্পে কাজ করছেন তিনি। তাঁর অভিনীত বিভিন্ন সিনেমা চলতি সময়ে দর্শকদের আলোচনায় রয়েছে। ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’-এর মতো বহুল প্রত্যাশিত প্রকল্পের পাশাপাশি ‘দ্য অডিসি’সহ আরও কয়েকটি সিনেমায় তাঁর উপস্থিতি রয়েছে। বছরের শেষদিকে তাঁর আরও একটি সিনেমা মুক্তির কথা রয়েছে।
এমন ব্যস্ত সময়ের মধ্যেই টম ক্রুজের সঙ্গে জুটি বাঁধার খবর তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও দুজনের চরিত্রের সম্পর্ক নিয়ে নির্মাতারা এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি, তবু একই সিনেমায় দুই প্রজন্মের জনপ্রিয় হলিউড তারকার উপস্থিতি নিঃসন্দেহে দর্শকদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে।
‘ডেজ অব থান্ডার’ মূলত ছিল রেসিংয়ের উত্তেজনার সঙ্গে মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, প্রতিযোগিতা, সম্পর্ক ও আত্মপরিচয়ের গল্প। নতুন সিনেমাটি সেই আবহ কতটা ধরে রাখতে পারে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। একই সঙ্গে আধুনিক নাসকার রেসিং, উন্নত প্রযুক্তি এবং বর্তমান সময়ের প্রতিযোগিতামূলক মোটরস্পোর্টসকে গল্পে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, সেটিও সিনেমাটির সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে সিনেমাটি মুক্তি পেতে এখনো প্রায় দুই বছর বাকি। এর মধ্যে গল্প, চরিত্র, শুটিং এবং প্রচারণা নিয়ে আরও অনেক তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্মাতারা যত বেশি তথ্য প্রকাশ করবেন, ততই স্পষ্ট হবে কোল ট্রিকলের নতুন যাত্রা কোন পথে এগোবে।
টম ক্রুজের বয়স ও দীর্ঘ ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে এই প্রত্যাবর্তনের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। চার দশকের কাছাকাছি সময় আগে যে চরিত্রটি তরুণ এক রেসারের প্রতীক ছিল, সেই চরিত্রকে এবার জীবনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ একজন মানুষের রূপে দর্শকের সামনে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কোল ট্রিকলের সেই পরিবর্তন গল্পে কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তা জানতে দর্শকদের অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত।
সব মিলিয়ে ‘ডেজ অব থান্ডার’-এর নতুন কিস্তি এখনই হলিউডের অন্যতম কৌতূহলোদ্দীপক প্রকল্প হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। টম ক্রুজের জনপ্রিয় পুরোনো চরিত্রে প্রত্যাবর্তন, অ্যান হ্যাথাওয়ের সংযোজন এবং নাসকার রেসিংকে কেন্দ্র করে নতুন গল্প—সব মিলিয়ে সিনেমাটি বড় পর্দায় দর্শকদের জন্য আবারও গতি, উত্তেজনা ও আবেগের এক নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে।