প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে অন্তত ছয় থেকে সাতটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। চুক্তির পরিধি বাড়াতে কর্মকর্তারা একটি খসড়া কাঠামো নিয়েও কাজ করছেন।
যুক্তরাজ্য সফরকালে ইসহাক দার জানান, আগ্রহী দেশগুলোকে চুক্তির আওতায় আনার প্রক্রিয়া সহজ করতে কর্মকর্তারা একটি ‘এগ্রিমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরির কাজ করছেন। তবে কোন কোন দেশ এতে যোগ দিতে আগ্রহী, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, এর কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে অন্য সদস্যদের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে এটি তিন দেশের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি কাঠামো তৈরি করেছে।
বাংলাদেশও সম্প্রতি এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠাতা তিন দেশের বাইরে সম্ভাব্য নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বর্তমানে চুক্তির আওতায় গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির উদ্বোধনী বৈঠকে অংশ নিতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে রয়েছেন। বৈঠকে সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সামরিক বাহিনীর প্রধানদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, তিন দেশের সামরিক বাহিনীর যৌথ পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা গভীর করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। চুক্তির আওতায় কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি স্থায়ী সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রূপরেখাও আলোচনায় আসতে পারে।
চুক্তিটির সম্ভাব্য সম্প্রসারণ নিয়ে এর আগে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, মিসরসহ আঞ্চলিক আরও কয়েকটি দেশকে এই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তিনি জোট গঠনকে সার্বভৌম দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে একটি ‘সাহসী প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়েও পাকিস্তান সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় ইসলামাবাদ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন। ফলে একদিকে নতুন প্রতিরক্ষা জোট সম্প্রসারণ এবং অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা—দুই ক্ষেত্রেই পাকিস্তানের ভূমিকা গুরুত্ব পাচ্ছে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আরও কয়েকটি দেশ শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে যোগ দিলে এর রাজনৈতিক ও সামরিক গুরুত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে চুক্তির কাঠামো, পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির পরিধি এবং সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতির সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।