মক্কা চুক্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত সরকারের: আইনমন্ত্রী

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১১ বার

প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে সবকিছু বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিজ নিজ জাতীয় স্বার্থ ও নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, “মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হবে কিনা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। ভারত তাদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী কাজ করবে, আমরা আমাদের নীতি অনুযায়ী কাজ করব। ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অন্য কোনো দেশের নীতির ওপর নির্ভর করবে না। প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের সম্ভাব্য সুবিধা, ঝুঁকি ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। গুম প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং একটি শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন গঠনের বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সংসদে চূড়ান্ত করার উদ্যোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।

বিচার বিভাগের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং মামলাজট কমানোর বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, বিচারব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ‘ই-জুডিশিয়ারি’ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় রক্ষীবাহিনীর কর্মকাণ্ডে ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের আইনি প্রতিকার চাওয়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ মনে করলে তার পরিবারের সদস্যরা ওই সময় অন্যায়ের শিকার হয়েছেন, তাহলে তারা আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।

মন্ত্রী বলেন, আইনের দরজা সবার জন্য খোলা। গুম ও হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারগুলো আইনগত সহায়তা চাইলে আদালত বিষয়টি আইন অনুযায়ী বিবেচনা করতে পারে।

ঝিনাইদহে চলমান ছয় লেন মহাসড়কের নির্মাণকাজের ধীরগতি এবং জেলার বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশা নিয়েও সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন। জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কের নির্মাণকাজ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সাধারণ মানুষকে যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ছয় লেন মহাসড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জেলার ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারের বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

ঝিনাইদহ পৌরসভার বহুতল আধুনিক সুপার মার্কেট নির্মাণকাজ পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বেলা’র দায়ের করা রিটের কারণে আটকে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি বিষয়টি বিস্তারিতভাবে অবগত নন। তবে আইনি বাধা নিরসনের সম্ভাব্য পথ খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

জেলার অফিস-আদালতে দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের অবস্থান সম্পর্কেও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

তিনি সংশ্লিষ্টদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান এবং চলমান উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখার অনুরোধ করেন।

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার সন্তুষ্ট কি না, সেটিই মূল বিষয় নয়; বরং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এ লক্ষ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদ, নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্রনাথ রায় এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপা রানী সরকারসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা বাড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এর আগে চুক্তিটিকে ইতিবাচকভাবে দেখার কথা বলা হলেও বাংলাদেশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেয়নি।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, চুক্তিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে। একই সঙ্গে দেশের বিচারব্যবস্থা, মানবাধিকার, অবকাঠামো, দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার নিজস্ব উদ্যোগও অব্যাহত রাখবে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত