প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খানের সঙ্গে যা করা হচ্ছে, তা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক জাভেদ মিয়াঁদাদ। তিনি ইমরানের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের অবসান ঘটিয়ে তাকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত সপ্তাহে ‘ন্যারেটিভস’ পডকাস্টে দেওয়া এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে মিয়াঁদাদ বলেন, ইমরান খান কারাগারে থাকার মতো পরিস্থিতির যোগ্য নন। এ সময় তিনি ইমরানের পরিবারের কথা উল্লেখ করে তার প্রতি মানবিক আচরণের আহ্বান জানান।
মিয়াঁদাদ বলেন, “আমি প্রার্থনা করি, তার সঙ্গে যা ঘটছে, তার যেন একটা সমাধান হয়। কারণ, তিনি এর যোগ্য নন।” ইমরানের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, “তার সঙ্গে যা করা হচ্ছে, তা ঠিক নয়। এটা একেবারেই অপ্রয়োজনীয়। তারও একটি পরিবার আছে।”
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে থাকা ইমরান খানকে যেকোনোভাবে সহায়তা করার প্রস্তাবও দিয়েছেন মিয়াঁদাদ। একই সঙ্গে পাকিস্তান সরকারকে ইমরানের সঙ্গে তাদের মতবিরোধ মিটিয়ে তাকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের মধ্যে মিয়াঁদাদই প্রথম ইমরান খানকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে কথা বললেন। জাতীয় ক্রিকেট দলে দুজন দীর্ঘ সময় একসঙ্গে খেলেছেন এবং পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল সময়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন।
ইমরানের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের প্রসঙ্গে মিয়াঁদাদ বলেন, তাদের মধ্যে কোনো তিক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা বিরোধ ছিল না। তিনি জানান, কাউন্টি ক্রিকেট ও পাকিস্তান জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় বছরের বড় একটি অংশ তারা একসঙ্গে কাটিয়েছেন।
মিয়াঁদাদ বলেন, “আমার আর ইমরানের মধ্যে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না। আমাদের মধ্যে কোনো ঝগড়াও হয়নি।” তিনি আরও বলেন, ইমরান তার প্রতি অন্যায় করেছেন—এমন অভিযোগ তিনি কখনো করেননি।
১৯৮০-এর দশক ও ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে পাকিস্তানের ক্রিকেটে ইমরান খান ও জাভেদ মিয়াঁদাদ ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ দুই ক্রিকেটার। দুজনই বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তান দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইমরানের নেতৃত্বে পাকিস্তান ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ জেতে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইমরান খানের কারাবাস ও তার অধিকার নিয়ে পাকিস্তানের বাইরে থেকেও আলোচনা হয়েছে। গত সপ্তাহে ২২ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের কাছে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। চিঠিতে ইমরানের পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের অধিকারসহ আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও ওই সাবেক অধিনায়কদের অবস্থানের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন।
মিয়াঁদাদ বলেন, বিশ্বজুড়ে ইমরান খানের প্রতি মানুষের সম্মান রয়েছে এবং পাকিস্তানের জন্য তার অবদানের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তিনি পুরোনো বিরোধ ভুলে গিয়ে ইমরানের বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসার আহ্বান জানান।
“পাকিস্তানকে সে অনেক কিছু দিয়েছে। আমাদের এসব কথা ভাবা উচিত। আমাদের পুরোনো বিরোধ ভুলে গিয়ে বিষয়টির মীমাংসা করা দরকার,” বলেন মিয়াঁদাদ।
ইমরানকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, কারাগারে তার কোনো অঘটন ঘটলে তা পাকিস্তানজুড়ে গভীর প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
মিয়াঁদাদ বলেন, “শুধু তাকে মুক্তি দিয়ে দিন। এতে আপনাদের কী-ই বা এমন ক্ষতি হবে?” তার মতে, ইমরানের সঙ্গে যা ঘটছে, তা অব্যাহত রাখার কোনো প্রয়োজন নেই এবং রাজনৈতিক বিরোধের সমাধান করা উচিত।
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন। তার রাজনৈতিক দল ও সমর্থকেরা তার বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করে আসছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ ও আদালতগুলো মামলাগুলোকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখেছে।
মিয়াঁদাদের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ক্রিকেট অঙ্গনের একজন সাবেক অধিনায়কের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, স্মৃতি ও মানবিক উদ্বেগই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। রাজনৈতিক অবস্থান ঘোষণার পরিবর্তে তিনি ইমরানের সঙ্গে বিরোধের অবসান এবং তার মুক্তির পক্ষে আবেদন জানিয়েছেন।
ইমরান ও মিয়াঁদাদের দীর্ঘ ক্রিকেট-সম্পর্কের কারণে তার বক্তব্য পাকিস্তানের ক্রিকেট ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে ইমরানের কারাবাস নিয়ে সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কদের প্রকাশ্য উদ্বেগের মধ্যেই মিয়াঁদাদের বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।