‘অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়’: দীনেশ ত্রিবেদী

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৭ বার

প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, একজন রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করা তাঁর উচিত নয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েনের বিষয়ে জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “আমি একজন রাষ্ট্রদূত। অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না, আমাদের কোনো কথা বলাও উচিত নয়।”

তিনি বলেন, “দেশের মানুষ এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারই সবচেয়ে ভালো বোঝে, দেশের মানুষের জন্য কী ভালো।”

মানুষে-মানুষে সম্পর্কই ভিত্তি

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, “আমরা সব সময়ই মানুষে-মানুষে সম্পর্ক চাই। দিল্লিতে বাংলাদেশের যে প্রতিনিধি আছেন, তিনিও একই কথা চান—কীভাবে দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও ভালো করা যায়।”

দুই দেশের সরকার যেসব সিদ্ধান্ত নেয়, সেগুলোর প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাই উভয় দেশের দায়িত্ব।

“আমরা যা সিদ্ধান্ত নিই, তার প্রভাব তো সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। তাই সাধারণ মানুষের জন্য যা ভালো, তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা সব সময় বলি, আমরা একটি স্বপ্ন ভাগাভাগি করি,” বলেন তিনি।

প্রতিবেশী হিসেবে সমতার ওপর গুরুত্ব

বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন সীমান্ত ও দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তাঁর মতে, দুই দেশের পারস্পরিক দায়িত্বের জায়গা থেকে সম্পর্ককে দেখতে হবে।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “আমরা সীমান্ত ভাগাভাগি করি। সে কারণে আমাদের দায়িত্বও বেড়ে যায়। প্রতিবেশী হিসেবে আমি সব সময় বলি—আমরা সমান। কেউ বড় নয়, কেউ ছোট নয়।”

বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের সময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খানের কাছ থেকে শেখার কথাও জানান তিনি। মন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ৩০ মিনিটের বৈঠকে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু জানার সুযোগ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

তিনি বলেন, “আমি এখানে এসে অনেক কিছু শিখছি। মাননীয় মন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ৩০ মিনিট ছিলাম। এই ৩০ মিনিটেই অনেক কিছু শিখেছি। কারণ মানুষের জন্য কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁর যে অভিজ্ঞতা, তার কোনো শেষ নেই।”

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক বোঝাপড়া

বাংলাদেশ ও ভারতের নিজ নিজ রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জগুলো একে অপরের দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন দীনেশ ত্রিবেদী।

তিনি বলেন, “চ্যালেঞ্জ থাকবেই। আমাদের বুঝতে হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জগুলো কী। বাংলাদেশকেও বুঝতে হবে ভারতের চ্যালেঞ্জগুলো কী। এসব চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”

অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “আমরা অতীত ভুলতে পারি না। কিন্তু অতীতে আটকে থাকার কোনো সুযোগ নেই। আটকে গেলে উন্নয়নের কাজ হবে না।”

বাণিজ্য ও মুক্ত বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা

দুই দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও মুক্ত বাণিজ্যের সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান ভারতীয় হাইকমিশনার।

তিনি বলেন, “মানুষের জন্য বাণিজ্য, মুক্ত বাণিজ্য—কীভাবে আমরা দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য করতে পারি, তা নিয়েও কথা হয়েছে।”

এতে বোঝা যায়, রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার বাইরে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতাকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।

সৌজন্য সাক্ষাৎ, আলোচনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে ভারতের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাতেই ভারতীয় হাইকমিশনার সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছিলেন।

তিনি বলেন, “এটি একেবারেই সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। পাশাপাশি আমাদের মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।”

বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এ সময় দীনেশ ত্রিবেদী তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। পাল্টা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীও তাঁদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন বলে জানান তিনি।

মীর শাহে আলম বলেন, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করাকে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “যেহেতু আমরা গণতান্ত্রিক সরকার এবং মানুষের ভোটে নির্বাচিত, তাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা আমাদের দায়িত্ব।”

প্রতিমন্ত্রী জানান, বৈঠকের বাকি আলোচনা মূলত সৌজন্য এবং বাংলাদেশ-ভারতের পারস্পরিক সম্পর্কসংক্রান্ত বিষয়েই সীমাবদ্ধ ছিল।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত