চাচাতো ভাইয়ের কোপে কৃষকের পা বিচ্ছিন্ন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২১ বার
চাচাতো ভাইয়ের কোপে কৃষকের পা বিচ্ছিন্ন

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গোয়ালপাড়া এলাকায় পারিবারিক বিরোধ ও পূর্বের দ্বন্দ্বের জেরে চাচাতো ভাইয়ের ধারালো অস্ত্রের হামলায় আবু মুসা নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলায় তার ডান পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। অপর পায়েও ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত রয়েছে। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার, ৩১ আগস্ট, সন্ধ্যার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গোয়ালপাড়া বাজার এলাকায়। এ ঘটনায় আহত আবু মুসার চাচাতো ভাই মামুন মোল্লার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন আবু মুসা নিজের ছেলেকে খেলার মাঠ থেকে আনতে যাচ্ছিলেন। দিনের কাজ শেষে বাড়িতে ফেরার পর তিনি ছেলের খোঁজে মাঠের দিকে রওনা হন। পথে গোয়ালপাড়া এলাকার একটি স্থানে পৌঁছালে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত মামুন মোল্লা ধারালো অস্ত্র নিয়ে আবু মুসার ওপর হামলা করেন। আকস্মিক এই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। হামলার একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার ডান পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বাম পায়েও একাধিক আঘাত লাগে।

আবু মুসার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসেন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত মামুন মোল্লা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় আবু মুসাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

একটি সাধারণ পারিবারিক দিনের শেষে ছেলেকে খেলার মাঠ থেকে বাড়িতে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে বের হওয়া একজন মানুষের জীবনে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনাটি শুধু একজন ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে গুরুতর আহত করেনি, পুরো পরিবারকে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফারিহা তাহসিন জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তির ডান পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল এবং বাম পায়েও ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এত গুরুতর ধরনের আঘাতের ক্ষেত্রে দ্রুত ও বিশেষায়িত চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে তার পরবর্তী চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গেছে।

হামলার কারণ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পারিবারিক বিরোধ ও দীর্ঘদিনের ক্ষোভের কথা বলা হয়েছে। আহত আবু মুসার স্ত্রী বিউটি খাতুন অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত মামুন মোল্লা তার স্বামীর চাচাতো ভাই। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আগে থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল।

বিউটি খাতুনের দাবি, মামুন মোল্লা প্রায়ই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বিভিন্ন ঝামেলায় জড়াতেন এবং নিজের স্ত্রীকে মারধর করতেন। এসব ঘটনার প্রতিবাদ ও বিরোধের কারণে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আবু মুসাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা এসব বিষয়ে তাকে বাধা দিতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তার অভিযোগ, পরিবারের পক্ষ থেকে এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার কারণেই অভিযুক্ত তার স্বামীর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। সেই ক্ষোভ ও পূর্ববিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তবে পরিবারের অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদউজ্জামান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের জেরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের তদন্তে হামলার সময় ব্যবহৃত অস্ত্র, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং পূর্বের বিরোধের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

স্থানীয় পর্যায়ে এমন পারিবারিক বিরোধের ভয়াবহ পরিণতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ বা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ কখনো কখনো এমন সহিংস ঘটনায় রূপ নিতে পারে, যা একটি পরিবারের ভবিষ্যৎকে দীর্ঘ সময়ের জন্য বদলে দেয়। আবু মুসার ক্ষেত্রেও এই হামলার পর তার শারীরিক সুস্থতা, কর্মক্ষমতা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পরিবারের জন্য এই মুহূর্তটি অত্যন্ত কঠিন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। গুরুতর আহত একজন পরিবারের সদস্যের চিকিৎসার পাশাপাশি তার দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা নিয়ে এখন তাদের ভাবতে হচ্ছে। একটি পা হারানোর মতো গুরুতর শারীরিক ক্ষতি একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, কর্মজীবন ও পরিবারের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

আবু মুসা একজন কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ফলে তার শারীরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল জীবিকা ভবিষ্যতে কীভাবে চলবে, সেটিও পরিবারের জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ পুনর্বাসনের প্রয়োজন হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় এলাকায়ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই পারিবারিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিকভাবে আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। একটি পারিবারিক দ্বন্দ্ব কীভাবে ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিতে পারে, এই ঘটনা তারই নির্মম উদাহরণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে আহত আবু মুসার পরিবারের প্রধান দাবি এখন তার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তারা ন্যায়বিচার চান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীর শাস্তি নিশ্চিত দেখতে চান।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে হামলার পেছনে থাকা প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ছেলেকে খেলার মাঠ থেকে বাড়িতে আনতে বেরিয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার হওয়া আবু মুসা এখন চিকিৎসার জন্য লড়ছেন। তার পরিবারের সদস্যরা একদিকে হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে হামলাকারীকে গ্রেপ্তারের অপেক্ষায় রয়েছেন। ঝিনাইদহের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, পারিবারিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত ক্ষোভ যখন সহিংসতায় রূপ নেয়, তখন তার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় মানুষ ও তার পরিবারকে।

এখন সবার দৃষ্টি আহত আবু মুসার চিকিৎসা ও সুস্থতার দিকে। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। পুলিশের তদন্তে এই ভয়াবহ হামলার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারিত হবে বলে আশা করছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত