আবুল কালাম আযাদের আপিলের আদেশ আজ হচ্ছে না

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫ বার
আবুল কালাম আযাদের আপিলের আদেশ আজ হচ্ছে না

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আদেশ দিচ্ছেন না সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি থাকায় তার আপিলসংক্রান্ত আদেশের সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবুল কালাম আযাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক। ফলে নির্ধারিত দিনে আদেশ না হওয়ায় এখন নতুন তারিখে আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আবুল কালাম আযাদের করা আপিলের বিষয়ে আদেশ দেওয়ার জন্য ৭ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেছিলেন। ওইদিন আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

আবুল কালাম আযাদের করা আবেদনের মূল বিষয় হচ্ছে তার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করা এবং মামলার রায়ের বিরুদ্ধে তার আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিত রাখা। একই সঙ্গে আপিল করতে যে বিলম্ব হয়েছে, সেটিও মার্জনা করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আপিলটি গ্রহণযোগ্য কি না এবং বিলম্ব মার্জনার আবেদন মঞ্জুর করা হবে কি না—এসব বিষয়ে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালত আবেদন গ্রহণ করলে পরবর্তী পর্যায়ে মূল আপিলের শুনানির পথ খুলতে পারে। আর আবেদন গ্রহণ না করলে আগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের আদেশের ওপরই নির্ভর করছে।

আবুল কালাম আযাদের মামলাটি বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ইতিহাসে বিশেষভাবে আলোচিত। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

তৎকালীন সময়ে আবুল কালাম আযাদ পলাতক ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং রায় ঘোষণা করা হয়। স্বাধীনতার পর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া এটিই ছিল প্রথম রায়। ফলে মামলাটি শুধু একজন আসামির বিচার হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ বিচারের প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবেও বিবেচিত হয়ে আসছে।

মামলার বিচারিক কার্যক্রমের সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। রায়ের পর থেকেই মামলাটি দেশের বিচারাঙ্গন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেয়।

তবে দীর্ঘ সময় পর আবুল কালাম আযাদ আপিলের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন করে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন। তার পক্ষ থেকে করা আবেদনে মূলত বিলম্ব মার্জনা করে আপিলটি শুনানির জন্য গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিত রাখার আবেদনও করা হয়েছে।

আদালতের কার্যক্রমে কোনো মামলার আপিল গ্রহণের প্রশ্নটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধাপ। বিশেষ করে কোনো মামলায় রায় ঘোষণার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলে আপিল করার ক্ষেত্রে বিলম্বের কারণ আদালতের সামনে ব্যাখ্যা করতে হয়। সেই ব্যাখ্যা ও সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয় পর্যালোচনা করে আদালত সিদ্ধান্ত দেন। আবুল কালাম আযাদের ক্ষেত্রেও এখন সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হচ্ছে।

সোমবার আপিল বিভাগে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি থাকায় আবুল কালাম আযাদের আপিলসংক্রান্ত আদেশ হচ্ছে না। ফলে আদালতের কার্যতালিকায় তার বিষয়ে নির্ধারিত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা আরও কিছুটা বাড়ল। নতুন তারিখ কবে নির্ধারণ করা হবে, তা আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে।

আবুল কালাম আযাদের মামলাকে ঘিরে আগ্রহের আরেকটি কারণ হলো, এটি বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রাথমিক পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মামলা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচার দীর্ঘ সময় পর শুরু হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের প্রথম দিককার মামলাগুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সেই ধারাবাহিকতার প্রথম রায় হিসেবে ২০১৩ সালের আবুল কালাম আযাদের মামলার রায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বর্তমানে তার আপিলের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। একদিকে রাষ্ট্রপক্ষ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পক্ষে অবস্থান করছে, অন্যদিকে আসামিপক্ষ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপিলের সুযোগ পাওয়ার চেষ্টা করছে। আদালতের সিদ্ধান্তের পরই মামলাটি কোন পথে এগোবে, সেটি স্পষ্ট হবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে বাংলাদেশের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে আবেগ, ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা এবং আইনের শাসনের প্রশ্ন একসঙ্গে কাজ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এসব মামলার প্রতিটি বিচারিক ধাপ তাই সাধারণ মানুষের কাছেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনি অধিকার নিশ্চিত করা এবং আদালতের মাধ্যমে অভিযোগ ও সাজা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বিচারব্যবস্থার মৌলিক অংশ।

আবুল কালাম আযাদের আপিলের আদেশ আজ না হওয়ায় এখন সবার নজর থাকবে আপিল বিভাগের পরবর্তী কার্যতালিকার দিকে। আপিলটি শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে কি না, বিলম্ব মার্জনার আবেদন কীভাবে বিবেচিত হবে এবং মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আবেদন নিয়ে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে পরবর্তী শুনানিতে। আদালতের সেই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই প্রায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলার পরবর্তী আইনি পথ আরও স্পষ্ট হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত