প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মাঝখানে ডাকসুর এক বছর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৩ বার
প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মাঝখানে ডাকসুর এক বছর

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয় পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব নেয়। নির্বাচনের আগে ১২ মাসে ৩৬টি সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল প্যানেলটি। আবাসনসংকট দূর করা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করা, নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন, চিকিৎসাসেবা ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর মতো বিষয়গুলো ছিল সেই প্রতিশ্রুতির কেন্দ্রে।

এক বছর পর সেই প্রতিশ্রুতির দিকে তাকালে দেখা যায়, কিছু ক্ষেত্রে উদ্যোগ ও দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে, আবার শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সমস্যার সমাধান এখনো পুরোপুরি হয়নি। ডাকসু নেতারা বলছেন, তাঁরা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে কাজ করেছেন; কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ায় অনেক উদ্যোগ প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মনে করছে, বৈঠক, দাবি উত্থাপন কিংবা কমিটি গঠনকে সাফল্য হিসেবে দেখালেই বাস্তব সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না।

নির্বাচনের আগে ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ১২ মাসে ৩৬টি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। প্যানেলটির ঘোষিত অগ্রাধিকারের মধ্যে ছিল নিরাপদ ক্যাম্পাস, আবাসনসংকটের সমাধান, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা সুবিধা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, উন্নত পরিবহন এবং ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা। একই সঙ্গে কর্তৃত্ববাদী রাজনীতি, নির্যাতন ও সহিংসতা, গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি, বৈষম্য, মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থানের কথাও বলা হয়েছিল।

এই প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে আবাসনসংকট। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া অনেক শিক্ষার্থী প্রথম বর্ষ থেকেই হলে বৈধ আসন পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু এক বছর পরও নতুন শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে আবাসনের জন্য বাইরে থাকতে হচ্ছে। এতে তাঁদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে এবং যাতায়াত ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যাও তৈরি হচ্ছে।

আবাসনসংকট সমাধানে ডাকসু নেতারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা বলেছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন আবাসিক অবকাঠামো নির্মাণের লক্ষ্যে ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ হয়েছে। তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, নকশা সংশোধন ও অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এক বছরের মধ্যে এর সুফল পাওয়া সম্ভব হয়নি। ডাকসু নেতাদের দাবি, তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও বৈঠক করেছেন। তাঁদের যুক্তি, আবাসনসংকটের মতো দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা সাময়িক ব্যবস্থা দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়; স্থায়ী সমাধানের জন্য বড় অবকাঠামোগত বিনিয়োগ প্রয়োজন।

তবে এখানেই প্রশ্ন উঠছে নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা নিয়ে। একটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে এক বছরের মেয়াদে তার কোন অংশ বাস্তবায়নযোগ্য এবং কোনটি দীর্ঘমেয়াদি—সেটি শিক্ষার্থীদের কাছে স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন ছিল। কারণ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনসংকট কেবল ছাত্রসংসদের সিদ্ধান্তে সমাধান হওয়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে প্রশাসনিক অনুমোদন, অর্থায়ন, নির্মাণ ও পরিকল্পনার বিষয়ও জড়িত।

খাদ্যের মানও ডাকসুর অন্যতম বড় পরীক্ষার জায়গা। নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাবারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর হল সংসদ ও বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে খাবারের মান তদারকির উদ্যোগ নেওয়া হয়। ডাকসু নেতারা বলছেন, ক্যানটিনগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রশাসনের কাছে তা জানানো হয়েছে।

কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতায় সমস্যাটি পুরোপুরি কাটেনি। বিভিন্ন সময়ে হলের ক্যানটিনে নিম্নমানের খাবার ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এসেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের প্রশ্ন, নিয়মিত তদারকি ও অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা থাকলেও যদি একই ধরনের সমস্যা বারবার ফিরে আসে, তাহলে সেই উদ্যোগের কার্যকারিতা কতটা? ডাকসুর পক্ষ থেকে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও ক্যানটিন পরিচালনা, ঠিকাদারি ব্যবস্থা ও মান নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা জরুরি।

নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস তৈরির প্রতিশ্রুতিতেও কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধা বাড়ানো, মাতৃত্বকালীন ছুটি কার্যকর করা, বিভিন্ন হলে স্বাস্থ্যসামগ্রী সরবরাহ, আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ, ব্রেস্টফিডিং রুম ও চাইল্ড কেয়ার কর্নার নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছে ডাকসু। ছাত্রীদের হলে প্রবেশের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টিও ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে সামনে এসেছে।

তবে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে উদ্বেগ এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। রাতে চলাচলের সময় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি, অনাবাসিক ছাত্রীদের প্রবেশাধিকার এবং বিভিন্ন স্থানে হয়রানির আশঙ্কা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। নিরাপদ ক্যাম্পাস শুধু নিয়ম বা অবকাঠামোর বিষয় নয়; শিক্ষার্থীরা যেন ভয় ছাড়াই ক্লাস, গবেষণা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও দৈনন্দিন কাজে অংশ নিতে পারেন, সেটিই এর মূল মানদণ্ড।

পরিবহন, চিকিৎসা ও প্রশাসনিক সেবার ক্ষেত্রেও কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডাকসুর দাবি, বাসের ট্রিপ বাড়ানো, নতুন বাসের ব্যবস্থা, মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে নতুন রিসোর্স যুক্ত করা, অনলাইন পেমেন্ট চালু, কমনরুম সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন আয়োজন করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের কিছু সরাসরি শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে সুবিধা তৈরি করেছে বলেও অনেকে মনে করেন।

তবে ডাকসুর কার্যক্রমের মূল্যায়নে শুধু উন্নয়নমূলক উদ্যোগই নয়, ছাত্রনেতাদের আচরণ ও রাজনৈতিক ভূমিকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। নির্বাচনের আগে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির বিরোধিতা এবং শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হলেও পরবর্তী সময়ে ডাকসুর কয়েকজন নেতার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে জাতীয় রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রচারে ডাকসুর নেতাদের অংশগ্রহণ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। এতে ডাকসু কতটা দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকতে পারছে, সেই প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

ডাকসুর কিছু নেতার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, মব তৈরি, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। মাঠে খেলতে আসা শিশু-কিশোরদের শাস্তি দেওয়ার ঘটনা, শিক্ষককে হেনস্তার অভিযোগসহ কিছু ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও প্রশাসনিক তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। তবে অভিযোগের পুনরাবৃত্তি হলে ছাত্রনেতাদের জবাবদিহির প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না।

অন্যদিকে ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের সমর্থকেরা বলছেন, অতীতের তুলনায় ক্যাম্পাসের পরিবেশে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে যে হল দখল, মারামারি, চাঁদাবাজি কিংবা প্রকাশ্য রাজনৈতিক সহিংসতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল, গত এক বছরে তার মাত্রা অনেক কমেছে। নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের একাংশ তুলনামূলক স্বাভাবিক পরিবেশে একাডেমিক কার্যক্রম চালাতে পেরেছেন। এই পরিবর্তনের পেছনে ছাত্রসংগঠনগুলোর আচরণগত পরিবর্তনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মনে করেন, ডাকসুর বর্তমান মেয়াদে ইতিবাচক দিক যেমন রয়েছে, তেমনি সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট। বিশেষ করে ছাত্ররাজনীতিতে পুরোনো আধিপত্যবাদী সংস্কৃতি ফিরে আসছে কি না, তা নিয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। ছাত্র সংসদের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, কোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক স্বার্থ বাস্তবায়ন নয়।

ডাকসুর সামনে এখন আরেকটি বড় প্রশ্ন—পরবর্তী নির্বাচন। বর্তমান কমিটির এক বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নতুন নির্বাচন না হলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে নতুন নির্বাচন কবে হবে, কীভাবে হবে এবং ছাত্র সংসদ নিয়মিত নির্বাচনের ধারায় ফিরবে কি না—এসব প্রশ্ন এখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু নির্বাচন দীর্ঘ সময় অনিয়মিত ছিল। ১৯৯০ সালের পর ২০১৯ সালে নির্বাচন হয়েছিল। এরপর আবার কয়েক বছরের বিরতির পর ২০২৫ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই দীর্ঘ বিরতির কারণে ছাত্র সংসদকে নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে রাখার দাবি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একটি অংশের মধ্যে দীর্ঘদিনের।

এক বছরের অভিজ্ঞতা তাই শুধু ৩৬ দফা ইশতেহারের হিসাব নয়; এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। আবাসন, খাবার, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সেবার মতো মৌলিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন ছাত্রনেতাদের জবাবদিহি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান।

ডাকসুর নেতারা তাঁদের অর্জনের কথা বলছেন, সমালোচকেরা অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির হিসাব সামনে আনছেন। বাস্তবতা সম্ভবত এই দুই অবস্থানের মাঝামাঝি। এক বছরে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, কিন্তু প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি কতটা হয়েছে, কোথায় ব্যর্থতা রয়েছে এবং কেন কোনো কাজ আটকে আছে—সেটি শিক্ষার্থীদের সামনে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা ছাত্র সংসদের দায়িত্ব। কারণ ডাকসুর শক্তি কেবল নির্বাচনে পাওয়া ভোটে নয়; সেই ভোটের প্রতি জবাবদিহিতায়।

আগামী দিনে নতুন নির্বাচন হলে শিক্ষার্থীরা আবারও মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন। তখন বড় প্রশ্ন থাকবে—কে কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং তার কতটা বাস্তবায়ন করেছে। সেই পরীক্ষায় শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে বাস্তব পরিবর্তনই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত