বাবা হারালেন এনসিপির মনিরা শারমিন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১১ বার
বাবা হারালেন এনসিপির মনিরা শারমিন

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের বাবা ডি এম আব্দুল মতিন মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার দেওয়া এক শোকবার্তায় দলটির পক্ষ থেকে মরহুমের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।

দলটির শোকবার্তায় বলা হয়, মনিরা শারমিনের সম্মানিত পিতার মৃত্যুতে এনসিপি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই কঠিন সময়ে মনিরা শারমিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য কামনা করা হয়।

এনসিপির পক্ষ থেকে দলটির নেতাকর্মী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে ডি এম আব্দুল মতিনের জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে। তবে শোকবার্তায় তাঁর মৃত্যুর কারণ, বয়স কিংবা কোথায় ও কখন তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

রাজনৈতিক অঙ্গনে মনিরা শারমিন এনসিপির পরিচিত মুখ। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার পাশাপাশি জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি বছরের মার্চে এনসিপির নারী সংগঠন জাতীয় নারী শক্তির আত্মপ্রকাশের সময় তাঁর নেতৃত্বের বিষয়টি সামনে আসে। সংগঠনটির লক্ষ্য ছিল রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব আরও দৃশ্যমান করা। তাঁর সঙ্গে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের কার্যক্রমেও এনসিপির নারী নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ রয়েছে।

মনিরা শারমিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও বিভিন্ন কারণে আলোচনায় এসেছে। চলতি বছরের এপ্রিলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল নির্বাচন কমিশন। সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। পরে তিনি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলেও তা বহাল থাকে। পরবর্তী সময়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

এর আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনীতিতে মনিরা শারমিনের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৫ সালে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশের পর তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। পরে ২০২৬ সালে জাতীয় নারী শক্তি গঠনের পর সংগঠনটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেন।

মনিরা শারমিনের রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে তাঁর পারিবারিক জীবনের এই শোকের সংবাদটি এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও সমবেদনার পরিবেশ তৈরি করেছে। একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য জনজীবনের ব্যস্ততার পাশাপাশি পরিবারের একজন ঘনিষ্ঠ সদস্যকে হারানোর বেদনা গভীর ব্যক্তিগত অনুভূতির বিষয়। বাবাকে হারানোর এই সময়ে তাঁর পাশে থাকার কথা জানিয়েছে দলটি।

সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও পারিবারিক শোক অনেক সময় জনপরিসরে আলাদা মাত্রা তৈরি করে। রাজনৈতিক কর্মসূচি, সাংগঠনিক দায়িত্ব কিংবা জনসম্পৃক্ততার বাইরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই একজন নেতার পরিবারের সদস্যের মৃত্যু শুধু একটি আনুষ্ঠানিক শোকবার্তার বিষয় নয়, বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য গভীর মানসিক বেদনার সময়ও বটে।

এনসিপির শোকবার্তায় মনিরা শারমিন ও তাঁর পরিবারের প্রতি যে সমবেদনা জানানো হয়েছে, তাতে দলীয় সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের পক্ষ থেকে এই কঠিন সময়ে তাঁদের পাশে থাকার বার্তাও উঠে এসেছে। পাশাপাশি মরহুম ডি এম আব্দুল মতিনের জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দলটির বিভিন্ন কর্মসূচিতে মনিরা শারমিনের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। জাতীয় নারী শক্তির নেতৃত্বে থেকেও তিনি সংগঠনটির কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। ফলে তাঁর বাবার মৃত্যুর সংবাদ দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি করেছে।

তবে ডি এম আব্দুল মতিনের ব্যক্তিগত জীবন, পেশা, বয়স ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে দলটির প্রকাশিত শোকবার্তায় বিস্তারিত তথ্য না থাকায় এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি।

এই শোকের সময়ে মনিরা শারমিনের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে এনসিপি মরহুমের জন্য দোয়া চেয়েছে। বাবাকে হারানোর এই অপূরণীয় ক্ষতি যেন পরিবারটি ধৈর্যের সঙ্গে সামলে নিতে পারে—শোকবার্তায় সেই প্রার্থনাই করা হয়েছে। দলটির নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরাও মরহুমের আত্মার শান্তির জন্য দোয়া করার আহ্বান পেয়েছেন।

একজন মানুষের জীবনে বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক সবচেয়ে গভীর ও আবেগঘন সম্পর্কগুলোর একটি। সেই সম্পর্কের বিচ্ছেদ স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের জন্য দীর্ঘস্থায়ী শোকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেও মনিরা শারমিনের জন্য বাবাকে হারানোর এই সময়টি নিঃসন্দেহে ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন এক অধ্যায়। এনসিপির শোকবার্তায়ও সেই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং ধৈর্য কামনা করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত