সর্বশেষ :
সৌদির কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি: শামা ওবায়েদ বাংলাদেশে ৬৩৬ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ করবে জাপান সমাজে অশান্তি সৃষ্টিকারী লংমার্চ জনগণ মেনে নেবে না: এ্যানি সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশে বিলম্ব: হতাশ বগুড়ার ব্যবসায়ীরা রায়গঞ্জে মার্কেটে ভয়াবহ আগুন: পুড়ল ৭৫ লাখ টাকার মালামাল মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির তথ্য তলব: বিস্তারিত জানায়নি রিয়াদ নেত্রকোনার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে যুক্ত শেরপুর: ব্যয় বাড়ছে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা হরমুজ প্রণালিতে এক রাতে ৭টি জাহাজে ইরানের হামলা সরাইল থানায় এমপি রুমিন ফারহানা ও ওসির তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা আওয়ামী লীগের শীর্ষ ৭ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রস্তুত

চাঁদপুরে সহস্রাধিক একর কৃষিজমি মুক্ত করতে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৭ বার
চাঁদপুরে সহস্রাধিক একর কৃষিজমি মুক্ত করতে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর   ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চাঁদপুর সদর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে কৃষিজমি দখল, মাটি কেটে বিক্রি এবং বিশাল ঝিল খনন করে মাছ চাষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে এক বিশাল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মেঘনাবেষ্টিত ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের মুখদ্দি ও তালতাতলী দুর্গম এলাকায় এই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষিজমি গ্রাসকারী অবৈধ ঝিলগুলোর বাঁধ এক্সকাভেটর বা স্কেভেটর দিয়ে কেটে দেওয়া হয়েছে এবং কৃত্রিম জলাশয়ে চাষ করা বিশাল পরিমাণের মাছ মেঘনা নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রায় সহস্রাধিক একর ফসলি জমি অসাধু চরের রূপান্তর ও দখলের হাত থেকে বাঁচাতে প্রশাসনের এই আকস্মিক পদক্ষেপে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় সাধারণ কৃষক ও প্রকৃত জমির মালিকদের মাঝে।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রের নির্ভরযোগ্য তথ্যানুযায়ী, চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের এই দুর্গম অঞ্চলে প্রভাবশালী একটি ভূখোর চক্রান্তকারী চক্র বেশ কিছুদিন ধরে তাণ্ডব চালিয়ে আসছিল। স্থানীয় ভুক্তভোগী অধিবাসীদের অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী শরীয়তপুর জেলা থেকে আসা একদল দখলদার ও চাঁদপুরের স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট প্রায় ৭০ থেকে ১০০টি বিশাল আকার ও আয়তনের কৃত্রিম ঝিল তৈরি করে ফেলেছিল। তারা সরকারি খাসজমির পাশাপাশি সাধারণ কৃষকদের পৈতৃক ও ব্যক্তিমালিকানাধীন সহস্রাধিক একর উর্বর কৃষিজমি জোরপূর্বক দখল করে নেয়। শুধু তা-ই নয়, এসব ফসলি জমির উপরিভাগের মহা মূল্যবান উর্বর মাটি কেটে ট্রলার ও কার্গোযোগে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল প্রভাবশালী চক্রটি।

ভূমিগ্রাসকারীদের এই দৌরাত্ম্য ও নির্মম অত্যাচারের চিত্র ফুটে উঠেছে স্থানীয় অসহায় কৃষকদের বক্তব্যে। মুখদ্দি এলাকার ভুক্তভোগী কৃষক নুরুল ইসলাম রাঢ়ী ক্ষোভ ও আকুতি প্রকাশ করে জানান, দখল হওয়া এসব জমিতে তাঁদের পূর্বপুরুষেরা যুগ যুগ ধরে ধান, পাটসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। কিন্তু শক্তির দাপট ও ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে একটি সশস্ত্র চক্র রাতারাতি তাঁদের জমি দখল করে গর্ত খুঁড়ে মাটি কেটে নিয়ে যায় এবং ঝিল বানিয়ে মাছ চাষ শুরু করে। ইদ্রিস আলী নামের অপর এক ভুক্তভোগী কৃষক অভিযোগ করেন, মুখদ্দি মৌজায় তাঁর পৈতৃক ২২ একর উর্বর জমি রয়েছে। অসাধু দখলদাররা যখন জোরপূর্বক এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটছিল, তখন তাঁরা বাধা দিতে গেলে উল্টো তাঁদের ওপর অমানুষিক হামলা ও মারধর চালানো হয়। প্রাণের ভয়ে অনেকেই এতদিন প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।

অভিযানের সার্বিক নেতৃত্ব প্রদানকারী চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমা গণমাধ্যমকে জানান, সহস্রাধিক একর সরকারি খাস ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ফসলি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম এবং বর্তমানে প্রমত্তা মেঘনা নদী উত্তাল থাকায় সেখানে ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এর আগেও একই এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অন্তত ৪০ বার ছোট-বড় অভিযান চালানো হয়েছিল, কিন্তু দুর্গম ভৌগোলিক সুবিধার সুযোগ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেলেই আসামিরা সটকে পড়ত এবং পরবর্তীতে আবার অবৈধ দখলদারিত্ব শুরু করত। ইউএনও আরও জানান, বেআইনিভাবে মাটি কাটা ও অবৈধ ঝিল খননের ঘটনায় এ পর্যন্ত তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে মোট ৪৮ জনকে সুনির্দিষ্টভাবে আসামি করা হয়েছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তবে রবিবারের অভিযানে অভিযানের খবর পেয়ে মূল অভিযুক্তরা আগেই পালিয়ে যাওয়ায় কাউকেই হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়নি।

উচ্ছেদ অভিযানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। তিনি দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের জানান, ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমি ও সরকারি সম্পত্তি দখল করে এ ধরনের বেআইনি তাণ্ডব কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী কিংবা অপরাধী কাউকেই কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, উদ্ধার করা জমিগুলোর মধ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিগুলো যথাযথ আইনি যাচাই শেষে তাঁদের মূল মালিকদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আর উদ্ধারকৃত সরকারি খাসজমিগুলো সরকারি বিধিমালারা আলোকে এলাকার প্রকৃত ভূমিহীন কৃষক ও পরিবারগুলোর মধ্যে নিয়ম মেনে চিরস্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এছাড়া চরাঞ্চলের পরিবেশ রক্ষা ও বিদ্যুতের অভাব মেটাতে উক্ত পতিত এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের দূরদর্শী সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি।

উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের নিবিড় অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাঁদপুর সদর উপজেলার মেঘনা নদীর অপার বুকে জেগে ওঠা ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম। আর এই ভৌগোলিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গত কিছুদিন ধরে স্থানীয় ও বহিরাগত প্রভাবশালী একটি ভূখোর চক্র চরম বেপরোয়া তাণ্ডব চালিয়ে আসছিল। স্থানীয় ভুক্তভোগী অধিবাসীদের অভিযোগ, প্রতিবেশী শরীয়তপুর জেলা থেকে আসা একদল দুর্ধর্ষ ভূমিদস্যু এবং চাঁদপুরের স্থানীয় কতিপয় ক্ষমতার দাপট দেখানো প্রভাবশালী ব্যক্তির যৌথ সিন্ডিকেট সেখানে প্রায় ৭০ থেকে ১০০টি বিশাল আকৃতির কৃত্রিম ঝিল খনন করে ফেলেছিল। চক্রটি শত শত একর সরকারি খাসজমির পাশাপাশি সাধারণ ও নিরীহ কৃষকদের বংশানুক্রমিক পৈত্রিক উর্বর জমিতে জোরপূর্বক থাবা বসায়। শুধু জমি দখল করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি; বরং ড্রেজার ও মাটি কাটার যন্ত্র বসিয়ে ফসলি জমির উপরিভাগের মহা মূল্যবান ও পুষ্টিকর উর্বর মাটি কেটে বড় বড় ট্রলার ও কার্গোযোগে বিভিন্ন জেলা ও ইটভাটায় কোটি কোটি টাকায় বিক্রি করে বিপুল অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল।

ভূমিগ্রাসীদের এই নির্মম অত্যাচার, নিপীড়ন ও ভয়ভীতির বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে চরাঞ্চলের অসহায় কৃষকদের জবানিতে। মুখদ্দি এলাকার ভুক্তভোগী প্রবীণ কৃষক নুরুল ইসলাম রাঢ়ী বুকফাটা কান্না আর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দখল হয়ে যাওয়া এসব সোনার মতো জমিতে তাঁদের পূর্বপুরুষেরা যুগ যুগ ধরে ধান, পাট, গম, সরিষাসহ নানাবিধ মৌসুমি ফসল ফালিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। কিন্তু শক্তির দাপট, অস্ত্রের ভয় ও ক্ষমতার গরম দেখিয়ে একটি সশস্ত্র চক্র রাতারাতি তাঁদের এক ফসলি ও দোফসলি জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে নেয়। এরপর রাতারাতি মাটি কেটে গভীর গর্ত বানিয়ে বিশাল ঝিল নির্মাণ করে সেখানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাছ চাষ শুরু করে। ইদ্রিস আলী নামের অপর এক ভুক্তভোগী কৃষক চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, মুখদ্দি মৌজায় তাঁর পৈতৃক অন্তত ২২ একর অত্যন্ত উর্বর জমি রয়েছে। অসাধু দখলদার চক্রটি যখন বেআইনিভাবে ট্রাক ও এক্সকাভেটর দিয়ে তাঁদের জমির মাটি কাটছিল, তখন পরিবার নিয়ে তাঁরা এতে বাধা দিতে যান। কিন্তু বাধা দেওয়া মাত্রই সশস্ত্র দখলদারেরা তাঁদের ওপর অমানুষিক হামলা চালায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। স্থানীয় সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যুদের ভয়ে এতদিন কোনো কৃষক মুখ খুলে প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।

অভিযানের সার্বিক তদারকি ও পরিচালনায় থাকা চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমা ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে গণমাধ্যমকে জানান, সহস্রাধিক একর সরকারি খাস ও ব্যক্তিমালিকানাধীন মূল্যবান ফসলি জমিকে অবৈধ দখলের হাত থেকে স্থায়ীভাবে মুক্ত করতেই এই বিশাল অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এলাকাটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এবং প্রমত্তা মেঘনা নদীর উত্তাল পরিস্থিতির কারণে সেখানে ভারী পুলিশ বহর ও উদ্ধারকারী যন্ত্রপাতি নিয়ে পৌঁছানো অত্যন্ত দুরূহ ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তিনি জানান, এর আগেও সংশ্লিষ্ট এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অন্তত ৪০ বার ছোট-বড় ঝটিকা অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় এবং নৌপথে স্পিডবোট বা ট্রলার নিয়ে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অপরাধীরা গা-ঢাকা দিত। পরবর্তীতে প্রশাসন চলে যাওয়ার পর তারা আবারও পুরনো স্টাইলে দখলদারিত্ব ও মাটি কাটার কাজ শুরু করত। ইউএনও আরও নিশ্চিত করেন, অবৈধভাবে মাটি কাটা, কৃষিজমি ধ্বংস করা এবং কৃত্রিম ঝিল তৈরি করে বেআইনিভাবে মাছ চাষের ঘটনায় ইতঃপূর্বে পৃথক তিনটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলাগুলোতে মোট ৪৮ জনকে সুনির্দিষ্ট আসামি করা হয়েছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে গত বৃহস্পতিবারে অভিযানের খবর পেয়ে মূল অভিযুক্তরা চরের গহিন এলাকায় পালিয়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে কাউকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়নি।

উচ্ছেদ অভিযানে সরাসরি উপস্থিত হয়ে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চরাঞ্চলের ধ্বংস করা কৃষিজমি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করা কিংবা সরকারি খাসসম্পত্তি গ্রাস করে বেআইনি কর্মকাণ্ড চালানো কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এই অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকা অপরাধী কিংবা নেপথ্যের যত বড় প্রভাবশালী ব্যক্তিই হোক না কেন, কাউকেই কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি ভুক্তভোগী কৃষকদের আশ্বস্ত করে দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিগুলো তাঁদের প্রকৃত মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আর যেসব খাসজমি উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলো সরকারি বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চরাঞ্চলের প্রকৃত ভূমিহীন কৃষক ও পরিবারগুলোর মাঝে দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত দেওয়ার জোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া চরাঞ্চলের পরিবেশ রক্ষা ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে খালি হওয়া এসব জমিতে ভবিষ্যতে বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ (সোলা প্ল্যান্ট) প্রকল্প স্থাপনের সম্ভাবনার কথাও ব্যক্ত করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী পরিচালিত এই সাঁড়াশি অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম, জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং যুবদলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং চাঁদপুর জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল। দীর্ঘদিনের শোষণের পর প্রশাসনের এমন জিরো টলারেন্স নীতি ও উচ্ছেদ অভিযানে পুরো ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন ও মেঘনার তীরবর্তী এলাকাগুলোতে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রহর গুনছেন।

দিনব্যাপী চলা এই বিশাল উদ্ধার ও উচ্ছেদ অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ। কৃষিজমি রক্ষা ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পুরো ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন জুড়ে এখন ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com