প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে সামরিক হামলার পাশাপাশি নতুন এক কৌশল সামনে এনেছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বাইরে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রাজনৈতিক বক্তব্য, ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও, গান এবং সাংস্কৃতিক প্রচারকে কাজে লাগিয়ে সৌদি নেতৃত্বের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে গোষ্ঠীটি। এ প্রচারযুদ্ধের কেন্দ্রে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের নাম। তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ককে কাজে লাগিয়ে সৌদি রাজপরিবারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে হুতিদের প্রচারব্যবস্থা।
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক বিরোধের প্রেক্ষাপটে এই প্রচারাভিযান নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে পবিত্র মক্কা নগরী, কাবা শরিফ এবং মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে সামনে এনে সৌদি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে প্রচারিত অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং সেগুলোর পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ রয়েছে কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বক্তব্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবি নিজে থেকেই কোনো অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠা করে না।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশ করা জেফরি এপস্টিন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিকে কেন্দ্র করে হুতিদের প্রচারকৌশল আরও জোরালো হয়েছে। এসব নথির প্রসঙ্গ টেনে তাদের প্রচারমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা ব্যক্তিরা পবিত্র কাবার গিলাফ এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপে পাঠিয়েছিলেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৌদি নেতৃত্বের ধর্মীয় ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা চলছে। তবে অভিযোগটির সত্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ও প্রমাণ প্রয়োজন। সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এপস্টিন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন ধনকুবের ও প্রভাবশালী মহলে যোগাযোগ থাকা ব্যক্তি, যিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নিপীড়ন ও যৌন পাচার-সংশ্লিষ্ট অপরাধের ঘটনায় কুখ্যাত হয়ে ওঠেন। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বন্দী অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগের পরিধি এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। ফলে তাঁকে ঘিরে প্রকাশিত নথি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জনপরিসরে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
হুতিরা সেই বিতর্ককে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচারের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের বক্তব্যে এপস্টিনের নাম শুধু একজন অপরাধীর পরিচয় হিসেবে থাকছে না; বরং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিজাত শ্রেণির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতীক হিসেবেও উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সৌদি নেতৃত্বকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই রাজনৈতিক বলয়ের অংশ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চলছে।
হুতিদের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্যেও এই প্রচারের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। হুতি-নিয়ন্ত্রিত কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাত অভিযোগ করেছেন, যাঁরা এপস্টিনকে পবিত্র কাবার গিলাফ দিয়েছিলেন, তাঁরাই মূলত মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করছেন। এই বক্তব্যে ধর্মীয় প্রতীককে রাজনৈতিক অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তবে এপস্টিনের সঙ্গে কাবার গিলাফের কথিত সম্পর্ক এবং মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগের মধ্যে যে সংযোগ টানা হয়েছে, তার পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ ছাড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
এর আগে গত মাসে সৌদি আরব অভিযোগ করেছিল, হুতিরা পবিত্র মক্কা নগরীকে লক্ষ্য করে ড্রোন ছুড়েছে। সৌদি পক্ষের দাবি ছিল, এ ধরনের হামলার উদ্দেশ্য মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা এবং তাদের উসকে দেওয়া। হুতিরা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফলে দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পাশাপাশি ধর্মীয় আবেগকে কেন্দ্র করে জনমত প্রভাবিত করার প্রবণতাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
হুতিদের প্রচার কেবল রাজনৈতিক নেতাদের বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সমর্থক ও প্রচারকদের বিভিন্ন পোস্ট, ভিডিও, গান এবং ব্যঙ্গাত্মক পরিবেশনার মাধ্যমে একই ধরনের বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এক্সে দুই লাখ ৭০ হাজারের বেশি অনুসারী থাকা একজন ইয়েমেনি কৌতুক অভিনেতা এপস্টিন-সংশ্লিষ্ট বিতর্ক নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ইয়েমেনের একজন ঐতিহ্যবাহী সংগীতশিল্পীও এ বিষয়ে গান তৈরি করেছেন। এসব উপস্থাপনার মাধ্যমে জটিল রাজনৈতিক অভিযোগকে সহজ, আবেগনির্ভর এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।
হুতিদের নেতা আবদুল-মালিক আল-হুতিও বিভিন্ন রাজনৈতিক ভাষণে এপস্টিনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। চলতি মাসে দেওয়া এক ভাষণে, যেখানে তিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বে চালানো হামলার প্রশংসা করেন, সেখানেও এপস্টিনের নাম উল্লেখ করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের বার্ষিকী উপলক্ষে সেপ্টেম্বরের ভাষণেও তিনি বিষয়টি সামনে আনেন। গত ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এপস্টিন-সংশ্লিষ্ট নথিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে এসব নথিকে এমন একটি কথিত ব্যবস্থার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়, যা তাঁর ভাষায় রাজনৈতিক নেতা ও অভিজাতদের তৈরি করে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্যের লক্ষ্য শুধু সৌদি আরবকে সমালোচনা করা নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের আঞ্চলিক অংশীদারদের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠা করা। হুতিরা নিজেদের সংঘাতকে কেবল ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই হিসেবে উপস্থাপন করতে চায় না। তারা একে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অংশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এই বয়ানে সৌদি আরবকে পশ্চিমা শক্তির ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে দেখানো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাশার মতে, হুতিদের প্রচারব্যবস্থা এখন টেলিভিশন, রেডিও, ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে একটি বিস্তৃত ও সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে তুলেছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে মতাদর্শিক প্রচারক ও সমর্থকদের একটি নেটওয়ার্ক। তাঁদের সবাই যে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কাজ করেন, তা নয়; তবে বিভিন্ন প্রচারসামগ্রী তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা রয়েছে।
আল-বাশার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এপস্টিনকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি কিছু প্রচারে ইহুদি ও জায়নবাদীদের বিশ্ব পরিচালনার কথিত ষড়যন্ত্রতত্ত্বও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের বক্তব্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। নির্দিষ্ট ব্যক্তির অপরাধ বা কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা এক বিষয়; আর তার ভিত্তিতে একটি ধর্মীয় বা জাতিগত জনগোষ্ঠীকে সম্মিলিতভাবে দায়ী করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। প্রমাণহীন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং নিরীহ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ উসকে দিতে পারে।
লন্ডনভিত্তিক গবেষক মোস্তফা আয়াদের মতে, হুতিরা সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্র ও এপস্টিনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী শ্রেণির বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে উপস্থাপন করছে। সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও রিয়াদকে যুক্তরাষ্ট্রের একই রাজনৈতিক শিবিরের অংশ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা এই প্রচারের অন্যতম উদ্দেশ্য। এভাবে আঞ্চলিক সামরিক বিরোধকে আন্তর্জাতিক ক্ষমতার রাজনীতি এবং নৈতিকতার প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাও এই প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। সৌদি আরবের আঞ্চলিক নীতি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ইয়েমেন যুদ্ধে দেশটির ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। হুতিদের প্রচারমাধ্যম এসব বিতর্কের সঙ্গে এপস্টিন-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ যুক্ত করে সৌদি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
ইয়েমেনি কৌতুক অভিনেতা মোস্তফা আল-মুমর সৌদি আরবের কর্মকাণ্ড এবং যুবরাজের সমালোচনা করে গান, মন্তব্যধর্মী ভিডিও ও ছোট নাটক তৈরি করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যঙ্গ ও বিনোদনের মাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য উপস্থাপন করলে তা অনেক সময় প্রচলিত রাজনৈতিক ভাষণের তুলনায় দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছায়। দর্শক ও শ্রোতারা বিনোদনের অংশ হিসেবে এসব উপাদান গ্রহণ করলেও এর মধ্যে থাকা রাজনৈতিক বার্তা তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো বক্তব্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেই সেটি জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
এই প্রচারযুদ্ধের পেছনে রয়েছে ইয়েমেনের দীর্ঘ ও বিধ্বংসী সংঘাতের ইতিহাস। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটির রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান অভিযান শুরু করে। পরবর্তী সময়ে সামরিক সংঘাত, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং মানবিক সহায়তার ঘাটতি ইয়েমেনকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে ঠেলে দেয়।
যুদ্ধের প্রভাবে বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে, অসংখ্য মানুষ জীবিকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং স্বাস্থ্য ও খাদ্যব্যবস্থা মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে। সহিংসতার পাশাপাশি ক্ষুধা, রোগ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবও মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে হুতিদের হামলা, সংঘাত অব্যাহত রাখা এবং অন্যান্য পক্ষের সামরিক কর্মকাণ্ডও দেশটির বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্টে ইয়েমেনে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর প্রায় দুই লাখ ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিকতম সংঘাতে প্রায় এক হাজার ৬০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। এসব পরিসংখ্যানের নির্দিষ্ট সময়সীমা ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তবে সংখ্যাগুলো যে ব্যাপক মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দেয়, তা স্পষ্ট। প্রতিটি বাস্তুচ্যুত পরিবারের পেছনে রয়েছে নিরাপত্তাহীনতা, হারানো জীবিকা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার অনিশ্চয়তা।
অন্যদিকে, কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবের বিমান চলাচল ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে হুতিদের বিরুদ্ধে। এসব হামলায় অন্তত ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্বালানি স্থাপনা ও বিমান চলাচলব্যবস্থার ওপর হামলা শুধু সামরিক বা অর্থনৈতিক ক্ষতি তৈরি করে না; এর প্রভাব সাধারণ মানুষের যাতায়াত, কর্মসংস্থান, সরবরাহব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন জীবনেও পড়তে পারে।
সামগ্রিকভাবে, সৌদি আরব ও হুতিদের সংঘাত এখন সামরিক আক্রমণের পাশাপাশি তথ্য, প্রচার এবং জনমত প্রভাবিত করার লড়াইয়েও বিস্তৃত হচ্ছে। এপস্টিন-সংশ্লিষ্ট নথি ও বিতর্ককে কেন্দ্র করে হুতিদের প্রচারাভিযান দেখাচ্ছে, আধুনিক সংঘাতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক উপস্থাপন কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে প্রচার, অভিযোগ এবং যাচাই করা তথ্যের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে ধর্মীয় অনুভূতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির মতো সংবেদনশীল বিষয়ে প্রমাণহীন দাবি ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধের মধ্যে ইয়েমেন ও সৌদি আরবের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বেসামরিক প্রাণহানি বন্ধ করাই হওয়া উচিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত