প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে যেমন সহজ করছে, তেমনি এর অপব্যবহার তৈরি করছে নতুন ধরনের সাইবার অপরাধের ঝুঁকি। কারও একটি ছবি ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে আপত্তিকর ভুয়া ভিডিও, পরিচিত মানুষের কণ্ঠস্বর নকল করে চাওয়া হচ্ছে টাকা, আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে প্রতারকচক্র। এসব অপরাধের শিকার হয়ে অনেকে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিক অস্বস্তি, মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও পড়ছেন। বিশেষ করে ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
ধরা যাক, সকালে ঘুম থেকে উঠে কেউ নিজের মোবাইল ফোনে দেখলেন, তাঁর নামে একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। পরিচিতজনেরা ফোন করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য দেখা যাচ্ছে, আর অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে বার্তা দিয়ে বলা হচ্ছে—নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা না দিলে ভিডিওটি আরও বেশি মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। অথচ ভিডিওতে দেখানো ঘটনার সঙ্গে ওই ব্যক্তির বাস্তব জীবনের কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁর একটি সাধারণ ছবি ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে সম্পূর্ণ ভুয়া দৃশ্য। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু অপরাধীদের চাপে পড়ে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদনে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ছবি ও ভিডিও এবং সেগুলো ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলের কৌশল সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে এখন এমন কনটেন্ট তৈরির ঝুঁকি আগের তুলনায় বেড়েছে। সব ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ প্রযুক্তিবিদের প্রয়োজন হয় না; অনলাইনে সহজলভ্য বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করেও কারও মুখ অন্য দৃশ্যে বসিয়ে দেওয়া কিংবা কণ্ঠস্বরের অনুকরণ তৈরি করা সম্ভব। তবে এ ধরনের কনটেন্ট বাস্তবসম্মত দেখালেই তা সত্য—এমন ধারণা করা ঠিক নয়।
এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিওর একটি পরিচিত ধরন হলো ডিপফেক। এ প্রযুক্তিতে কোনো ব্যক্তির মুখ, অভিব্যক্তি কিংবা কণ্ঠস্বরের অনুকরণ করে এমন ভিডিও তৈরি করা যায়, যা প্রথম দেখায় বাস্তব বলে মনে হতে পারে। কারও সাধারণ ছবি সংগ্রহ করে সেটিকে আপত্তিকর দৃশ্যের সঙ্গে যুক্ত করা, ভিডিওতে মুখের নড়াচড়া পরিবর্তন করা কিংবা কথিত বক্তব্য তৈরি করার মতো কাজও প্রতারকেরা করতে পারে। এর উদ্দেশ্য কখনো কাউকে হেয় করা, কখনো সামাজিকভাবে বিব্রত করা, আবার কখনো সরাসরি অর্থ আদায় করা।
ব্ল্যাকমেইলের ক্ষেত্রে অপরাধীরা সাধারণত ভুক্তভোগীর ভয়, সম্মানবোধ ও সামাজিক অবস্থানকে কাজে লাগায়। তারা দাবি করতে পারে, টাকা না দিলে ভিডিওটি পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, বন্ধু কিংবা পরিচিতজনদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কখনো ভিডিওটি ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করে দ্রুত টাকা পাঠানোর চাপ সৃষ্টি করা হয়। আবার কখনো প্রথমে অল্প টাকা চাওয়া হলেও পরে নতুন অজুহাতে আরও অর্থ দাবি করা হয়। ভুক্তভোগী একবার টাকা দিলে অপরাধীরা তাঁর দুর্বলতা বুঝে বারবার চাপ প্রয়োগ করতে পারে। তাই টাকা দিলেই যে ভিডিও মুছে যাবে বা হুমকি বন্ধ হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এ ধরনের ঘটনায় প্রথমেই প্রয়োজন আতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ করে পরিস্থিতি সামলানো। ভুক্তভোগীর মনে রাখা জরুরি, এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করে না। অপরাধীরা প্রায়ই সামাজিক লজ্জা ও সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে নিজেদের দাবি আদায় করতে চায়। তাই নিজেকে দোষারোপ না করে পরিস্থিতিকে সাইবার অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা এবং বিশ্বস্ত কারও সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করলে মানসিক চাপ সামলানো এবং পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা সহজ হতে পারে।
ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে হুমকিদাতার কাছে টাকা পাঠানোর আগে থামতে হবে। একই সঙ্গে রাগ বা আতঙ্কের বশে কথোপকথন মুছে ফেলা কিংবা অপরাধীকে সতর্ক করে প্রমাণ নষ্ট করার সুযোগ দেওয়াও উচিত নয়। হুমকির বার্তা, ফোন নম্বর, ব্যবহারকারীর নাম, অ্যাকাউন্টের পরিচিতি, অর্থ চাওয়ার বিবরণ, লেনদেনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট পোস্টের স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। সম্ভব হলে পোস্ট বা বার্তার লিংক এবং ঘটনার তারিখ ও সময়ও লিখে রাখতে হবে। এসব তথ্য অভিযোগ জানানো ও তদন্তের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। তবে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য নিজেকে আরও ঝুঁকিতে ফেলা বা অপরাধীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ বজায় রাখা উচিত নয়।
যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভুয়া ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট এবং অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো জরুরি। ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিওর অপব্যবহার, ছদ্মবেশ ধারণ এবং হয়রানির অভিযোগ জানানোর জন্য অধিকাংশ বড় প্ল্যাটফর্মেই ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত ব্যক্তির সহায়তায় অভিযোগ করা যেতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ঘটনার তথ্য জানানো উচিত। পরিস্থিতি গুরুতর হলে, বিশেষ করে শারীরিক ক্ষতি বা সরাসরি হুমকির আশঙ্কা থাকলে, দ্রুত সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন।
ভুয়া ভিডিওর পাশাপাশি কণ্ঠস্বর নকল করে প্রতারণাও বাড়তি সতর্কতার দাবি রাখে। পরিচিত কোনো ব্যক্তি, আত্মীয় কিংবা সহকর্মীর কণ্ঠে ফোন করে জরুরি প্রয়োজনে টাকা চাওয়া হতে পারে। ফোনে পরিচিত কণ্ঠ শুনে অনেকেই ধরে নেন, অপর প্রান্তে সত্যিই সেই ব্যক্তি রয়েছেন। কিন্তু এআইয়ের সাহায্যে কণ্ঠস্বরের অনুকরণ তৈরি করা সম্ভব হওয়ায় শুধু কণ্ঠ শুনে পরিচয় নিশ্চিত করা নিরাপদ নয়। এমন ফোন এলে অর্থ পাঠানোর আগে পরিচিত নম্বরে নিজে ফোন করে যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আগে থেকে একটি গোপন যাচাই-সংকেত ঠিক করে রাখা যেতে পারে, যাতে জরুরি অর্থ চাওয়ার ঘটনায় পরিচয় নিশ্চিত করা সহজ হয়।
একইভাবে পরিচিত কারও নামে নতুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট খুলে অর্থ চাওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে। কেউ অসুস্থ, বিপদে পড়েছেন কিংবা জরুরি কাজে আটকে আছেন—এমন কথা বলে দ্রুত টাকা পাঠানোর অনুরোধ করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বার্তার ভাষা, প্রোফাইলের ছবি কিংবা পরিচিত ব্যক্তির নাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। সরাসরি ফোন করে বা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার পরই আর্থিক লেনদেন করা উচিত। অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা, সন্দেহজনক ফাইল ডাউনলোড করা কিংবা যাচাই ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়াও এড়িয়ে চলতে হবে।
ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা প্রতিটি ছবি ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যবহৃত হতে পারে, তা সব সময় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা সেটিংস পর্যালোচনা করা, অপরিচিত ব্যক্তির কাছে ব্যক্তিগত ছবি না পাঠানো এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ না করা ঝুঁকি কমাতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তির ছবি অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে বলেই তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধের দায় বর্তায় না। ছবি অপব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করার দায় অপরাধীর, ভুক্তভোগীর নয়।
বাংলাদেশে সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২৫ ধারায় ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি, প্রতিশোধমূলক পর্নোগ্রাফি এবং নির্দিষ্ট ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরি, প্রকাশ, প্রচার কিংবা এ ধরনের কাজের হুমকির বিষয়ে শাস্তির বিধানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধারার উপধারা (২) অনুযায়ী অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। ভুক্তভোগী নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধানের কথাও উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া আইনের ২২ ধারায় সাইবার স্পেসে প্রতারণার জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের কথা বলা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট ঘটনায় কোন ধারা প্রযোজ্য হবে এবং কী শাস্তি হতে পারে, তা অপরাধের ধরন, প্রমাণ ও প্রযোজ্য আইনি বিধানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
এ ধরনের অপরাধের আরেকটি বিপজ্জনক দিক হলো ভুক্তভোগীর মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক জীবনে এর প্রভাব। ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কেউ কর্মস্থলে যেতে অস্বস্তি বোধ করতে পারেন, পড়াশোনায় মনোযোগ হারাতে পারেন কিংবা পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারেন। বিশেষ করে নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সামাজিক চাপ ও অপমানের ভয় আরও তীব্র হতে পারে। তাই ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করা, ভিডিওটি নিয়ে কৌতূহলবশত আলোচনা করা কিংবা যাচাই না করে অন্যদের কাছে পাঠানো থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো কনটেন্ট ভুয়া বলে সন্দেহ হলে সেটি পুনরায় শেয়ার না করাই দায়িত্বশীল আচরণ।
গণমাধ্যম, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোরও এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব রয়েছে। এআই প্রযুক্তি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা, ডিজিটাল পরিচয় যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং অনলাইন হয়রানির অভিযোগ জানানোর সহজ পথ সম্পর্কে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের তদন্তে দক্ষতা বাড়ানো এবং ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধের শিকার ব্যক্তি যেন সামাজিক লজ্জার ভয়ে নীরব না থাকেন, সে জন্য সহানুভূতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে, কিন্তু এর অপব্যবহার ঠেকাতে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি প্রয়োজন সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ। এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও বা নকল কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে কেউ ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে আতঙ্কিত হয়ে অর্থ দেওয়া নয়, বরং প্রমাণ সংরক্ষণ, পরিচয় ও তথ্য যাচাই, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অভিযোগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মনে রাখতে হবে, ভুয়া ভিডিওর শিকার হওয়া কোনো অপরাধ নয়; অপরাধ হলো সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাউকে ভয় দেখানো, অপমান করা কিংবা অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা। সচেতনতা, দ্রুত পদক্ষেপ এবং ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাই পারে এ ধরনের ডিজিটাল অপরাধের ক্ষতি কমাতে।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত